ডা. তারাকী হাসান মেহেদী

ডা. তারাকী হাসান মেহেদী

মেডিকেল অফিসার, বিসিএস (স্বাস্থ্য)।


০২ মার্চ, ২০১৭ ১১:২৩ এএম

দুই মাস ধরে কন্যাশিশুটি অসুস্থ, অথচ কোন চিকিৎসাই করায় নি!

দুই মাস ধরে কন্যাশিশুটি অসুস্থ, অথচ কোন চিকিৎসাই করায় নি!

মেয়ে শিশুর জীবনের মুল্য এখনো তুচ্ছ এদেশে!!!

চারমাস বয়সী বাচ্চার দু'মাস বয়স হতেই নিউমোনিয়াজনিত সমস্যা লেগেই ছিল। কিন্তু এরপরেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তো দূরে থাক, ডাক্তার পর্যন্ত দেখায় নি।

দুপুরের দিকে যখন খুবই খারাপ অবস্থা, তখন হাসপাতালের বহিঃবিভাগে নিয়ে আসল। অবস্থা দেখেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হল তাৎক্ষনিকভাবে অক্সিজেন, স্টেরয়েড ইঞ্জেকশন আর আনুষঙ্গিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য।

এর সাথে এটাও জানানো হল, উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া মেডিকেলে নিয়ে যেতে হবে। প্রাথমিকভাবে চেষ্টায় বাবুটা একটু স্থিতিশীল হল যখন, বাবুর দাদী আর মেডিকেলে নিয়ে যাবে না।

আমরা জানালাম, যেকোনো মুহুর্তে আবার খারাপ হয়ে যেতে পারে। আর সব ম্যানেজের ব্যবস্থা আমাদের নেই। এখনই মেডিকেলে নিয়ে গেলে বাঁচানো সম্ভব হবে বাবুকে।

কিন্তু বাবুর দাদী আর যাবে না। অগত্য রিস্ক বন্ড সাইন নিয়ে ভর্তি রেখে দিলাম। দাদীকে পড়ে শুনালাম, উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে না নিয়ে যাওয়ার কারণে বাচ্চা মারা যেতে পারে এটা জেনেও নিজ দায়ীত্বে এখানে ভর্তি রাখছি...

ঘন্টা দুয়েক পর বাবুর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গেল... এরপর শুরু হল তাদের কান্নাকাটি... আমার বাচ্চাকে বাঁচাও!!!

অথচ যখন সময় ছিল, তখন নিজেই মৃত্যুর দায়িত্ব নিয়ে এখানে ভর্তি রাখল!!

বাবুর দাদাকে ফোন দিলে তিনি জানালেন, কাছেই অন্য এক ডাক্তারকে দেখাবেন বাবুকে!!! মেডিকেলে নিয়ে যাবেন না!!

অথচ, আশেপাশে আমাদের হাসপাতাল ছাড়া আর কোথাও এমবিবিএস ডাক্তার নেই তখন।

আমি সবসময় একটা নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে থাকি... আর সহ্যের এই মাত্রাটা যথেষ্ট বড়... অনেকে এটাকে আমার দুর্বলতা ভাবে.. কিন্তু এই মাত্রা কেউ যখন অতিক্রম করে, তখন আর ছাড় দিতে রাজি হই না, তিনি যেই হোন না কেন...

শেষে অবস্থা যখন খুবই খারাপ, মেজাজ গেল চরম বিগড়ে। নিজেরাই টাকা সংগ্রহ করে মেডিকেলে পাঠানোর ব্যবস্থা শুরু করলাম বাবুর মাকে রাজি করিয়ে।

অন্য রুগীর এক মহিলা এটেনডেন্ট আপা বাবুকে কোলে নিল, নিজে কাপড় যোগাড় করে পেঁচিয়ে দিল, আরেকজনকে সিএনজি আনতে পাঠানো হল (হাসপাতালের এম্বুলেন্স অন্য আরেক রোগীকে নিয়ে বগুড়া চলে গিয়েছিল)।

এরপর তড়িঘড়ি করে তাদের সিএনজিতে যখন উঠানো হল, কোথেকে তাদের এক আত্মিয় এসে বলল একটু অপেক্ষা করতে। তাদের কোন আত্মিয় যেন আসছে... অথচ এই তিন ঘন্টায় কারো খোজই ছিল না।

কিন্তু সিএনজিওয়ালাকে ভাড়া দিয়ে বলা হল, কোন কথা না শুনে মেডিকেলে চলে যাবেন।

আর বাবুর দাদীকে স্পষ্ট করে বললাম, আপনি হলেন আমার দেখা সবচেয়ে জঘন্য ও বাজে মানুষ। তিনি কাঁদতে কাঁদতে সবার সামনে ভুল স্বীকারও করে নিলেন।

এরপরেও তারা রাস্তায় তাদের ঐ আত্মিয়ের জন্য দাঁড়িয়েছিল... আর মেডিকেলে যাওয়ার আগেই বাবুটা মারা যায়!! তাদেরই গ্রামের একজনের কাছে শুনলাম খবরটা...

বাবুটা ছিল মায়ের দ্বিতীয় বাচ্চা। এর আগে একটা ছেলে বাচ্চা আছে। এই বাবুটা ছিল মেয়ে বাচ্চা, চার মাস বয়েস। দুই মাস হল অসুস্থ ছিল অথচ কোন চিকিৎসাই করায় নি!!

মেয়ে বাবু হল আল্লাহর রহমত... নবী (সা) বলেন, ‘যাকে কন্যা দিয়ে কোনো কিছুর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় আর সে তাদের প্রতি যথাযথ আচরণ করে, তবে তা তার জন্য আগুন থেকে রক্ষাকারী হবে।’ (মুসলিম)

আরেক হাদিসে নবী (সা) বলেন, ‘যার তিনটি কন্যাসন্তান থাকবে এবং সে তাদের কষ্ট-যাতনায় ধৈর্য ধরবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। একব্যক্তি প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসূল, যদি দু’জন হয়? উত্তরে তিনি বললেন, দু’জন হলেও। লোকটি আবার প্রশ্ন করলো, যদি একজন হয় হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, একজন হলেও।’ (বাইহাকী)

#মুরুব্বীগণ অবশ্যই সম্মানীয়.. তাদের সব পরামর্শ, মত ও সিদ্ধান্তই শোনা উচিত, শুধুমাত্র চিকিৎসা বিষয়ক সিদ্ধান্ত ছাড়া... এই বিষয়ে ডাক্তারের সিদ্ধান্ত বা মতকেই শুধু মানা উচিত...

 

পরিবহন বন্ধ নিয়ে ধোঁয়াশা

ঈদে গণপরিবহন নয়, পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকবে

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্যের ডিজি

‘আগের স্বাস্থ্য সচিবের মৌখিক নির্দেশেই রিজেন্টের সাথে চুক্তি’

পরিবহন বন্ধ নিয়ে ধোঁয়াশা

ঈদে গণপরিবহন নয়, পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকবে

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্যের ডিজি

‘আগের স্বাস্থ্য সচিবের মৌখিক নির্দেশেই রিজেন্টের সাথে চুক্তি’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না