ডা. আহমাদ হাবিবুর রহিম

ডা. আহমাদ হাবিবুর রহিম

লেখক, কলামিস্ট

বিসিএস (স্বাস্থ্য), রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ।


২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ১২:৪৪ পিএম
ছোটগল্প

দ্বিধা

দ্বিধা

ওবায়েদ মাত্র ঘুম থেকে উঠলো। সাথে সাথেই চোখটা চল গেলো দেয়াল ঘড়ির দিকে। বাজে পাঁচটা দশ। রুমে কেমন একটা আলো আঁধারী পরিবেশ। এখন কি সকাল না সন্ধ্যা ঠাহর করতে পারে না সে। ঘুমের ঘোর লেগে আছে চোখে। মিনিট খানেক পর ঘোর কিছুটা কাটলো। মনে পড়লো পরীক্ষা দিয়ে এসে না খেয়েই ঘুমিয়ে গিয়েছিলো সে।

পরীক্ষার সময় মানসিক এতো চাপ থাকে যে ধকল কাটতেই কয়েকদিন লেগে যায়। আজকে অবশ্য পরীক্ষা শেষ হলো ওর। সামনের কয়েকমাস একটু চাপমুক্ত থাকা যাবে। পরক্ষনেই মনে পড়লো টিউশনিতে যাওয়ার কথা। হাত মুখ ধুয়ে আসর নামাজ পড়লো ওবায়েদ। এবার ফোনটা হাতে নিয়ে অবাক হলো সে। তেইশটা মিসকল! তা-ও মাত্র দু’ঘন্টায়! কেইবা দিলো এতোগুলো কল?

পাঁচটা কল দিয়েছে আম্মা। সাড়ে তিনটার দিকে। আম্মার একটা রুটিন কাজ হলো প্রতিদিন তার ছেলেকে গুনে গুনে তিনবার কল দেবেন। সকালে, বিকালে আর রাতে আরেকবার। কল না দিলে নাকি তার দুশ্চিন্তা হতে থাকে। দেশের অবস্থা ভালো না। কখন কী হয়ে যায়! তাকে কে বোঝাবে তার ছেলে কারো সাতেও নেই পাঁচেও নেই। তার ক্ষতি কে করবে।

যাইহোক বাকী কল গুলো করেছে মিনু। ওর ক্লাসমেট। কী এমন দরকার থাকতে পারে যে ওকে মাত্র দুই ঘন্টায় আঠারো বার কল করতে হবে! এমন কোন সম্পর্ক তো ওর সাথে তা নেই। ইদানীং ওর ব্যাপারে মিনুর আগ্রহটা চোখে পড়ার মতো। মেয়েটা কী তবে তাকে নিয়ে অন্যকিছু ভাবছে। যদি ভেবে থাকে তবে এখানে তার নিজের কী কোন প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় ছিলো?

পাশাপাশি রোল হওয়ার কারনে মাঝে মাঝে তাদের একসাথে বিভিন্ন কাজ করতে হয়। গত কয়েকদিনে বেশ কিছু এসাইনমেন্ট তাদের একসাথে করতে হয়েছে। পরীক্ষাও একসাথে দিতে হয় তাদের। কিন্তু ওবায়েদ তবু চেষ্টা করে একটা দূরত্ব বজায় রাখতে। এই দূরত্ব মূলত প্রবহমান সময়ের নিয়মিত ঘটে যাওয়া অনর্থ থেকে আত্মরক্ষার জন্য।

স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য পংকিলতার ছিটে ফোঁটা থেকে বেচে থাকতে। যদিও কোন সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে কেউই তার কাছ থেকে বিমুখ হয় না। এই ব্যক্তিত্বের জন্যই বোধহয় তার প্রতি মিনুর ভালো লাগাটা আরো গাঢ়ত্ব পাচ্ছে। ওবায়েদ ভবিষ্যতের কোন অবাঞ্চিত পরিণতির ভয়ে শিহরিত হয়ে ওঠে। এর সমাধান আগেই করে ফেলতে হবে। না হয় এক সময় সে যে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবে না এরই বা নিশ্চয়তা কী! এইসব ভাবতে ভাবতে ওবায়েদ ফোন করে মিনুর নাম্বারে।

