২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ১০:৫৪ এএম
নদী-খালে বাড়ছে বিষাক্ত বর্জ্য, সেন্ট্রাল ইটিপি চালুর দাবি

সাভারে জনস্বাস্থ্যের জন্য নয়া হুমকি ট্যানারি!

সাভারে জনস্বাস্থ্যের জন্য নয়া হুমকি ট্যানারি!

রাজধানীর অদূরে সাভার উপশহরসহ এর চারপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলো আজ চরম দূষণের কবলে। কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে এখানে যেন বিশুদ্ধ বাতাস নেই। নদীর পানি যেন বিষ। ফলে এর ওপর নির্ভরশীল এ অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর সার্বিক স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি আজ বিপন্ন। বিভিন্ন শিল্প-কারখানার বর্জ্যের সাথে এখন সাভারে নতুন করে যোগ হয়েছে ট্যানারির বর্জ্য। ট্যানারিতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার চালু না থাকায় কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীর পানিতে গিয়ে পড়ছে। বাড়ছে নদী দূষণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্যানারির বর্জ্য এখন এ উপজেলার জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, নির্গত শিল্প বর্জ্যের কারণে নদী-জলাশয়গুলো মারাত্মকভাবে দূষণের কারণে ৫০ লাখ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এ জনপদের অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত। এছাড়া ইট ভাটা ও যানবাহনের কালো ধোঁয়া এলাকার পরিবেশকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিষাক্ত বর্জ্যে নদ-নদীর পানির স্বাভাবিক রঙ পাল্টে গেছে। দেখা দিয়েছে মাছের মড়ক। বর্জ্যের বিষক্রিয়ায় আবাদি জমির ফলনও অনেকগুণ কমে গেছে।

ইতিমধ্যে ধলেশ্বরী নদীকে ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে বুড়িগঙ্গার মতো দূষিত হতে দেওয়া হবে না­— এ দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সাভার উপজেলা মিলনায়তনে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংস্থা গণশুনানির আয়োজন করে।

সেখানে বলা হয়, ঢাকা শহর ও বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণ মুক্ত রাখার জন্য হাজারীবাগ থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে এবং উজানে এ রকম একটি পচনশীল চামড়া শিল্প নগরী স্থাপনের সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি। সাভার ট্যানারি শিল্পের বর্জ্যে যেন ধলেশ্বরী নদী এবং সংযুক্ত বংশী, কর্ণতলী খাল দূষিত না হতে পারে এবং সাভারের পরিবেশ যাতে হাজারীবাগের মতো বিপন্ন না হয় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চল শিল্প এলাকা হিসেবে গড়ে উঠেছে। মিল, কল-কারখানার নির্গত বিষাক্ত বর্জ্যে এ অঞ্চলের পরিবেশ এমনিতেই বিষময়। জনস্বাস্থ্য, মত্স্য সম্পদ, কৃষি ভূমিসহ সার্বিক পরিবেশ আজ বিপন্ন। এর ওপর এ অঞ্চলে ট্যানারি শিল্প নতুন করে জনস্বাস্থ্যের জন্য দারুণ হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এ ব্যাপারে সচেতন নাগরিক কমিটির সাভার শাখার সাবেক সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাল আবেদীন খান বলেন, সাভার উপশহরে মিল ফ্যাক্টরি থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্য দূষণের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিপূর্বে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও জনপ্রতিনিধিরা কারখানার মালিকদের কাছে দূষণরোধের জন্য আবেদন জানালেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

পরিবেশ বাঁচাও (পবা) আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবহান বলেন, হাজারীবাগে ট্যানারির বর্জ্যের কারণে বুড়িগঙ্গা আজ দূষিত। তাই আমরা বারবার দাবি করেছি সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর করার আগে তরল ও কঠিন বর্জ্য পরিশোধনের জন্য সেন্ট্রাল ইটিপি চালু করতে হবে। এটা সরকারের দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন, ট্যানারির উজানে আরো অনেক টেক্সটাইল ও ডাইং কারখানা রয়েছে। তাদেরও ইটিপি নিশ্চিত করতে হবে। বুড়িগঙ্গার মতো ধলেশ্বরী, বংশীও যাতে দূষিত না হয় তার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। 

এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু নাসের বেগ জানান, সাভার উপশহরে যে কোনো মূল্যে পরিবেশ দূষণ রোধ করা হবে। যেসব কারখানা কর্তৃপক্ষ ইটিপি চালু করেনি বা অন্য কোনোভাবে পরিবেশ দূষণ করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মো. আলমগীর বলেন, সাভার চামড়া শিল্প  নগরীর ৩৫টি কারখানা ইটিপির মাধ্যমে বর্জ্য পরিশোধন করতে পারছে না। ফলে ওই কারখানাগুলোর বিষাক্ত বর্জ্য ধলেশ্বরী নদীতে পড়ছে। এছাড়া সাভারের অন্যান্য অধিকাংশ কারখানায় ইটিপি থাকলেও রাতে তা বন্ধ থাকে। তিনি বলেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত