নাবিল মুহতাসিম

নাবিল মুহতাসিম

শিক্ষার্থী,ঢাকা মেডিকেল কলেজ


২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ০৯:১১ পিএম
বিশেষ সাক্ষাৎকার

সবাই যখন বইয়ের চরিত্রকে আপন করে নেয়- অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে- নাবিল মুহতাসিম

সবাই যখন বইয়ের চরিত্রকে আপন করে নেয়- অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে- নাবিল মুহতাসিম

এ পর্যন্ত কি কি বই বের হলো আপনার?

এ পর্যন্ত আমার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা চারটি। 'বর্ন লিগ্যাসি' ও 'ফাইট ক্লাব' অনুবাদ। মৌলিক উপন্যাস দু'টি। 'শ্বাপদ সনে' এবং 'বাজিকর।' শেষেরটা এই '১৭ বইমেলাতেই প্রকাশিত। সবই বাতিঘর প্রকাশনী থেকে।

এতোবই প্রকাশ করতে পেরে কেমন লাগছে?

অসাধারণ লাগছে, অবশ্যই। একেকটা বই লেখা অনেক কষ্টের কাজ। বইটা যখন বের হয়, সবার হাতে হাতে যায়, সবাই যখন বইটা নিয়ে আলোচনা করে, বইয়ের রিভিউ পোস্ট করে, বইয়ের একটা চরিত্রকে আপন করে নেয়-তখন অন্যরকম একটা ভালোলাগা কাজ করে।

লেখালেখির শুরুটা কিভাবে?

পড়তে পড়তে লেখক হয়ে গেছি। একদিনে হইনি, অবশ্যই। বানান করে পড়ার বয়সে উপেন্দ্রকিশোরের 'বাঘ শিয়ালের মেলা' আর চাচা চৌধুরীর কমিকস দিয়ে বই পড়া শুরু। সেবার বই, রহস্যপত্রিকা, সুকুমার, সত্যজিত, হ্যারি পটার প্রচুর পড়েছি। ছোট্টবেলায় নিজেই সুপারহিরো বানিয়ে কমিকস আঁকতাম। পরে গল্প লিখতাম মনের আনন্দে। বড় ভাইয়া সহ পরিবারের সবাই খুব উৎসাহ দিতেন। এক সময়ে গল্প পাঠানো শুরু করি নানান জায়গায়। ক্লাস সেভেনে আমার লেখা ছাপা হয় প্রথমে আলপিনের ছোটদের পাতায়, পরে রহস্যপত্রিকায়।

অনুবাদ গ্রন্থ আর মৌলিক গল্পের বই প্রকাশে অনুভূতির পার্থক্যটা কেমন?

আকাশ পাতাল তফাত। নিজের লেখা বই অনেকটা নিজের সন্তানের মতো। অনুবাদ বইতে অবশ্যই সে আবেগটা কাজ করবে না।

সাহিত্যের কোন ধারায় বেশি স্বস্তিবোধ করেন?

থ্রিলার জনরায়। থ্রিলার পড়েই বড় হয়েছি। বয়সেও এখনো আমি তরুণ। থ্রিলারেই যে স্বচ্ছন্দ হবো, সেটাই বোধহয় স্বাভাবিক।

বোদ্ধাদের অনেকেই থ্রিলার ধর্মী লেখাকে কিছুটা বাঁকাচোখে দেখেন। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?

তাহলে আমি বলবো ওনারা এখনো ঠিকঠাক বোদ্ধার লেভেলে যেতে পারেননি। থ্রিলার আলাদা কিছু নয়, সাহিত্যেরই একটা শাখা। বিদেশের দিকে তাকান, থ্রিলার রাইটাররা একেকজন সুপারস্টার। থ্রিলার সাহিত্যকে আনকোরা বা অর্বাচীন বলে উড়িয়ে দেবারও কোনো জো নেই। ভেবে দেখুন, ইলিয়াড-ওডিসি-বেওউলফ-মহাভারত-রামায়ন-গিলগামেশ-মেঘনাদবধ কাব্য ইত্যাদি ক্লাসিক মহাকাব্যে থ্রিলারের উপাদান সিংহভাগ। এর পরও থ্রিলারকে বাঁকা চোখে দেখার সুযোগ কোথায়?

নতুন লেখকদের বই প্রকাশে করণীয় কি কি বিস্তারিত বলবেন কি?

তরুণদেরকে প্রথমত যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে লেখা চালিয়ে যাওয়া। লিখুন। লিখতে থাকুন। ভুলত্রুটি হবেই। সেগুলো শুধরে নিতে থাকবেন। ভালো লিখতে থাকলে প্রকাশকই আপনাকে ডাকবেন। প্রাথমিক স্টেজ হিসেবে ফেসবুক বা লিটল ম্যাগাজিনে লেখা দিন। লেখক কমিউনিটির সাথে মেলামেশাটাও দরকারী। লেখা ছাপানোর বুদ্ধি সেখান থেকেই পাবেন।

লেখালেখির ক্ষেত্রে কি কি প্রতিকূলতা ছিলো?

তেমন প্রতিকূলতা ছিলো না কখনোই। পরিবারের সবাই প্রবল উৎসাহ দিয়েছেন। আমার গল্পের বইয়ের আর নিজের লেখার বিশাল কালেকশন আব্বু-আম্মু অতিথিদেরকে গর্ব করে দেখান সবসময়। লেখা চালিয়ে যাবার উৎসাহটাও পরিবার থেকেই আসে। তাছাড়া আমার মায়ের বংশে বই পড়া আর টুকটাক লেখালেখির অভ্যাস আছে, বিশেষ করে মামাদের মাঝে। বর্তমানে একটাই প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হয়-মেডিকেলের পড়ার পাশাপাশি লেখা চালিয়ে যাওয়া। সময়ের অভাব, মূলত।

সামনের পরিকল্পনা কি?

সামনের পরিকল্পনা খুব সহজ। এখন যেভাবে চলছে ঠিক সেভাবেই ডাক্তারি আর লেখালেখি চালিয়ে যাওয়া।

এখন কি করছেন?

এখনও আমি ছাত্র, পেশাগত জীবনে ঢোকা হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষে পড়ছি।

জন্ম পরিবার শৈশব লেখাপড়া?

জন্ম রংপুরের মিঠাপুকুরে নানুবাড়িতে। শৈশব কেটেছে রংপুরে, নীলফামারীতে। আব্বু লালমণিরহাটের জেলা সমবায় অফিসার। আম্মু গৃহিনী। দুই ভাই আমরা, আমি ছোট। বড় ভাইয়া জিশান পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পড়ালেখা করেছি রংপুরেই। রংপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, আর কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি।

জীবনের স্বপ্ন?

ছোট ছোট স্বপ্ন দেখি। উচ্চাশা নেই। ছোট্ট একটা বাড়ি থাকবে, নিরিবিলি। সেখানকার বারান্দায় বসে বসে সকাল বিকেল চা খাবো, হাতে গল্পের বই। ঢাকায় সম্ভবত থাকবো না। বাইরে পোস্টিং নেবো। মফঃস্বলের ছেলে, মফঃস্বলেই স্বস্তি। বই লিখবো-অনেক, অনেক, অনেক বই। থ্রিলার, হরর, এসপিওনাজ, ডিটেকটিভ, ছোটদের বই। আর মাঝে মাঝে ঘুরতে যাবো পাহাড়ে। বা নদীতে। বা সাগরতীরে। বা নাম না জানা কোনো ছোট্ট গাঁয়ে, যেখানে বিরাট এক বট গাছের নিচে ছোট্ট একটা টং দোকানে চমৎকার চা বিক্রি করেন এক বুড়ো চাচা। ঘুরতে আমার খুব ভালো লাগে কিনা।

ডাক্তারি, লেখালেখি, ভ্রমণ।

এর বেশি জীবনে কখনো চাইনি, কখনো চাইবোও না।

 

বইগুলো সংগ্রহ করা যাবে বাতিঘর প্রকাশনী থেকে। স্টল নং ২৭২।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আহমাদ হাবিবুর রহিম

করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স
জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামান্য অর্জন

আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স