ডা. বাপ্পা আজিজুল

ডা. বাপ্পা আজিজুল

রেসিডেন্ট, সাইক্রিয়াট্রি বিভাগ

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ


২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ০৫:৪৬ পিএম
বইমেলা-২০১৭

যে লিখতে চায় বয়স, পেশা, অবস্থান তার জন্য অন্তরায় নয়:বাপ্পা আজিজুল

যে লিখতে চায় বয়স, পেশা, অবস্থান তার জন্য অন্তরায় নয়:বাপ্পা আজিজুল

ডা. মো. আজিজুল হাকিম, বাপ্পা আজিজুল নামে পাঠক সমাজে পরিচিত। প্রথম কাব্যগ্রন্থ "অন্তরীণ" প্রকাশিত হওয়ার পরে 'অন্তরিনের কবি' হিসেবে সমাদৃত হয়েছেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লিখছেন হরদম। যৌবন এখন মধ্যগগন। সাধারণ যার হাতের ছোঁয়ায় অসাধারণ হয়ে উঠে। আর দশজনের মত চিরায়ত নন তিনি। যেন নিপাতনে সিদ্ধ এই ঋদ্ধ কবি। কী কবিতা, গল্প, নিবন্ধ কিম্বা জীবন ঘনিষ্ঠ লেখা! সম্প্রতি মেডিভয়েস মুখোমুখি হয়েছিল পেশাগত জীবনে চিকিৎসক এই লেখক, কবি ও সম্পাদকের। একান্ত আলাপে উঠে এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবন, দর্শন, কবিতা ও অন্যান্য বিষয়। পাঠকদের কাছে তা হুবহু তুলে ধরা হল-

লেখালেখির শুরুটা কিভাবে?
-লেখালেখিটা সহজাত। শুরুটা সেভেন-এইটে। অনেকটা পাঠ্যবইয়ের কবি-কবিতার প্রতি অনুরাগ, তাদের অমর সৃষ্টির প্রতি মুগ্ধতা ও বিস্ময়ের ঘোর কাটেনা। কিম্বা কীর্তিমানের মৃত্যু নেই দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়েই লেখালেখির হাতে খড়ি। পরিচিত মহলের উৎসাহ বিষয়টিকে আরও ত্বরান্বিত করে। এসএসসির পরপর যখন স্থানীয় দৈনিকে লেখা প্রকাশিত হতে থাকল তখন আর আমাকে পায় কে? আমি লিখিয়ে হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। এখনও যে মজে আছি সে নেশায়। হা হা হা...

এ পর্যন্ত কী কী বই প্রকাশিত হল?
-ধন্যবাদ। নিরেট সাহিত্য বিচারে এ পর্যন্ত পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে। 
অন্তরীণ (কাব্যগ্রন্থ, ২০১৪)
যেতে হবে বহুদূর (নিবন্ধ সংকলন, ২০১৬)


রমাদান কারীম- দ্যা প্যানাসিয়া অফ হার্ট (২০১৬)


ইবরাহিম আ.- ফাদার অফ প্রোফেটস (২০১৬)

নাগরিক বিষণ্ণতা (কাব্যগ্রন্থ, ২০১৭ বইমেলা)


এছাড়া মেডিকেলের বেশ কিছু একাডেমিক গাইড বইও লেখার সুযোগ হয়েছে। সম্পাদনা করছি 'কবিতিকা' নামে অণু কবিতার কণা কাগজ।

পেশাগত চাপ সামলে কিভাবে পারেন?
-কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন। আসলে চাপ একটা নেতিবাচক শব্দ। আমার কাছের জনেরা জানেন আমি রিল্যাক্স থাকি। চাপ নিই না। সময় ও সদিচ্ছা বড় ব্যাপার। আমি টার্গেট ফিক্স করি। তারপর নিয়মিত সময় বের করার চেষ্টা করি। মজার ব্যাপার হল লেখালেখির জন্য আপনাকে আলাদা করে সব কিছু গুটিয়ে টেবিলে বসতে হবে তাও নয়। আমি চলতে ফিরতে, কাজের ফাঁকেই মাথায় কিছু ক্লিক করলে নোট রাখি। পরে সেটা ঘষা-মাজা করে চুড়ান্ত করি।