মিনু ফোন ধরেই হড়বড় করে এক সাথে অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করে ফেলে,
- “হ্যালো, হ্যাঁ ওবায়েদ তোমার কী হয়েছে বলো তো? এত্তোগুলো কল দিলাম তোমাকে! ধরলে না কেনো? তুমি কোথায় ছিলে এতোক্ষণ? অসুস্থ নাকী?”
- ‘‘না, সুস্থ আছি। ঘুমিয়ে ছিলাম।" নিরাসক্ত কণ্ঠে জবাব দেয় ওবায়েদ। ‘‘কেন ফোন দিয়েছিলে?"
- “শোনো, আমার একটু নিউমার্কেট যেতে হবে আমার ভাগ্নীটার জন্মদিনের একটা গিফট কিনতে। তুমি কী একটু যাবে আমার সাথে?”
- “না, আমার টিউশনী আছে। তাছাড়া...!”
- “তাছাড়া আবার কী! শোনো আমি কালই আমার গ্রামের বাড়ি যাবো। আজকেই কিনতে হবে গিফটটা। আর সুমিরা যেতে রাজি হচ্ছে না। ওদের তো এখনো একটা পরীক্ষা বাকী। প্লিজ একটু আসো। তুমি হলের সামনে এসে ফোন দিও। আমি তৈরী হচ্ছি।” বলেই ফোন কেটে দিলো ও। ওবায়েদ কিছুই বলার সুযোগ পেলো না।

ওবায়েদ নিজের সাথে বোঝাপড়া করে। ভাবে, না করে দেবে মিনুকে। ওর সাথে যাবে না সে নিউ মার্কেট। সে তো তার কেউ নয়। সে কেনো যাবে তার সাথে নিউমার্কেট। আবার ভাবে একটা মেয়ে একা একা যাবে। তাকে সাহায্য করাটা কি তার দায়িত্ব না।

আবার মনে হয় এই দায়িত্ববোধের আড়ালে কী সে আস্তে আস্তে মিনুকে তার প্রতি দুর্বল করে তুলছে না? মিনু অন্য মেয়েদের মতো অতো খোলামেলা চলে না। যথেষ্ট শালীন ও ধার্মিক। তবে হিজাবের মৌলিক ব্যাপার গুলোতে তার একটু বোঝার ঘাটতি আছে। বোরকা পড়লেই যে গায়রে মাহরাম কারো সাথে বাইরে ঘোরা যায় যায় না কে তাকে বোঝাবে ব্যাপারগুলো। সে নয় নিশ্চয়ই। এখন কী করবে ওবায়েদ। যাবে ওর সাথে?

সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে ওবায়েদ তৈরী হয়ে মেয়েদের হলের একটু দূরে দাঁড়িয়ে মিনুকে ফোন দেয়। একটু আড়চোখে দেখে নেয় পরিচিত কেউ আছে কী না আশেপাশে। কারণ ওবায়েদ কখনই মেয়েদের হলের সামনে দাড়িয়ে থাকার মতো ছেলে না।

এই ধারণাটুকু তার প্রতি ব্যাচের ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে সবারই আছে। কিছুক্ষণ পর মিনু বের হয়ে আসে হল থেকে। সুন্দর নীল রংয়ের একটা ঢোলা থ্রিপিস আর বড় ওড়নায় নিজেকে ঢেকে এসেছে সে। খুব ছিমছাম আর দেখতে অনেক শালীন লাগছে ওকে। তবুও ওবায়েদ বুঝলো আজকে অন্য দিনের চেয়ে একটূ বেশীই পরিপাটি হয়ে এসেছে মিনু। ও দ্রুত চোখ নামিয়ে নিলো।

নিউ মার্কেটে গিয়ে মিনু ওর ভাগ্নীর জন্য খুব সুন্দর একটা উপহার কিনলো আর কিনলো একটা চুইংগামের প্যাকেটের মতো একটা খেলনা। চুইংগাম বের করতে গেলেই হাতের ওপর দিয়ে একটা তেলাপোকা দৌড়ে বেরোবে। বাচ্চাদের হাতে দিলে দারুণ মজা হবে।

ওবায়েদ শুধু সাথে সাথে হাটছে। উচ্ছ্বসিত মিনুর কথার পিঠে হু হা করছে শুধু। মনে মনে ভাবছে সে যা করছে, তা কী ঠিক হচ্ছে? এখন যদি কোন পরিচিত কেউ দেখে একটা মেয়ের সাথে ওবায়েদ ঘোরাঘুরি করছে, এটা কী লজ্জাকর হবে না? যে কাজটা অন্য কারো কাছ থেকে গোপন থাকলেই ভালো লাগে সেটা কী গুনাহের কাজই নয়? তার মাথায় মিনুর উচ্ছল কন্ঠ আরো নৈতিকতার বন্ধন গুবলেট পাকিয়ে যেতে থাকে।

মিনুকে অবশ্য এসবের কিছুই বুঝতে দেয় না ওবায়েদ। নীরবে পাশে চলতে থাকে। এবার মিনু খুব সুন্দর একটা টিশার্ট কিনলো। ওবায়েদের ও পছন্দ হলো টি শার্টটা। ওর পছন্দ আসলেই প্রশংসা করার মতো। একবার ভাবলো নিজের জন্য একটা কিনে নিক। পরে ভাবলো অন্য সময়ও তো কেনা যাবে। নিউমার্কেট তো আর পালিয়ে যাচ্ছে না।! এখন কিনতে গেলে হয়তো মিনুই দাম দিতে চাইবে।

এক পর্যায়ে মিনুর কেনাকাটা শেষ হলো। এবার ও বললো, "আসো, কোন ক্যাফেতে বসি। ফুচকা খাওয়াবো তোমার পারিশ্রমিক হিসেবে! এতো কষ্ট করেছো যেহেতু..." নিউ মার্কেটের অভিজাত একটা ক্যাফেতে গিয়ে বসলো মিনু আর ওবায়েদ। আশে পাশে বেশ কয়েক জোড়া কপোত কপোতী।

তাদের মতো শুধুই সহপাঠী হিসেবের কেউ নেই বলেই মনে হচ্ছে। অন্ততঃ তাদের আচরণ তাই বলে দিচ্ছে। যাই হোক পরিবেশটা বেশ ছিমছাম। পাশে লো ভলিউমে কী একটা গান বাজছে। একথা সে কথা বলতে বলতে একসময় মিনু হাসি হাসি মুখে বললো,
- “তুমি কী জানো গত তিন বছরে আমি এই প্রথম কোন ছেলের সাথে শপিং এ বেড়িয়েছি!”
- “না। আমার তো জানারও কথা না এটা।’’
- “এটা অবশ্য ঠিক বলেছো তুমি। শোনো, আমার গিফট কিনতে আসাটাই মূল উদ্দেশ্য ছিলো। সাথে আরেকটা ছোট্ট উদ্দ্যেশ্য আছে। তোমাকে কিছু কথা বলা। তুমি কী বিরক্ত হচ্ছো? বলবো?”
- “না, বিরক্ত হবো কেন? বলো।’’
- “দেখো, আমাদের ক্যাম্পাসটা খুব বড় না। এখানে একটু কিছু হলেই সবাই সব কিছু জানে। আর ছাত্র-ছাত্রীও কম তাই সবাই সবাইকে ভালো করেই চেনে। তাই তো?
- “হুম।” মাথা নাড়লো ওবায়েদ।
- “তুমি একটু বলোতো, গত তিন বছর আমরা একসাথে পড়েছি। আমাকে কী কখনো কোন ছেলের সাথে অযথা গল্প করতে দেখেছো?”
- “খেয়াল করিনি ।’’
- “হুম। কিন্তু গত একমাস ধরে নিশ্চয়ই তুমি আমার পরিবর্তনটা লক্ষ্য করেছো যে আমি অনেকাংশে তোমার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছি। তুমি যথেষ্ট বুদ্ধিমান একটা ছেলে এবং এটাও আমি জানি তুমি ব্যাপারটা নিয়ে যথেষ্ট বিব্রত।’’ মিনু নিচের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে থেমে থেমে কথাগুলো বলছে। "কিন্তু বাস্তবতা হলো আমি গত এক বছর ধরে তোমার প্রতি একটু একটু করে দুর্বল হয়ে পড়েছি। আমি বিশাল একটা সময় নিজের সাথে যুদ্ধ করেছি।

একটা সময় নিজের আবেগের কাছে পরাজিত হয়েছি। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হলো আমার এই পরাজয়ে আমি অন্য যে কোন জয়ের চেয়ে বেশী আনন্দ পেয়েছি। তুমি কী আমাকে তোমার নিঃসংগতার একটু ভাগ দিতে পারবে? আমি চাই তোমার সাথেই জীবনের যুদ্ধটুকু করতে।" লজ্জায় মিনু একেবারে লাল হয়ে গেছে।

ওবায়েদ নিশ্চুপ। হাতে টম্যাটো সসের বোতলটা নাড়াচাড়া করছে। মনে হচ্ছে সে কোন ঘোরের মধ্যে চলে গেছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। মুখে লজ্জার রক্তিম আভা। মিনুই আবার জিজ্ঞেস করলো,
-“তুমি কি আমার কথা শুনতে পেয়েছো?’’

উপরে নিচে মাথা নাড়ায় ওবায়েদ। এর মাঝে বেশীর ভাগ সময় ও নিচের দিকেই তাকিয়ে ছিলো। মিনুর দিকে খুব একটা তাকায় নি। এখনো নিশ্চুপ।

- "কিছু বলছো না যে!"মিনুর কন্ঠে একরাশ কৌতুহল মাখানো উৎকন্ঠা। “আসলে আমাকেই কথাগুলো বলতে হলো...”
- "তোমার কথা শেষ?" ওবায়েদ এবার কথা বললো, মিনুর দিকে। তার চোখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি। এক পলক তাকিয়ে সে আবার চোখ নামিয়ে নিলো। মিনুর ‘হ্যা’ বাচক উত্তর পেয়ে এবার বললো,

‘‘এবার আমি তোমাকে আমার গল্প বলি শোন...। আমি আমার পরিবারের বড়ো ছেলে। আমার আরো তিন ভাই বোন আছে। আমার বাবা সীমিত আয়ের একজন সরকারী চাকুরীজীবী। কিন্তু আমি বাবাকে কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে দেখিনি। ফলে সবসময়েই সংসারে আর্থিক টানাটানি ছিলো।

টাকার অভাবে আমাদের অনেক সখ আহলাদকে জলাঞ্জলী দিয়ে আমাদের বহু পথ হাটতে হয়েছে ।কিন্তু এ নিয়ে আমরা কেউ কখনো মন খারাপ করিনি। শিক্ষার্জনকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে গিয়ে তার বাবা তেমন কোন সহায় সম্পদ জোটাতে পারেন নি। এটা নিয়ে অবশ্য তার তেমন কোন দুঃখবোধ নেই।

তিনি সবসময় আমাদের মাকে বলেন, “আরে আমার এই চার সন্তান আমার চারটা গুপ্তধন। আমার আর কীসের সম্পদ লাগবে বলোতো?” আসলেই আমরাও আমাদের পরিশ্রম দিয়ে বাবার মর্যাদা রাখতে চেষ্টা করেছি । তাঁকে কখনো হতাশ করিনি। কখনো

এমন কিছু নিয়ে বায়না ধরিনি যার জন্য তাঁকে তার অক্ষমতার জ্বালা আরো বেশী করে অনুভব করতে বাধ্য করে। এই মানুষটার শেষ সম্বল যে চাকরী তার মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে দুই বছর পর। মানে আমার লেখা পড়া যদি ভালোয় ভালোয় শেষ হয় তবে আমিও পাশ করে বের হবো আর বাবার চাকরিও শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু রয়ে যাবে পরিবারের দায়িত্ব, ভাইবোনগুলোর লেখাপড়ার দায়িত্ব। এছাড়া উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার এসবের ঝামেলা তো আছেই। এই মূহূর্তে ভালোবাসার মতো বিলাসিতা আমার মানায় না।

আমি ব্যক্তিগতভাবে বিয়ের আগে ভালোবাসার পক্ষপাতি নই। যদি সুযোগ থাকতো তবে এই সময়েই তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতাম, কিন্তু সে সুযোগ এখন নেই। বলতে দ্বিধা নেই তোমার মতো একজন ভালো মানুষ যার জীবনসংগী হবে সে অনেক সৌভাগ্যবান।

তবে আমি এটাও বিশ্বাস করি নূন্যতম যে যোগ্যতা হলে আমি তোমার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে পারবো ততোদিনে কোন রাজপুত্র এসে তোমাকে জয় করে নিয়ে যাবে। তাই এসব অবাস্তব চিত্র কল্পে আমি নেই। কয়েকটা দিন ঠান্ডা মাথায় ভাবো দেখবে সব ভুলে টুলে গেছো।

