ডা. আব্দুন নূর তূষার

ডা. আব্দুন নূর তূষার

সিইও, নাগরিক টিভি

সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

 


১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ০৩:১৩ পিএম

আসুন এমন কিছু করি যাতে উপার্জন নাই, অর্জন আছে

আসুন এমন কিছু করি যাতে উপার্জন নাই, অর্জন আছে

প্রিয় আরিফ আর হোসেন আমাকে “বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ” এ অন্তর্ভুক্ত করেছে।

তালিকার বাকি নামগুলির আমি ভক্তকূলের একজন।

- মাশরাফি বিন মর্তুজা
- ইরেশ জাকের
- তাহসান খান
- মোস্তফা সারোয়ার ফারুকি
- আইয়ুব বাচচু

তাই এই তালিকায় নিজেকে মেলাতে পারছিলাম না।
আমি এদের কাজে এমন মুগ্ধ , এবং এরা এতই ভালো যে, তাদের পাশে আমি খুবই নগন্য।

ব্র্যান্ড ফোরামের শরীফ ও আরিফ চায়, আমাদের এমন কিছু একটা প্রতিজ্ঞা করতে হবে যেটা আগামী প্রজন্মকে দেশ গঠনে, আরও প্রেরণা দেব ও সহজতর করবে।

সময়টা ১৯৮৯। দেশজুড়ে আমার আর আমার বন্ধুদের জনপ্রিয়তা। আমরা টেলিভিশনে বিতর্ক করি। আবার কেউ কেউ রাজনীতিও করি। আমি ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র তখন। পড়াশোনা, ছাত্ররাজনীতি, টেলিভিশন কু্ইজ ও বিতর্কে ভালো করার কারনে নানাভাবে মানুষ আমাকে চেনে।

৯০ সালের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ামত ইলাহী, বিরুপাক্ষ পাল , ঢাকা মেডিকেল থেকে আমি , বুয়েট থেকে শাফকাত রাব্বী শাকিল, নটরডেম থেকে মাহমুদ ওয়াহিদ , ভিকারুন্নেসা থেকে কাজরী.. আমরা নিয়মিত একত্রিত হতে শুরু করলাম। আমাদের লক্ষ্য একটা বিতর্ক সংগঠন তৈরী করা।

কারন খুব সাধারন। ঢাকা শহরেই বিতর্ক হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গুটিকয়েক এলিট কলেজ ও স্কুল এ বিতর্ক ক্লাব আছে। আমরা চাইলাম দেশের সব স্কুল ও কলেজে শৈশব ও কৈশোর থেকে বিতর্ক চর্চার মধ্য দিয়ে সুন্দর ভাষায় যুক্তি দিয়ে কথা বলার চর্চা ও সহনশীলতার সাথে অন্যের কথা শোনার পরিবেশ তৈরী করতে হবে।

সাথে হবে বই পড়ার অভ্যাস। সেখান থেকে কুইজ, সাধারন জ্ঞান, দেশ ও বিশ্বকে চেনা। বিসিএস পরীক্ষার গাইড পড়ে সাধারন জ্ঞান নয়, আসল সাধারন জ্ঞান।

১৯৯১ সালে আমরা সেই সময়ের সকল নামকরা তার্কিকদের একসাথে করে সংগঠিত করলাম , বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন। ১১৯০ সাল থেকেই বাংলাদেশের সকল প্র্রান্তে, বিতর্কশিক্ষার জন্য কর্মশালা , সেমিনার, প্রতিযোগিতায় গিয়েছি। কোন মূল্যের বিনিময়ে না।

হাতিয়া গিয়েছিলাম ট্রলারে। ডুবলে মৃত্যু সুনিশ্চিত। কোন লাইফ জ্যাকেট ছিল না। সাঁতরে শেখানে ভেসে থাকা অসম্ভব। মাঝি আমাকে বলে, আল্লাহর নাম নেন। আমি চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকলাম গলুই এর উপর। সাথে যতন, যে এখন মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষক। রাজেন্দ্র কলেজের হোস্টেলের চৌকিতে ছাত্রসংসদের সাধারন সম্পাদক, ছাত্রলীগের অনিমেষের ঘরে মশারী ছাড়া বিরাট বিরাট মশার কামড়ে লাল হয়েছি, পরদিন বিতর্কের ক্লাস নেব বলে। টি এস সির সিংগাড়া খেয়ে সারাদিন বিতর্কের কাজ করেছি। পকেটের ৪০ টাকা দিয়ে সবাইকে খাইয়ে হেঁটে বাড়ী ফিরেছি।

ডিবেট ফেডারেশন এই মাসে তার দশম জাতীয় বিতর্ক উৎসব করবে। সংগঠনটির বয়স ২৬ বছর। এখনো চলছে, আমিও আছি।

প্রথম কোন আন্তর্জাতিক বিতর্কে ব্রেক করা, ইনভিটেশনাল ডিবেটে বেস্ট ই এস এল, ওয়ার্ল্ড স্কুল ডিবেটে ১৯৯২ সালে প্রথম বাংলাদেশ এর দল পাঠানো, কত স্মৃতি।

তারপর বন্ধুসভা। রওশন ভাই জানেন বন্যার পরে রমজান মাসে ইফতার করেছি রাস্তায়। তাঁতীদের জন্য সুতা আর স্কুলের বেঞ্চ নিয়ে যাত্রা করেছি মকসুদপুর, আর পঞ্চগড়।

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আমার যতো কাজ তার পুরোটা স্বেচ্ছাসেবা। আমি কেন্দ্রের কোন পদে ছিলাম না কখনো। এইচ এস সি তে ফিজিক্স পরীক্ষার আগের রাতে ৩৫০ টা সার্টিফিকেট লিখেছি। আমার হাতের লেখা সায়ীদ স্যারের পছন্দ তাই। মোট লিখেছিলাম প্রায় ৪০,০০০ সার্টিফিকেট। যেদিন থেকে কেন্দ্র সার্টিফিকেট লিখলে পয়সা দেয়, সেদিন থেকে লেখা বাদ দিয়েছি।

ডাক্তারী করে কখনো পয়সা নেই নাই। হাইপারটেনশন সেন্টারের হয়ে অবৈতনিক কাজ করি। লক্ষ্য একটি স্ট্রোক হাসপাতাল গড়ে তোলা।

কোন চ্যারিটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় সম্মানী নেই নাই।

আমি আমার জীবনে যত সময় স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করেছি তার কিছুটা দিয়ে পয়সা কামানোর চেষ্টা করলে, এখন বৃহৎ ধনীদের একজন হতাম। আমি বাবার ব্যবসা করি নাই। নিজের মিডিয়া কোম্পানী থেকে বানিয়েছি কুইজের অনুষ্ঠান । নাটক বানালে লাভ হবে জেনেও নাটক না বানিয়ে বানিয়েছি নন ফিকশন। লস করেছি অন্যরকম লাভের আশায়।

তাই নতুন করে কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।

অামি চ্যালেঞ্জটা নিলাম।

যতদিন বাঁচবো এভাবেই কাজ করে যাবো। সবাই সুন্দর ভাষায় কথা বলবে, বাংলাভাষার চর্চা করবে। পরমতসহিষ্ণু হবে। উদার হবে, মানবিক হবে। দেশটাকে নিরাপদ রাখবে।

এটাই আমার চ্যালেঞ্জ।

এবার আমার বিভিন্ন বয়সী বন্ধুদের পালা।

আসুন এমন কিছু করি যাতে উপার্জন নাই, অর্জন আছে।

Gousul Alam Shaon
Salman Muqtadir
Masuma Rahman Nabila
Aman Ashraf Faiz
Bulbul Hasan
Solaiman Shukhon
Naveed Mahbub

এর বাইরে আমার বন্ধু তালিকায় সবাইকে বলি...

আসুন এমন কিছু করি যাতে উপার্জন নাই, অর্জন আছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কৈফিয়তনামা

ভুল কাজ করে, ভুল কথা বলে সরকারকে বিব্রত করবেন না

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কৈফিয়তনামা

ভুল কাজ করে, ভুল কথা বলে সরকারকে বিব্রত করবেন না

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না