ঢাকা      বুধবার ২১, অগাস্ট ২০১৯ - ৫, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

বাংলাদেশের গাইনী এবং অবসের জীবন্ত কিংবদন্তী

স্বাধীনতা পদক ২০১৭ প্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. টি এ চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত জীবনী

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৭ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য এবার রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মানের এ পদক পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী। গত ২৩ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পদকপ্রাপ্তদের হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মেডিভয়েস পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী স্যারের জীবন ও কর্ম নিয়ে চুম্বক অংশ তুলে ধরছি এ লিখাটিতে। লেখাটি তৈরি করেছেন মাহমুদ ইবনে মাহফুজ। 

বাংলাদেশে গাইনোকোলজী এবং অবসটেট্রিক্সের প্রবাদতুল্য পুরুষ ডা. তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী ১০ অক্টোবর, ১৯৩৭ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে তিনি ১৯৬০ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলে গাইনোকোলজীতে অনার্স মার্কসহ প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি লাহোরের কিং এডওয়ার্ড কলেজ থেকে প্রাথমিক এফআরসিএস শেষ করার পর সরকারী বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ডে যান এবং গাইনোকোলজী ও অবসটেট্রিক্সকে বিশেষ বিষয় হিসেবে নিয়ে 'রয়েল কলেজ অব সার্জনস অব এডিনবার্গ' থেকে এফআরসিএস ফাইনাল পার্ট সম্পন্ন করেন। এবং তিনি প্রথমবারের চেষ্টাতেই 'রয়েল কলেজ অব অবসটেট্রিশিয়ান এ্যান্ড গাইনোকোলজিস্ট' থেকে ১৯৬৫ সালে MRCOG পরীক্ষায় পাশ করেন।

অধ্যাপক তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী একজন বিখ্যাত শিক্ষক এবং চিকিৎসাবিদ। ইংল্যান্ড থেকে ফিরেই তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ছয় বছর চাকুরী করার পর তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে বদলী হন এবং সেখানে সহযোগী অধ্যাপক ও পরবর্তীতে অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি তৎকালীন 'ইন্সটিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন এ্যান্ড রিসার্চে' (IPGMR) ১৯৯৪ সালে সরকারি চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত অবস. এ্যান্ড গাইনোকোলজীর অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি অবসর গ্রহণের সাত বছর আগে থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বারডেমে অবস. এ্যান্ড গাইনোকোলজী বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।

বাংলাদেশে স্নাতকোত্তর শিক্ষা বিস্তার ও পরিচালনায় পথপ্রদর্শক এই মহান চিকিৎসক 'অবস. এ্যান্ড গাইনোকোলজী সোসাইটি বাংলাদেশে'র প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। তিনি এই সোসাইটির প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।তিনি 'বাংলাদেশ পেরিনেটাল সোসাইটি' এবং 'ফার্টিলিটি এ্যান্ড স্টেরিলিটি বাংলাদেশ' এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্টও তিনি। তিনি 'এশিয়া এ্যান্ড ওশেনিয়া ফেডারেশন অব অবস. এ্যান্ড গাইনোকোলজী'র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং 'সাউথ এশিয়া ফেডারেশন অব অবস. এ্যান্ড গাইনোকোলজী'র প্রেসিডেন্ট হিসেবেও কাজ করেন তিনি।

পরপর ২০ বছর তিনি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ানস এ্যান্ড সার্জনস (BCPS) এর কাউন্সিলর হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

তিনি অসংখ্য সায়েন্টিফিক পেপার প্রকাশ করেছেন এবং প্রচুর দেশী -বিদেশী জার্নালের সম্পাদনা পরিষদে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি 'বাংলাদেশ জার্নাল অব অবস. এ্যান্ড গাইনোকোলজী'র সম্পাদনা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

দেশে এবং বিদেশে অসংখ্য সংগঠন তাকে সম্মাননা প্রদান করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করায় তিনি 'ATCO গোল্ড মেডেল' এবং নেপালে পোস্ট গ্রাজুয়েট জনশক্তি বৃদ্ধিতে অবদান রাখায় নেপালের রাজা কর্তৃক সর্বোচ্চ নাগরিক পুরষ্কার 'গোর্খা দক্ষিণ বাহু গোল্ড মেডেল' লাভ করেন।

তার প্রাপ্ত অন্যান্য পুরষ্কারের মধ্যে রয়েছে সামাজিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য রোটারী গোল্ড মেডেল, 'অবস. এ্যান্ড গাইনোকোলজী সোসাইটি বাংলাদেশে'র আজীবন সম্মাননা স্মারক এবং 'সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অবস. এ্যান্ড গাইনোকোলজী'র প্রেসিডেন্ট পদক।

ব্যক্তিগত জীবনে অধ্যাপক ডা. তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী বিবাহিত এবং তিন কন্যা সন্তানের জনক, যারা প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 

আরো সংবাদ











NOVO Healthcare and Pharma Ltd

হোম পেইজের ডানদিকে নোটিশ বোর্ড ক্যাটাগরির উপরে | এই বিজ্ঞাপনের সাইজ (ওয়াইড ফিক্সড : ৩৭৪ পিক্সেল )

জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর