ঢাকা      রবিবার ১৫, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৩১, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

একজন যুদ্ধাহত চিকিৎসকের বিশালতা

এদেশের অর্থোপেডিক চিকিৎসার শুরু যে ক’জন মানুষের হাতে, তাঁদের একজন ডা. এম আমজাদ হোসেন। নিজে একজন আহত মুক্তিযোদ্ধা। পরবর্তী জীবন যিনি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, একইসঙ্গে অর্থোপেডিক সার্জারির ক্ষেত্রে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যে ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের চিকিৎসকরাও সফল হয়নি। একইসঙ্গে শিক্ষা বিস্তারে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী এই চিকিৎসককে নিয়ে এবারের আয়োজন—

ডা. এম. আমজাদ হোসেনের জন্ম ১৯৫৩ সালে দিনাজপুর জেলার সুখদেবপুর গ্রামে। পিতা আব্দুল বাকী মণ্ডল, মা আমেনা খাতুন। পড়াশোনার হাতেখড়ি বাড়ি থেকে প্রায় দু’ মাইল দূরে প্রাইমারি স্কুলে, যেখানে ক্লাস টু পর্যন্ত পড়ে ভর্তি হন চিরিরবন্দর প্রাইমারি স্কুলে। চিরিরবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে এসএসসি, ১৯৭০ সালে দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। এখান থেকে এমবিবিএস পাস করেন ১৯৭৮ সালে। তাঁর কৈশোরের সময়টা আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনের দাবিতে একটু একটু করে উন্মাতাল হয়ে উঠছে।

একইসঙ্গে একজন মুক্তিযোদ্ধার মনে কীভাবে দেশমাতৃকার বোধ দানা বাধছে, তা তাঁর স্কুল-কলেজ জীবনের স্মৃতি থেকে টের পাওয়া যাবে। তাঁর মুখেই শোনা যাক তাঁর স্কুলজীবনের কথা—এসএসসি পাসের পর দিনাজপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হই। কলেজে পড়ার সময় দেশের সামগ্রিক অবস্থা বদলাতে থাকে। এর মধ্যে একটি ঘটনা ঘটে, সেটা ১৯৬৫ সালের দিকে। একদিন হঠাৎ আমাদেরকে স্কুল থেকে ট্রেনে করে নিয়ে যাওয়া হলো দিনাজপুর শহরে। সেখানে আমাদের দিয়ে মিছিল করানো হলো। ‘লড় কে লেঙ্গে কাশ্মির’ বলে আমরা সবাই স্লোগান দিলাম, এর মানে হলো ‘আমরা কাশ্মির জয় করব’। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে আমরাও সৈনিক হিসেবে তত্পর, এই ব্যাপারটা আমাদের বুঝার কোনো উপায় ছিল না। তবে এতটুকু মনে আছে যে আমরা শহর প্রদক্ষিণ শেষে ট্রেনে করে আমাদেরকে স্কুলে ফিরিয়ে আনা হলো। এভাবেই স্কুলজীবন কলেজজীবন পার করছি আর তখন বাংলাদেশে অনেক কিছু ঘটে চলেছে।

সৌজন্যে : ইত্তেফাক 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 




জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর