বুলবুল সরওয়ার

বুলবুল সরওয়ার

চিকিৎসক,কবি ও সাহিত্যিক


১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ০৯:৩৪ পিএম
বইমেলা-২০১৭

লেখক হতে হলে সামগ্রিকভাবে নিষ্ঠা বেশি থাকতে হবে: বুলবুল সরওয়ার

লেখক হতে হলে সামগ্রিকভাবে নিষ্ঠা বেশি থাকতে হবে: বুলবুল সরওয়ার

এবারের বইমেলায় আপনার নতুন প্রকাশিত বইগুলো সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।

এবারে ৬টি নতুন বই বেরিয়েছে তার মধ্যে 'স্বপ্নভ্রমণ-জেরুসালেম' সবচেয়ে বড় কাজ। এছাড়া ঢাকা শহর নিয়ে একটা উপন্যাস বেরিয়েছে 'মহানগরী' যা বেরিয়েছে মনদুয়ার প্রকাশনী থেকে, বলাকা প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে 'প্রণয়পঙক্তি' নামে কবিতার বই আর জয়ন্তি থেকে বেরিয়েছে একটি প্রবন্ধের বই 'শিল্প ও কবিতা'। এছাড়া জয়ন্তি প্রকাশনী থেকেই আরেকটি বই আসছে রুবাইয়্যাতে বুলবুল। আর ’রুবাইয়্যাত’ আমার ৯০ সালে 'ঝিলাম নদীর দে্শে' এর সাথে প্রকাশিত হয়েছে। সেই বইটির পঞ্চম সংষ্করণ আসলো ঐতিহ্য থেকে।

স্যার এ পর্যন্ত আপনার মোট কতটি বই প্রকাশিত হয়েছে?

৫৫টি সাহিত্যের বই। আপনারা জানেন আমি পেশায় চিকিৎসক। আমার মেডিকেল সম্পর্কিত বই আছে ২৯টি৷ সেগুলো সব একাডেমিক বই।

আপনার প্রথম প্রকাশিত বই কোনটি?

প্রথম প্রকাশিত বই 'ঝড় আসুক বৃষ্টি আসুক'। কবিতার এ বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে এরপর থেকে অবশ্য কবিতা খুব বেশি লিখিনি। যদিও এ বছর দুটো কবিতার বই বের হয়েছে।

প্রথম বই প্রকাশিত হওয়ার সময়ের অনুভূতি কেমন ছিল?

আসলে এখনকার সময়ের বই প্রকাশ আর আশির দশকে বই প্রকাশ এক রকম ছিল না। তখন কিন্তু প্রকাশকরা লেখকদের খুঁজে খুঁজে বের করতেন।তারা দেখতেন কে কে ভালো লিখছেন, কোন তরুণের লিখা প্রকাশ করা যায় এবং কাদের লেখার পাঠক আছে। সেভাবেই প্রকাশকরা আমাদের খুঁজে বের করেছেন। আমরা বহু কষ্ট করে একেকটা পান্ডুলিপি করতাম। প্রতিটি কবিতা কতো ভাবে কত লাইন যেতে পারে৷ মুখস্ত ছিল যে, চওড়ায় কতটুকু হবে, কত শব্দ যেতে পারে এবং লম্বায় একটা পৃষ্ঠায় কত লাইন আসতে পারে৷ সে অনুযায়ীই পান্ডুলিপি তৈরী করতাম৷ সেখান থেকেই ভালো একটা ধারণা তৈরী হয়ে যেত যে, লেখাকে কিভাবে সুন্দর করে উপস্থাপন করা যায়। সে দিনগুলো এখন আর নাই। সেইসব প্রকাশকরাও মারা গেছেন। আমার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় প্রকাশক মারা গেছেন, চতুর্থ প্রকাশক বেঁচে আছেন। তাঁদের কাছে আমি অনেক ঋণী। প্রকাশনা আধুনিকায়নের অনেক কিছুই আমার তাদের কাছ থেকে শেখা।

স্যার, আপনার লেখালেখি শুরুটা কিভাবে?

