ঢাকা      মঙ্গলবার ১৬, জুলাই ২০১৯ - ১, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী

ডা. মোশতাক আহমেদ

যারা ইনফার্টিলিটি বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান

মেডিকেল স্টুডেন্টদের জন্য সম্ভাবনা বিচার করতে গেলে আমি বলবো, বাংলাদেশে সরকারি সেক্টরগুলোতে সব কাজই হয়, কিন্তু একটু দেরিতে। যেমন, আমি মাষ্টার্স করলাম ১৯৯৭ সালে এবং আমার পর একই ইউনিভার্সিটি থেকে আরও দু’জন মাস্টার্স করেছেন। দেশে সুযোগ কম থাকার কারনে এদের একজন এখন এই সেক্টরে কাজ করছেন না।

এখন ইন্ডিয়া হতে অনেকে এখানে কাজ করতে আসে। ইন্ডিয়াতে যেহেতু ১৯৮০ সালের পরপরই কাজ শুরু হয়েছে তাই তারা ওখানে অনেক কাজ করে, ফলে এখানে কাজ করা তাদের জন্য সহজ। যে অংশটুকু আমরা পড়ি এটিকে বলে Embryology (ভ্রূণবিদ্যা)। আমি যখন মাষ্টার্স করি তখন আমার সাথে ছিল ১৩জন। এদের মধ্যে ১০জনই Gynaecologyতে পোষ্ট-গ্রাজুয়েশন করার পর এ সাবজেক্টে এসেছিলেন। তারা মূলত জিনিসটি কি তা জানতে আসলেন। এটা একটি পদ্ধতি হতে পারে। প্রথমে Gynaecology করে তারপর Embryology জেনে তারপর এটিতে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করা।

আরেকটা পদ্ধতি হতে পারে, দু’জন মিলে কাজ করা। প্রথম যে টেস্টটিউব বেবী হয় সেখানে রবার্ট এডওয়ার্ড এবং পেট্রিকস টেপটর নামের দু’জন মানুষ ছিলেন। রবার্ট এডওয়ার্ড মূলতঃ একজন Embryologist, কিন্তু পেট্রিকস টেপটর ছিলেন একজন বিজ্ঞানী। চিকিৎসাবিজ্ঞান একটি বিশাল বিষয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ডাক্তাররাই চিকিৎসাবিদ হন, কিন্তু গবেষনার বিষয়গুলো অবশ্যই আলাদা গুরুত্বের দাবী রাখে। গবেষণার কাজে তার ঝোঁক থাকতে হবে এবং এ গবেষনার কাজটি করতে গেলে যে ধরনের সেন্টারে তার কাজ করা দরকার, তেমন একটা সেন্টার তাকে তৈরি করে সামনে এগুতে হবে।

এ রাস্তাটি অনেক কঠিন কিন্তু প্রাপ্তিটিও অনেক। যে বাচ্চাগুলো আমাদের দ্বারা জন্ম নিল, তারা বড় হয়ে সাত, দশ অথবা বারো বছর বয়সে আমাদের সামনে আসলে যে আনন্দ হয় তা ওজন করে মাপা যায় না। আমি অন্যদের চাইতে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি এ কারনে যে - একটি মানুষ পৃথিবীতে ছিল না, কিন্তু এখন পৃথিবীতে এসেছে আমার চেষ্টায় - এটি অমূল্য একটি প্রাপ্তি।