যারা লিখতে চায় বিশেষ করে মেডিকেল শিক্ষার্থী তাদের জন্য কী পরামর্শ দেবেন?
-যে লিখতে চায় বয়স, পেশা, অবস্থান তার জন্য অন্তরায় নয়। প্রত্যেককে তার নিজের মত করে সিস্টেম ডেভেলপ করতে হয়। তবে লেখার জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত পড়তে হবে। পড়াটাও হতে হবে পরিকল্পনামাফিক, নিয়মমাফিক ও সার্বজনীন। চিন্তার জগতকে উন্মোচিত করতে হবে। বিষয়টি এরকম "Think first, Think fast"। পাঠকের মনস্তত্ত্ব বুঝতে হবে। লেখাকে পাঠকের জন্য সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয় করতে হবে। আমরা যান্ত্রিক যুগে বাস করছি তাই লেখাকে সাবলীল, সংক্ষিপ্ত ও প্রামাণ্য করতে হবে। মেডিকেল শিক্ষার্থী যারা লিখতে চায় তাদেরকে স্বাগত জানাই। আপনারা জাতির মাখন, ঘি, পনিরের মত। একাডেমিক পড়ালেখাকে বাইপাস করে নয়, সাযুজ্য রেখে লেখালেখি করুন। প্রকৃতিতে লেখার অনেক উপাদান আছে। মেডিকেল শিক্ষার্থী বলেই যে শুধু স্বাস্থ্য বিষয়কক বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লিখতে হবে তা নয়। যা মন চায় লিখুন। নিজের লেখা নিজেই শতবার রিভিউ করুন, দেখবেন লেখা ম্যাচিউর হবে।

ব্যক্তি ডা. মো. আজিজুল হাকিম কেমন?
-ব্যক্তি আমি কেমন এটা বললে তো নিজের ঢোল নিজেই পেটানো হবে। এটুক বলতে পারি আমি একজন পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মানুষ, ষড়রিপুর মানুষ, দোষ-গুণে মানুষ, রক্ত-মাংসে মানুষ।

আপনার জন্ম, শৈশব, পড়ালেখা?
-জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো। বেড়ে উঠা বগুড়ায়। বিদ্যা কুড়িয়ে রুটির যোগ চাঁটগা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে স্নাতক অর্জন করেছি। শৈশবে বগুড়া জিলা স্কুল আমাকে ঋদ্ধ করেছে। বগুড়া আযিযুল হক কলেজে হয়েছে কৈশোরপাঠ।

পছন্দ করেন কী কী? 
-অনেককিছুই তো পছন্দ করি। কোনটা ছেড়ে কোনটা বলি। খেটে খাওয়া মানুষদের খুব পছন্দ করি। বিশেষ করে তাদের গ্রন্থিল পেশী। আমার কাছে উৎপাদন ও বিপ্লবের প্রতীক মনে হয়। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছি বলেই হয়ত সারল্য পছন্দ করি। ডাল-ভাত, পান্তা কিম্বা লতাপাতা তাই আমাকে বেশি টানে। একজন বিশ্বাসী হিসেবে মধ্যমপন্থা পছন্দ করি। আরও কত কি!

আর অপছন্দ?
-অপছন্দের তালিকা তেমন দীর্ঘ নয়। যা কিছু অসুন্দর ও অন্যায় তাই আমার অপছন্দ।

আপনার জীবনে স্বপ্ন? 
-কবিরা স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন দেখায়। স্বপ্ন সৎভাবে বেঁচে থাকার। স্বপ্ন কিছু কালজয়ী সৃষ্টি রেখে যাওয়ার। স্বপ্ন পাশবিকতার বিপরীতে মানবিকতার উত্থান ঘটানো।

স্যার, মেডিভয়েস সম্পর্কে  কিছু বলুন!

মেডিভয়েস নামটাই যথার্থ। নামের প্রতি সুবিচার করতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ, দলাদলির উর্ধ্বে মানবতার জন্য কাজ করতে হবে। সার্বজনীন হতে হবে। প্রকাশনা ও সম্পাদনার সাথে কোন কম্প্রোমাইজ করা যাবেনা। শুদ্ধ ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নিজস্ব ধারা ও অবস্থান তৈরি করতে হবে। চিকিৎসক সমাজের ন্যায়সঙ্গত বিষয়গুলোতে সবসময় পাশে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন-শরীফ উদ্দীন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স
জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামান্য অর্জন

আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স