আর একসময় এইসব ভালোলাগা-টাগা এইগুলো মনে এগুলো এক সময় ছেলে মানুষীর মতো। তখন তোমার নিজেরই হাসি পাবে। হাঃ হাঃ হাঃ।’’ ওবায়েদ একটু জোরেই হেসে উঠলো। তার কন্ঠে এতোটুকু দুঃখবোধ নেই। পাশের টেবিলের যুগলেরা একটু বিরক্ত হয়ে আড়চোখে চাইলো তার দিকে। মিনুও অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে ওবায়েদের দিকে। তার চোখে বিষাদমাখা বিস্ময়।

এরপর কথা আর বাড়ে না তেমন। মিনু খাওয়াতে আনলেও বিলটা শেষ পর্যন্ত ওবায়েদই দিয়ে দেয়। হলে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত মিনু একটি কথাও বলে নি। কেবলমাত্র যাওয়ার আগে অনুনয়ের সুরে সে একবার বলেছিলো, “ওবায়েদ, তুমি কী আরেকবার একটু ভেবে দেখবে? আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করতেও রাজী আছি।” ওবায়েদ খুব শান্ত গলায় মিনুকে বোঝানোর জন্য বললো, “মিনু, আজ আমাদের মধ্যে যে কথা হয়েছে আমি সব ভুলে যাবো, আশা করি তুমিও ভুলে যাবে।

প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হবে কিন্ত পরে দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে । সৃষ্টিকর্তা তোমার জন্য অবশ্যই অনেক ভালো কাউকে রেখে দিয়েছেন। দোষ আসলে আমারই। প্রথমেই এ ব্যাপারে আমার আগেই সতর্ক হওয়া দরকার ছিলো। আর যতটুকু মনে হয়েছে টি শার্ট টা তুমি আমার জন্যই কিনেছিলে। ওটা কী আমি পেতে পারি?

আমার মনে হয় ওটা চোখের সামনে থাকলে তোমার কষ্ট বাড়বেই কেবল।” মিনু হাত বাড়িয়ে টিশার্টের প্যাকেটটা এগিয়ে দেয়।"এবার যাই তবে, আল্লাহ হাফিজ।" বলেই ওবায়েদ পিছন ফিরে হাটতে শুরু করলো। এই অশ্রুস্রোতে বেশীক্ষণ টাল সামলানো দায়। স্রষ্টার সন্তুষ্টির আশায় যেই আহবান কে সে দু’হাতে জোর করে দুরে ঠেলে দিলো সেই আহবানের জন্য কী তার হৃদয় কিছুটা হলেও আকাংখী ছিল না? অবশ্যই ছিলো।

মিনুর সামনে তার হৃদয়ের দুর্বলতা একটিবারের জন্যও বুঝতে দেয় নি। সে চায়নি তার এতো দিনের গড়া সপ্নের সৌধ এই সর্বগ্রাসী ঝড়ে দুমড়ে মুচড়ে যাক। স্রষ্টার উপর নির্ভর করে কেবল তারই ভয়ে অন্যায় এ কাজ থেকে দূরে থাকার যে ত্যাগ সে স্বীকার করেছে এর প্রতিদান অবশ্যই সে পাবে এই বিশ্বাস তার আছে।

তবু এই মূহুর্তে তার হৃদয়ে প্রচন্ড মাত্রায় ঝড় হচ্ছে। মুখে সবকিছু ভুলতে বলে দিলেও এতো কাছ থেকে দূরে ঠেলে দেয়ার যে কষ্ট তা সে প্রচন্ড ভাবে অনুভব করছে। সব কিছু কেমন যেনো অপরিচিত মনে হচ্ছে তার।

আজকে একা একা অনেকক্ষণ হাটবে ওবায়েদ। মাথা ওলট পালট হয়ে গেলে মাঝে মাঝেই হাঁটতে বের হয় সে। নিরুদ্দেশে হাঁটতে থাকে শক্তি থাকা পর্যন্ত। আজকে অনেক হাটতে হবে তার। এ সময় মিনুর দেয়া টি শার্টটা গায়ে দিলে কেমন হয়? শুধু আজকের জন্য ।

এরপর এটা একটা মুল্যবান স্মারক হিসেবে শোভা পাবে তার ব্যক্তিগত সংগ্রহে । একটু আড়ালে গিয়ে ওবায়েদ টি শার্টটি পড়ে নিলো। চমৎকার একটা টিশার্ট। সারা গায়ে সবুজের ছড়াছড়ি আর বুকের কাছে রক্তাভ লাল। হৃদয়ের রক্তক্ষরণ যেনো টিশার্টের টকটকে লাল রঙের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে...

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না