১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ১২:৫৬ পিএম

৫৮ কোটি বার সেবা দিয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক : স্বাস্হ্যমন্ত্রী

৫৮ কোটি বার সেবা দিয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক : স্বাস্হ্যমন্ত্রী

প্রতিষ্ঠার পর ৫৮ কোটি বার সেবা দেয়া হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে। গতকাল সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে দৈনিক ৩৮ নারী-শিশু ও পুরুষকে সেবা দিয়েছে। গ্রামীণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটি ক্লিনিক বিশাল অবদান রাখলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের চাকরি এখনো রাজস্ব খাতে যায়নি সরকারিভাবে আশ্বাস দেয়ার পরও। 

সারা দেশের গ্রামপর্যায়ে ১৩ হাজার ৩৬৯টি কিনিক বর্তমানে চালু রয়েছে। গত দুই বছরে এ কিনিক থেকে সেবা নেয়ার সংখ্যা বেড়েছে ২০ কোটি বার। ২০১৫ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৩৮ কোটি বারেরও বেশি ভিজিটের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণ কমিউনিটি কিনিকের সেবা গ্রহণ করেছে।

২০১৫ সালে সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশনে সচেতনতামূলক ধারাবাহিক নাটক, পিএসএ বা টিভি স্পট সম্প্রচারে ভিজিটের এ সংখ্যা প্রচার করা হয়েছিল। এমনকি এ সম্পর্কিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচার করা হয়। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গতকাল সচিবালয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম আরো গতিশীলের নির্দেশ দেন। একইসাথে গ্রামপর্যায়ের সরকারি এ সেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরো দক্ষতার সাথে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি কমিউনিটি ক্লিনিক-সংক্রান্ত সেবার অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় উপরি উক্ত নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এখান থেকে ৯৫ লাখ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

সভায় তিনি বলেন, এমডিজি ৪ ও ৫ অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের নেপথ্যে কমিউনিটি ক্লিনিকের অবদান ব্যাপক। বিশেষ করে গ্রামের মা ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে এসব কিনিক যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, কমিউনিটি কিনিকের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) সমস্যা সমাধানে আন্তরিক।

সরকার সিএইচসিপিদের ইন্টারনেট সমৃদ্ধ ল্যাপটপ দিয়েছে, যাতে গ্রামের স্বাস্থ্য তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষিত করার সুযোগ হয়। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কমিউনিটি কিনিকের কার্যক্রমে গতি আনার নির্দেশ প্রদান করলেও কমিউনিটি কিনিক হেলথ কেয়ার প্রভাইডার চাকরি জাতীয়করণের কোনো নির্দেশনা দেননি বলে জানা গেছে। সভায় তিনি সিএইচসিপিদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতার কথা বললেও ১৩ হাজার ