২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ১০:২২ পিএম
বিশেষ সাক্ষাৎকার - বইমেলা ২০১৭

চিকিৎসা পেশায় বহু মানুষের জীবনের গল্প কান পেতে শোনার সুযোগ আছে: ডা. তরিকুল হাসান

চিকিৎসা পেশায় বহু মানুষের জীবনের গল্প কান পেতে শোনার সুযোগ আছে: ডা. তরিকুল হাসান

প্রথম প্রকাশিত বই হিসেবে কেমন লাগছে?

এ বছর একুশে বইমেলায় মলাটবন্দী হওয়া একটি বইয়ের উপর আমার নাম লেখা আছে, ভাবতেই অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করছে।

 

বই বের করবেন এই পরিকল্পনা কবে নিয়েছিলেন?

বই বের করার পরিকল্পনার শুরুটা হয়েছিল অনেক আগে। অবশ্য সেটি ছিল কবিতার বই নিয়ে। ময়মনসিংহে ইন্টারমেডিয়েটে পড়ার সময় কলেজের দেয়াল পত্রিকায় আমার লেখা 'ভালো আছি!' কবিতাটি বেশ প্রশংসিত হয়। তখন অনেকে কবিতার বই বের করার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ার সময় কলেজ সাময়িকীতে কয়েকটি অণুকাব্যসহ সর্বোচ্চ সংখ্যক কবিতা ছাপা হয়। কবিতাগুলো ক্যাম্পাসে ব্যপক সাড়া ফেলে। এরপর বই প্রকাশের জন্য শুভাকাঙ্খীদের চাপ বৃদ্ধি পায়।

তবে পেশাগত ব্যস্ততার কারণে বই বের করা হয়ে ওঠেনি। আর, গত বছর অক্টোবরে 'যুক্তাক্ষর' বইটি বের করার পরিকল্পনা করেছিলাম।

তরুণ লেখকদের জন্য বই প্রকাশে কি কি কাজ করতে হয় বিস্তারিত বলবেন কি?

এটা যেহেতু আমার প্রথম বই, তাই আমিও এক্ষেত্রে একদমই নতুন। এ বই প্রকাশের অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলি তাহলে বলবো, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিই বই প্রকাশের মূল বিষয়।

এরপর পাণ্ডুলিপিটি অভিজ্ঞদের দিয়ে পুনঃপুনঃ দেখিয়ে নেয়া প্রয়োজন। কেননা, সোশাল মিডিয়ায় লেখালেখি আর বই প্রকাশ কিছু সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও দুটি ভিন্ন জিনিস।

সোশাল মিডিয়ার পাঠকেরা বেশ ব্যস্ততার সাথে বহু পোস্টের সমাবেশ থেকে কিছু পোস্ট পড়ার জন্য বাছাই করে নেন।

অন্যদিকে, বই পড়ার ক্ষেত্রে সময় নিয়ে পাঠক লেখার গভীরে প্রবেশ করেন। আর পান্ডুলিপিটি উপযুক্ত পরিমার্জন করে একটি স্ট্যান্ডার্ড ফন্টে কম্পোজ করে প্রকাশকের কাছে পাঠানো উচিত। তারপরে পান্ডুলিপি নির্বাচিত হওয়া। সম্পাদনার কাজ করা, প্রুফ দেখা, প্রচ্ছদ, ডিজাইন অনেক। অনেক কাজ।

 

কি কি প্রতিকূলতা ছিলো?

আমি মফস্বলে বেড়ে ওঠা একজন সাধারণ মানুষ। ঢাকায় বই এর প্রকাশক বা লেখক কারো সাথে তেমন পরিচয় ছিল না। এক্ষেত্রে কিছু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এছাড়া, আমার পেশাগত ব্যস্ততার মাঝে সময় বের করা বেশ মুশকিল ছিল।

তারপরও মহান আল্লাহপাকের কৃপায় শুভাকাঙ্খীদের সীমাহীন ভালোবাসা ও উৎসাহে 'যুক্তাক্ষর' আলোর মুখ দেখেছে।

 

সামনে লক্ষ্য কি?

সামনে উপন্যাস, সাইকো-থ্রিলার গল্প ও কবিতার বই বের করার ইচ্ছে আছে। এ ছাড়াও আমি একটি অনলাইন টিভি চ্যানেলে স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করি। এ ক্ষেত্রেও আরও সময় দেয়ার পরিকল্পনা আছে।

পেশাগত জীবনে কি করছেন?

পেশাগত জীবনে আমি নিউরোলজি বিভাগের একজন সাধারণ চিকিৎসক। এ বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করছি।

 

জীবনের স্বপ্ন কি?

আমি খুব সহজ-সরল একটা জীবনের স্বপ্ন দেখি। মানুষকে ভালবেসে তাদের পাশে থাকতে চাই। সবার সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে চাই। দিনশেষে আমার নিভৃত গ্রামে টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে মায়ের হাতে রান্না করা ডাল-ভাত খেতে পারাটাই আমার জীবনের স্বপ্ন।

 

ব্যক্তি তরিকুল হাসান কোন পরিচয়ে বেশী স্বস্তিবোধ করেন? চিকিৎসক না লেখক?

আমি চিকিৎসক এবং লেখক দুটি পরিচয়ই উপভোগ করি। চিকিৎসা পেশায় বহু মানুষের জীবনের গল্পগুলো কান পেতে শোনার সুযোগ আছে। যা আমাকে লেখালেখির উপকরণের যোগান দেয়। এ দুটোর মধ্যে একটি বাছাই করতে বলা অনেকটা হাত এবং পায়ের মধ্যে কোনটিকে বাছাই করতে বলার মত।

 

বইয়ের রেসপন্স কেমন পাচ্ছেন?

আলহামদুলিল্লাহ অনেক রেসপন্স পাচ্ছি। অনলাইন ও অফলাইনে বইটি বেশ সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে। অনেক পাঠক বইটি কেনার জন্য মেলামুখী হয়েছেন। এতোটা আমি আসলে আশা করিনি।

আপনার জন্ম-লেখাপড়া-স্বজন?

আমার জন্ম গাজীপুরের কাওরাইদ গ্রামে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অমর কবি অতুল প্রসাদ সেনের স্মৃতি বিজড়িত এই গ্রাম থেকেই এসএসসি পাশ করেছি আমি। পরবর্তীতে ময়মনসিংহের বিখ্যাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি ও রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে এ বছর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে নিউরোলজি বিভাগে এমডি কোর্সে অধ্যয়নরত আছি। বাবা-মা ও চার ভাই-এক বোনকে ঘিরেই আমার পরিবার।

বইটি বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে শ্রাবণ প্রকাশনীর, স্টল নং-২৫৫-২৫৭ এ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স
জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামান্য অর্জন

আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স