আমার লেখালেখিটা মূলত পারিবারিক উৎসাহে শুরু হয়।আমি যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ি তখন থেকেই আমার লেখা নিয়মিত জাতীয় দৈনিক এবং সাপ্তাহিক পত্রিকায় ছাপা হতো। আর আপনি তো বুঝতে পারছেন আগের দিনে একজন লেখককে বই প্রকাশ করতে হলে আগে পত্রিকাগুলোতে লিখে একটা অবস্থান তৈরী করে নিতে হতো। হুট করে এসেই বই প্রকাশ করা সম্ভব ছিল না।তাই আমাদের প্রত্যেককেই তখন লেখক হিসেবে জাতীয় স্বীকৃতি পেতে হতো৷ ইত্তেফাক, ইনকিলাব, সংবাদ, সংগ্রাম এসব পত্রিকায় আমি নিয়মিত লিখেছি।

কোন পত্রিকায় আপনার লেখা প্রথম প্রকাশিত হয়?

একটু কনফিউশন আমার নিজেরই হয়৷ আমি যখন স্কুলে পড়ি তখন দৈনিক আযাদে একটি লেখা প্রকাশিত হয়। লেখাটি আমার সংগ্রহে নেই তবে মনে আছে৷ এর পরবর্তীতে আরেকটি লেখা ইত্তেফাকে ছাপা হয়। এ দুটোই ছোটদের লেখা৷

স্যার, আপনার ব্যস্ত চিকিৎসক জীবনের সাথে লেখক জীবনের সমন্বয় কিভাবে ঘটান?

একটাই কারণ যে, আমি চিকিৎসা পেশাটিকে বাণিজ্যিকভাবে মূল্যায়ন করিনি৷ আমার পছন্দও হয় না।আমি প্রোফেশনাল কিন্তু কমার্শিয়াল না। আমি কিছু সময় ভাগ করে নিয়েছি লেখালেখির জন্য, পড়াশুনার জন্য। এটা আমি বরাবরই করেছি এবং এখনো করি।


যারা নতুন করে লেখালেখিতে আসতে চায়, বিশেষ করে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা; তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?

আমার ধারণা, সত্যিকারের মেধাবী ছেলেমেয়েরাইতো ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে৷ অবশ্যই তারা এ জগতে আসবে এবং আসা উচিতও।তবে লেখালেখির প্রস্তুতি পর্বটা শক্ত হওয়া দরকার। এ ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই যে মেডিকেল কলেজের ছেলেরা সাহিত্য চর্চায় নিষ্ঠাবান হলে অনেক ভালো অবস্থান তৈরী করতে পারবে। আমাদের দেশে অনেক বড় সাহিত্যিক আছেন এবং ছিলেন যারা পেশাগত জীবনে চিকিৎসক ছিলেন৷ সেই বনফুল থেকে শুরু করে বর্তমান সময়েও অনেককে পাবেন। আসলে পেশা কোন বিষয় নয় সামগ্রিকভাবে নিষ্ঠাটা বেশি থাকতে হবে।

বই প্রকাশে বা লেখালেখির জীবনে কি ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখিন হতে হয়েছে?

আমাদের অনেকেই বিভিন্ন কাজে সততার পরিচয় রাখতে পারি না। এটি সম্ভবত আমাদের জাতীয় চরিত্রের সমস্যা। তাই লেখককে সৃজনশীল লেখালেখির বাইরেও অনেক বাস্তভতার মুখোমুখি হতে হয়। তাই পুরনো লেখকদেরও কিন্তু প্রতিকুলতার মুখোমুখি হতে হয়। হুমায়ন আহমেদও একটি বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এটা খুব খারাপ। অনেক ভাগ্যবান লেখক হয়ত তুলনামুলক কম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন।

তবে নতুন লেখকরা চাইলে এই প্রতিকূলতা কিছুটা অতিক্রম করতে পারেন যদি তারা শুরুটা খুব শক্তিশালীভাবে লেখক জীবনটা শুরু করেন৷ তার লেখা যদি সবদিক থেকে মানোত্তীর্ণ হয় এবং লেখালেখির ব্যাপারে যদি তিনি ব্যক্তিত্বের সাথে শক্ত অবস্হানে অটল থাকেন তাহলে আমার ধারনা কয়েক বছর কষ্ট করার পর তিনি ঠিকই তার জায়গাটা করে নিতে পারবেন।

আপনার পেশাগত জীবন সম্পর্কে জানতে চাই।

আমি পাবলিক হেলথ স্পেশালিস্ট। আমি কমিউনিটি মেডিসিন এর অধ্যাপক এবং আমি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছি৷ এটাই আমার পেশাগত জীবন। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল সহ বাংলাদেশের সরকারী, বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একেবারে অজপাড়া গাঁ হতে শুরু করে প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের সব সেক্টরে, মিডিল কেয়ারের সেন্টারে এবং জাতীয় পর্যায়েও কাজ করার সুযোগ হয়েছে।

ব্যক্তি বুলবুল সরওয়ার কেমন মানুষ?

এটা তো বলা কঠিন। আমাকে মানুষ কিভাবে দেখে এটাতো আমি বলতে পারব না। একটা মানুষকে ব্যক্তিগত নীতিবোধ, মূল্যবোধের উপর চলে যেভাবে একটা সভ্য জগতের নাগরিক হিসাবে জীবন-যাপন করতে হয় আমি সেভাবেই চলছি।

আপনার জন্মস্হান, পড়ালেখা?

১৯৬২ সালে গোপালগঞ্জ জেলায় আামার জন্ম। আমি গ্রামের স্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেছি। ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছি। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করেছি।তখন বিএসএমএমইউ ছিল না। তারপর উচ্চশিক্ষা নিয়েছি মিশরের কায়রো থেকে। পিএইচডি করেছি বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ?

ভ্রমন করতে ভালোবাসি, কফি খেতে পছন্দ করি, আড্ডা দিতে পছন্দ করি, রিকশা পছন্দ করি, বন্ধুবান্ধবদের পছন্দ করি। এগুলি ব্যক্তিগত পছন্দ৷ আর অপছন্দ বলাটা কঠিন। মানুষের তাৎক্ষণিতা, ইর্ষা এগুলো খারাপ লাগে৷

সামনের পরিকল্পনা কি?

আমি উপন্যাসে খুব কম কাজ করি৷ আগামী বছর থেকে উপন্যাসে বেশি সময় দিব৷ আর আমি ভ্রমণ সাহিত্য আমি আমার নিজস্ব ধারনাতে লিখি৷ আমি সেটাকে জারি রাখব।

আপনি সাহিত্যের কোন বলয়ে কাজ করতে বেশী পছন্দ করেন?

আমি সব ক্যাটাগরীতে কাজ করার চেষ্টা করছি৷ আসলে কোথায় স্বার্থকতা পাওয়া যাবে সেটাতো বলা কঠিন।তবে গদ্য সাহিত্যে আমি আমার শক্তি বেশি প্রকাশ করতে পারি।

মেডিভয়েস সম্পর্কে কিছু বলুন?

এ উদ্যোগটা ভালো। আমাদের চোখের সামনে 'সন্ধানী' গড়ে উঠেছে। যে কোন শুভ কাজ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হওয়া ভালো। তবে রবীন্দ্রনাথের ঐ কথাটা আমি বলতে চাই যে, আমরা সব কিছুই শুরু করতে পছন্দ করি কিন্তু কোনো কিছুই শেষ করি না। মেডিভয়েসের ক্ষেত্রে যাতে এমনটা নাহয়, মেডিভয়েস যেন এগিয়ে যায় এই প্রত্যাশা রাখি এবং এর উত্তরোত্তর উন্নতি প্রত্যাশা করি।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন: অনির্বাণ আবরার, ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন

 

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স
জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামান্য অর্জন

আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স