এই প্রাপ্তিটিকে সে যদি আনন্দের সাথে নিতে পারে তাহলে তাকে এদিকে অগ্রসর হতে হবে। এখানে আনন্দের বিষয়টি যেমন বেশি আবার ব্যর্থতার বিষয়টিও বেশি। যেমন আমি বললাম ৩০-৩৫% মানুষ আমাদের কাছে এসে সফল হচ্ছে। আবার অনেকেই আসেন যাদের খুব একটা টাকাপয়সা নেই, ধার দেনা করে আসেন। যখন ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান এটার বেদনাও কিন্তু অনেক বেশী। কিন্তু ডাক্তারদের করনীয় কিছুই থাকে না। যেহেতু ডাক্তারদের কাজ করার মত খুব বেশি সেন্টার বাংলাদেশে নেই। সুতরাং ক্যারিয়ার করার জন্য Output এর যে ব্যাপারটা, পরে সে কোথায় কাজ করবে এই জব এর নিশ্চয়তা এখনও নেই। ফলে যারা MBBS ডাক্তার আছেন তাদের এ ব্যাপারে যদি ইন্টারেস্ট থাকে তাহলে শখের বশে করতে পারে। কারন একটি কথাতো প্রচলিত আছেই 'শখের ভরি আশি তোলা'!

ইনফার্টিলিটির উপর FCPS, MD এ ধরনের ডিগ্রী বাংলাদেশে এখনো আসেনি। মেডিকেল স্টুডেন্টদের কেউ যদি এ ধরনের কাজ করতে চায় তাহলে তাকে Masters বা PHD’র দিকে যেতে হবে। বাংলাদেশে যে, IVF সেন্টারগুলো আছে সেখানে সে কাজ শুরু করতে পারে এবং বাংলাদেশের বাইরের সেন্টারগুলোতেও সে কাজ করতে পারে। এর জন্য তাকে ১০ বছর ব্যয় করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এ বিষয়ে যে কিছুটা অনিশ্চয়তা আছে সেটিও মাথায় রাখতে হবে।

মূলতঃ এমব্রায়োলজি সাবজেক্টটাই রিসার্চ বেসড। রিসার্চ ব্যাকগ্রাউন্ড এর লোকজন এখানে বেশি আসেন। যারা Biology বা Zoology তে পড়েন তারাও এখানে অনেকেই আসেন। মেডিকেল থেকেই যে যেতে হবে এটি অপরিহার্য নয়। বাংলাদেশে মেডিকেল স্টুডেন্ট ছাড়া কেউ বেশি সুবিধা করতে পারে না। বাইরের দেশে Embryologist মূলত নন-মেডিকেল হয়ে থাকেন। কেউ বায়োক্যামিস্ট্রিতে MD করেও এ সাবজেক্টে আসতে পারে, কিন্তু Embryology’র যে জ্ঞানটা তা আলাদাভাবে অর্জন করতে হবে। দেশের বাইরের ডিগ্রীগুলো খুব ব্যয়বহুল। যেমন, আমি যে ডিগ্রীটি করেছি সেটিতে প্রায় ৪০-৫০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। আবার সিঙ্গাপুরে একটা ডিগ্রি আছে “Clinical Embryology”তে, সেটিতে খরচ প্রায় ২০-২৫ লক্ষ টাকা। ইন্ডিয়াতে ২-৩ বছর মেয়াদের ডিগ্রী পাওয়া যায় যেটা মোটামুটি সহজ।

তবে এটি বলা যায়, এ ব্যাপারে কেউ যদি কাজ করতে চায় তাহলে তাকে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হবে, তারপর এগুনোর চিন্তা করতে হবে। অপরদিকে সরকারী চাকুরি করে এটি করা আরও কঠিন। সরকারী লেভেলে এই সেন্টারগুলো নেই।

 

লেখক পরিচিতি : ডা. মোশতাক আহমেদ ১৯৯৪ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। এরপর ১৯৯৫ তে ইন্টার্ন করেন। পরে WHO এর সহযোগিতায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ  নেন Reproductive Medicine and Reproductive Biology -তে। ১৯৯৭সালে ইউনিভার্সিটি অফ নটিংহ্যাম থেকে একই বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর বাংলাদেশে  ফিরে নিঃসন্তান দম্পতিদের বন্ধ্যাত্ম দূরীকরনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ।  

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 




জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর