ঢাকা      সোমবার ২৩, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৭, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ নাম : ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

যোগাযোগঃ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ
ঢাকা- ১০০০, বাংলাদেশ।
ফোনঃ- ০২ ৫৫১৬৫০০৬
email: [email protected]
[email protected]
ওয়েব সাইটঃ www.dmc.gov.bd
প্রতিষ্ঠার বছর : ১০ জুলাই ১৯৪৬
প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষঃ ডাঃ মেজর ডব্লিউ জে ভারজিন
বর্তমান অধ্যক্ষঃ অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ
পোস্ট গ্রাজুয়েশন সুযোগ-সুবিধাঃ বিভিন্ন বিষয়ের উপর FCPS, MS/MD, Mphil, Diploma করার সুযোগ রয়েছে৷
মেডিকেল কলেজটিতে বর্তমানে ৭৫তম (K-75) ব্যাচ ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত রয়েছে৷
প্রতিবছর ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির আসন সংখ্যা: ১৯৭ জন।
বিদেশী শিক্ষার্থীরা ভর্তির ব্যবস্থাঃ স্কলারশিপ নিয়ে বাংলাদেশে আসা বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তির সুযোগ আছে। (বর্তমানে প্রায় ১০৭৮ জন এমবিবিএস শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮ জন বিদেশী)

ছাত্রাবাস-ছাত্রীনিবাস/ আবাসন সুবিধাঃ

তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রমেশ চন্দ্র মজুমদার ছাত্রদের আবাসনের ব্যবস্থা করেন। এ সময় মুসলমান ছাত্ররা সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে, হিন্দু ছাত্ররা ঢাকা হলে (বর্তমানে জগন্নাথ হল), খ্রিস্টান ছাত্ররা সদরঘাটের ব্যাপ্টিস্ট মিশনে থাকত। আর ছাত্রীরা থাকত নার্সিং হোস্টেলে। ১৯৪৭ সালে বর্তমান নার্সিং ইনস্টিটিউটের স্থানে নিজস্ব ছাত্রী হোস্টেল স্থাপিত হয়। । প্রথমে ১১টি, পরে আরো দুই দফায় ৬টি ও ৩টি মোট ২০টি ব্যারাক নির্মিত হয়।

বর্তমানে যে ছাত্রী হলটি ‘ডাঃ মিলন হল’ নামে পরিচিত, তা ১৯৯২ সালের পূর্বে ডাঃ আলীম চৌধুরী হলেরই অংশ ছিল। এ হলে রয়েছে ১১৬টি রুম। ছাত্রদের বকশীবাজার মোড়ের বর্তমান হলটি নির্মিত হয় ১৯৫০ থেকে ১৯৫৫ সালে। ১৯৭২ সালে যার নামকরণ করা হয় ‘শহীদ ডাঃ ফজলে রাব্বি’র নামে। এই হল এ একটি মূল ভবন ও ৩ টি ব্লকসহ মোট রুম এর সংখ্যা ২২৫ যা MBBS প্রথম বর্ষ থেকে পঞ্চম বর্ষ পর্যন্ত ছাত্রদের জন্য সংরক্ষিত।

১৯৭৪-৭৫ সালে ইন্টার্নি ডাক্তারদের জন্য শহীদ ডাঃ ফজলে রাব্বি হলের পাশে পৃথক হোস্টেল প্রতিষ্ঠিত হয়, পরবর্তীতে এর নামকরণ করা হয় ‘শহীদ ডাঃ মিলন ইন্টার্নি হোস্টেল’। এর পূর্বে ইন্টার্নি ডাক্তাররা চাঁনখারপুলের কাছে ওল্ড পিজি হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা ছিলো৷

সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রাজধানী ঢাকার বকশীবাজারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত৷ ১৯৪৬ সালের ১০ই জুলাই যাত্রা শুরু করার মধ্য দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে৷ ১৯৩৯ সালে ঢাকায় একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে একটি প্রস্তাবনা পেশ করা হয়৷ কিন্তু ২য় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তা স্থগিত রাখা হয়৷ যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ১৯৪৫ সালে একটি কমিটি গঠন করা হয়, যার অনুমোদনক্রমে ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজের গৌরবোজ্জ্বল পথচলা শুরু হয়৷ কমিটির প্রধান মেজর ডব্লিউ জে ভারজিন প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷

নতুন স্থাপিত মেডিকেল কলেজটি বর্তমান হাসপাতাল ভবনে মেডিসিন, সার্জারী ও গাইনীসহ মোট চারটি বিভাগ নিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে এমবিবিএস ও পোস্ট গ্রেজুয়েশনে মোট ৪২ টি বিভাগ রয়েছে৷ পোস্ট গ্রেজুয়েশনে ৪২ টি বিষয়ে MD/MS, M.Phil, Diploma কোর্স চালু রয়েছে যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হয়৷ এছাড়া বিভিন্ন সংস্থার সাথে যৌথ উদ্যোগে কিছু সংক্ষিপ্ত কোর্সও চালু রয়েছে৷

ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০০০০ চিকিৎসক তৈরি করেছে যারা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন৷ ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডরমেটরিটি (যা ব্যারাক নামে পরিচিত) ১৯৪৮-১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে৷ মেডিকেল কলেজের অনেক শিক্ষার্থী ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগ করেন৷ ভাষা আন্দোলনের জন্য স্থাপিত শহীদ মিনার কলেজের অভ্যন্তরেই অবস্থিত ছিলো যা পরবর্তীতে পৃথক করা হয়৷ ১৯৭১ এই মেডিকেল কলেজের অনেক শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহন করেন৷

একটিমাত্র ভবন নিয়ে মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ২৫ একর জমিতে কলেজ ভবন, একটি অডিটরিয়াম, পুরুষ ও মহিলা ডরমেটরি, একটি নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার, বার্ণ ইউনিট ও বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন সেন্টার রয়েছে৷ এখানে ৩৪টি বিভাগ, ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৩০০ টি বেড রয়েছে৷ দৈনিক প্রায় ৩৫০০ রোগীকে প্রায় আড়াই শতাধিক চিকিৎসক, দেড় শতাধিক ইন্টার্ণ চিকিৎসক, সাড়ে পাঁচ শতাধিক নার্স ও ১১০০ স্টাফ মিলে ২৪ ঘন্টা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন৷

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


রিভিউ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশ হলো ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদারের ‘স্মৃতির পাতা থেকে’

প্রকাশ হলো ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদারের ‘স্মৃতির পাতা থেকে’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা.…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস