ঢাকা      মঙ্গলবার ১৭, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ২, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস

চিকিৎসা বিজ্ঞানের আজকের অগ্রগতি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। এর ইতিহাস অনেক প্রাচীন। প্রায় তিন হাজার বছর আগে মিশর, ভারত, গ্রিস এবং রোমে চিকিৎসা বিদ্যার বীজ রোপিত হয়েছিলো, যা আজ মহীরুহে পরিণত। আগেকার দিনে নানারকম কুসংস্কার ছিলো। রোগীর চিকিৎসা করার জন্যে ডাকিনী বিদ্যা অথবা জাদু টোনার দ্বারস্থ হতো মানুষ। তারা বিশ্বাস করতো দেবতাদের অভিশাপে মানুষ রোগাক্ৰান্ত হয়। প্রাচীন এ বিশ্বাসের মূলে প্রথম আঘাত হানেন হিপোক্রেটিস। তিনি অনেক সাধ্য-সাধনা ও ধৈর্য সহকারে বিরুদ্ধবাদীদের মোকাবেলা করেছিলেন । অবশেষে সাধারণ মানুষও বুঝতে পেরেছিলো, তাদের অসচেতন এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণেই রোগ ব্যাধি হয়। হিপোক্রেটিসের হাত ধরে মানুষের রোগ এবং তার চিকিৎসা সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসা বেড়েছে। তিল তিল করে জ্ঞানের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। কালজয়ী এবং ভুবনবিখ্যাত চিকিৎসকেরা। প্রথম এ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহার, এন্টিবায়োটিকের উৎপত্তি, স্টেথোস্কোপ, কেমোথেরাপি, কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট, প্রেসমেকার ইত্যাদি এসেছে কালে কালে ।

রোগজীবাণুর সাথে মানুষের যুদ্ধ চলেছে অনাদিকাল থেকে। দিনে দিনে রোগজীবাণু শক্তিশালী হয়েছে, অন্যদিকে উপশমের নতুন পন্থাও আবিষ্কৃত হয়েছে। আজকের চিকিৎসা বিজ্ঞান যেখানে দাঁড়িয়ে, দুইশতক পরে তা হয়তো বা সেকেলে হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম রচিত ‘চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস’ বইটিতে যুগে যুগে চিকিৎসা বিদ্যার উন্নয়ন সম্পর্কে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং সহজবোধ্যভাবে লেখা হয়েছে, যা অনুসন্ধিৎসু পাঠকের উপকারে আসবে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস’ শিরোনামের বইটি প্রকাশ করেছে কুঁড়েঘর প্রকাশনী। প্রকাশক : প্রকৌশলী শামিম রহমান আবির। এর মূল্য ধরা হয়েছে ৪শ’ টাকা।

বইটিতে স্থান পেয়েছে অনুচ্ছেদ। সূচিপত্র অনুযায়ী, পাঠক বইটিতে পাবেন

১. ব্যাবলনীয় সভ্যতায় তৎকালীন চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কিত তথ্য।

এছাড়াও-

২. মিশরীয় সভ্যতা এবং তৎকালীন চিকিৎসা পদ্ধতি,

৩. প্রাচীন গ্রীক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক হিপোক্রিটাস,

৪. তৎকালীন রোমের সামাজিক চিকিৎসা ব্যবস্থা,

৫. ভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞানী শুশ্রুত এবং তার অবদান,

৬. ক্লাডিয়াস গ্যালেন এবং রোমান চিকিৎসা বিজ্ঞানে তার অবদান,

৭. উইলিয়াম হার্ভে এবং তার অবদান,

৮. জীবাণু তত্বের জনক লুই পাস্তুর,

৯. জোসেফ ব্যারন লিস্টারের জীবাণুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ,

১০. সূতিকা জ্বরের বিরুদ্ধে সেমেল ভিসের যুদ্ধ,

১১. যক্ষ্মার বিরুদ্ধে যুদ্ধ- রবার্ট ককের যুগান্তকারী আবিষ্কার।

১২. হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতির উদ্ভাবক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান,

১৩. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার আবিষ্কার এবং আধুনিক কেমোথেরাপীর জনক পল আরলিক,

১৪. ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে জয়- স্যার রোনাল্ড রস এর যুগান্তকারী অবদান।

১৫. ফরাসি চিকিৎসক থিওফিল লেনেক এবং স্টেথেস্কোপ আবিষ্কার,

১৬. এক্সরে আবিষ্কার উইলহেম কনরাড রন্টজেন এর অবদান

১৭. এনাস্থেসিয়ার আবিষ্কার এবং তার প্রয়োগ

১৮. জেমস ইয়াং সিম্পসনের চেতনানাশক আবিষ্কার এবং শল্য চিকিৎসায় রোগীদের বিড়ম্বনার অবসান

১৯. বসন্ত রোগ নির্মূলে স্যার এডওয়ার্ড জেনারের অবদান- টিকা আবিষ্কার।

২০. হৃদপিন্ড সংযোজনের ইতিহাস কিশ্চিয়ান বার্নার্ড-এর অবদান

২১. হাওয়ার্ড ফ্লোরে এবং জীবাণু যুদ্ধে তাঁর অবদান

২২. ইউরোলজির ইতিহাস।

লেখক সম্পর্কে কিছু তথ্য: অধ্যাপক এম এ সালাম। ১৯৭৪ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮১-তে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এবং সার্জনস (বিসিপিএস) থেকে ফেলোশিপ লাভ করেন। ১৯৮৮ সাল অবধি বিভিন্ন হাসপাতালে তিনি সার্জারি কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেন। এবছর তিনি তৎকালীন আইপিজিএমআর ইউরোলজি বিভাগে সরকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯২-৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি ইন্সটিটিউট অব ইউরোলজি লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে উচ্চতর ইউরোলজি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের স্লোন ক্যাটারিং মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে ইউরো-অনকোলজির ওপর প্রশিক্ষণ নেন।

আইপিজিএমআর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবার পর অধ্যাপক এম এ সালাম সেখানে যোগদান করেন এবং সেখানে ধারাবাহিকভাবে ২০০৬ সালে ইউরো-অনকোলজি বিভাগের ইউনিট প্রধান এবং ২০০৮ সালে ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। ২০১১ সালের ৩০শে জুন অবসর নেন। দায়িত্বপালন কালে তিনি ২০১১সালে ইউরো-অনকোলজি বিষয়ে একটি গাইডলাইন BSMMU Guideline GU Cancer নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ পুস্তক সংকলন করেন।

সম্প্রতি তিনি ইউরোলজি এ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্টেশন ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ (ইউটিএফবি) নামের একটি অলাভজনক এবং জনহিতকর স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এর সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর