২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ০৪:০৪ পিএম
বিশেষ সাক্ষাৎকার ‘বইমেলা ২০১৭’

ফেসবুক সেলিব্রেটি ও লেখকের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্যটা বইমেলায় আসলে বোঝা যায়- রাজীব হোসাইন সরকার

ফেসবুক সেলিব্রেটি ও লেখকের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্যটা বইমেলায় আসলে বোঝা যায়- রাজীব হোসাইন সরকার

এ পর্যন্ত কি কি বই বের হলো আপনার?

২০১৫ বইমেলায় গল্পগ্রন্থ ‘মানবী মানবী’। ২০১৭ বইমেলায় উপন্যাস ‘অচিন পাখি’।

 

কোন বই বেশি সাড়া ফেলেছে, মানবী মানবী না অচিন পাখি?

গত দু’বছরে আমি ‘মানবী মানবী’ নিয়ে প্রচারণা করিনি। কিন্তু পাঠক অচিন পাখি নেবার আগে ঐ বইটির কথা জিজ্ঞাসা করে। দুটো বই দুটো আলাদা সময়ে সময়ে প্রকাশিত। আলাদা আলাদা বিষয়।
প্রথমবার বইতে পাঠক দেখতে চেয়েছিল, আমি কেমন লিখি। এ বছর পাঠক এসেছে, তার শেষ বইটির সাথে সাথে প্রথম বইটি একবার পড়তে। আমি যত পুরোনো হব ততই হয়তো আমার প্রথম বইগুলো নিয়ে আলোচনা হবে, সে বই যত ভাল বা জঘন্যই হোক। আমি হুমায়ূন পড়ার সময় নন্দিত নরকে খুঁজি। অথচ তার লেখা পরের গল্পের তুলনায় ( যেমনঃ জোছনা ও জননীর গল্প, মধ্যাহ্ন) নন্দিত নরকে কিছুই নয়। এই উক্তিটি সরাসরি হুমায়ূন আহমেদের। আমার মত নগণ্য ও নবীন লেখকদের জন্য তো দুটো আলাদা সময়কে, আলাদা ধরণের বইকে তুলনা করা অসম্ভব ও হাস্যকর।

বই প্রকাশ করতে পারার অনুভূতি কেমন?

অনুভূতি অসাধারণ।

 

লেখালেখির শুরুটা কিভাবে?

একাকীত্ব থেকে। ডাক্তারী পড়তে যখন রংপুর আসি, প্রথম ভেবেছিলাম আমার অনেক অভিভাবক ও শুভাকাঙ্খী। একসময় এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। আমি ধীরেধীরে সবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাই। আমার নিজস্ব একটা জগৎ তৈরি হয়ে যায়। সে জগতের বাসিন্দা আমি একা। রাত জেগে ফেসবুক স্ট্যাটাস লিখতে লিখতে একসময় সিদ্ধান্ত নিই দীর্ঘ লেখার। প্রথম লেখা দিলাম এক ব্লগে। সে সময় হোমপেইজ এপ্রুভাল ব্যাপারটি ছিল না। আমার প্রথম লেখা প্রথমদিনই হোমপেইজে স্টিকি করা হল। এই সম্মান ও আনন্দ আমাকে পরের লেখায় উৎসাহিত করে।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক কি প্রতিভা বিকাশে আসলেই কোন অবদান রাখতে পারে?

আমি পত্রিকা বা কাগজে লিখি না। না লেখার কারন সেখানে প্রকাশের আগে আপনার লেখাকে তারা বাছাই করবে, বিচার করবে। আমি সেই সুযোগ দিতে চাই না। সবাই আলাদা আলাদা উদ্দেশ্যে লেখে। একজন পত্রিকার সম্পাদক বা দায়িত্বশীল পেশাদার কবি-লেখক আরেকজন অপেশাদার কবি-লেখকের লেখা বিচার করার ক্ষমতা রাখে না। দুজনের মস্তিষ্কের নিউরণের গঠন আলাদা। কার্যপ্রণালী আলাদা। নিউরণের ভাবনাচিন্তা আলাদা। আমি কখনোই চাই না, সে আমার লেখার বিচার করুক। আমার লেখা দূর্বল হতে পারে, অগভীর বা জঘন্য হতে পারে তবে তার বিচারক বা বাছাইকর্তা আমিই হতে চাই। আমার বিচার বা বাছাইয়ে বানিজ্যিক ব্যাপারটি থাকে না, পত্রিকায় থাকে। এভাবে ফেসবুকে শুরু।

এখানে আমার লেখা কোন যাচাই বাছাই ছাড়া আমি ছড়িয়ে দিতে পারি। সে লেখা পড়তে কাউকে টাকা খরচা করতে হয় না। সরাসরি পাঠ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। নিজেকে বদলানোর সুযোগ আছে।

ফেসবুকের ‘লাইক’ নামক বিচিত্র ব্যাপারটি যদি কেউ মাথায় না রাখে, প্রতিভা বিকাশ হবেই। আজ আমি সাক্ষাৎকার দিচ্ছি। যদি আপনি মনে করেন আমি প্রতিভাবান তাই সাক্ষাৎকার দেবার যোগ্যতা আমার আছে, তাহলে সেই প্রতিভাকে বিকশিত করেছে ফেসবুক।

ফেসবুক সেলিব্রেটি মানে কি ভালো লেখক?

ফেসবুকে মারাত্মক জনপ্রিয় মানুষকে দেখেছি, বইমেলায় প্রথম বই প্রকাশের পর আর দ্বিতীয় বই প্রকাশ করেন না। আবার ফেসবুকেই ফিরে যান। তারা সম্ভবত সেলিব্রেটি ও লেখকের মধ্য সুক্ষ্ম পার্থক্যটা বইমেলায় এসে বুঝতে পারেন।

একজনকে চিনি। তিনি প্রথম বইমেলায় বেস্টসেলার। দ্বিতীয় বইমেলায় প্রকাশ করেছেন কিন্তু কেমন সাড়া পেয়েছেন জানি না। তৃতীয় বইমেলা থেকে তার বই আর বিক্রি হয় না। তিনি এখন ফেসবুকে লেখেন। সেখানে ভালো জনপ্রিয়।
পাঠকরা বোকা নয়, তাদের ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব। ফেসবুক স্ট্যাটাসে হয়তো তারা ফ্রিতেই লাইক দিবে কিন্তু টাকা দিয়ে যারা বই কিনে লেখক হিসেবে একজনকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলবে, তখন আপনাকে আগের চেয়েও বেশি শ্রম দিতে হবে। দায়িত্ব ঘাড়ে নিয়ে কাজ করতে হবে। পাঠকে বিশ্বাস হল কচুপাতার জলের মত। একবার ফেলেছেন তো, হারিয়ে গেছেন।

 

সাহিত্যের কোন ধারায় লিখতে বেশি ভালো লাগে?

আমি নবীন ও নগণ্য মানুষ। কোন নির্দিষ্ট ধারায় লিখতে পারার মত দুঃসাহস আমার নেই। তবে মনস্তাত্ত্বিক ও পর্যবেক্ষন নির্ভর লেখা লিখতে আনন্দ পাই। শার্লক হোমস, মিসির আলি, ফেলুদা বা ব্যোমকেশ বক্সীর মত। আমার শ্রদ্ধেয় গুরু, শার্লক হোমসের জনক মহামতী স্যার আর্থার কোনান ডয়েল একজন সার্জন ছিলেন। পেশায় দুজনেই সমগোত্রীয় হওয়ায় আমি তাকে অনুসরণ করি। তার মত করে লিখতে ও ভাবতে চেষ্টা করি।
উল্লেখ্যঃ লেখার বর্ণনা ভঙ্গীমায় আমি অনুসরণ করি আরেক মহামতী হুমায়ূন আহমেদকে।

 

তরুণ লেখকদের জন্য বই প্রকাশে কি কি কাজ করতে হয় বিস্তারিত বলবেন কি?

বই প্রকাশের আগে বুঝতে হবে, বই বিক্রি হবে কী-না। অনেক লেখক চমৎকার লেখা সত্ত্বেও লেখালেখিই ছেড়ে দিয়েছেন শুধু বিক্রি না হবার জন্য। ব্যাপারটি একজন নবীন লেখকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি বিক্রির ব্যাপারটি গৌণ হয় তাহলে তাকে স্বাগতম।

আজকাল প্রকাশক সহজলভ্য। অনেক প্রকাশনী নবীন লেখকদের নিয়ে কাজ করছে। যেমনঃ ইন্তামিন (এখানে আমি লিখি), জাগৃতি, বাতিঘর বিবিধ। তাদের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

 

লেখালেখিতে কি কি প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন?

সম্মুখীন হয়েছি তবে তা আমাকে পরিণত করেছে। আমার একটা লাগামহীন সমালোচকগোষ্ঠী আছে। সমালোচক থাকার বড় সুবিধা হচ্ছে, আলোচকদের চেয়ে সমালোচকরা আমার লেখা বেশি পড়েই সমালোচনা করে। কেউ আমাকে সারাদিন তাদের নিউরণে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। পরশ্রীকাতরতায় পুড়ছে। ব্যাপারটা আমার জন্য সম্মানের। কারো মস্তিষ্কের নিউরণে আমি স্থায়ীভাবে বসে যেতে পেরেছি। এই আমার আনন্দ।

 

সামনে লক্ষ্য কি?

যে মেডিকেলে আমি নগণ্য ছাত্র হিসেবে জীবন শুরু করেছি, সেই মেডিকেলে একজন শিক্ষক হওয়া। শিক্ষকরা চিকিৎসক তৈরি করেন। আমি সেই মহান কারিগর হতে চাই।

 

পেশাগত জীবনে এখন কি করছেন?

উত্তরঃ শিক্ষানবিশ ডাক্তার হিসেবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আছি। একটা প্রাইভেট মেডিকেলে খণ্ডকালীন ফিজিওলজির শিক্ষকতা করছি।

প্রিয় লেখক, বই, খাবার, রঙ?

প্রিয় লেখকঃ স্যার আর্থার কোনান ডয়েল।
প্রিয় বইঃ কলম্বিয়ান লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের একশ বছরের নিঃসঙ্গতা।
প্রিয় খাবারঃ সাদা ভাত, সরিষার তেলমাখানো বিলেতি আলুভর্তা, তেলে ভাঁজা শুকনো মরিচ, বেশি করে পেঁয়াজ দেওয়া টেংরা মাঝের ভুনা, ইলিশ মাছের শুটকি ভুনা।

 

আপনার জন্ম লেখাপড়া স্বজন?

জন্ম পীরগঞ্জ (রংপুর)। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক গ্রামে। উচ্চমাধ্যমিক পীরগঞ্জে। বাবা আছেন। তিনজন মা। পাঁচ ভাইবোনের সংসার।

 

ব্যক্তি রাজীব হোসাইন সরকার কেমন মানুষ?

ব্যক্তি রাজীব হোসাইন সরকার কল্পনা প্রবণ। অত্যন্ত বাজে স্বভাব কিন্তু আনন্দ আছে। সকল ধরণের মানবীয় শুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা অল্পস্বল্প করে আছে।

 

জীবনের স্বপ্ন কি?

বাংলাদেশের কোন এক মেডিকেল কলেজের লেকচার গ্যালারীতে মাইক্রোফোন হাতে আমি পড়াব। সেই পড়া গভীর আনন্দ নিয়ে মেডিকেলের নবীন ছাত্রছাত্রীরা শুনবে।

 

চিকিৎসা না দিলে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল
কুর্মিটোলায় করোনা বেড পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসা না দিলে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

কুর্মিটোলায় করোনা বেড পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসা না দিলে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স
জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামান্য অর্জন

আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স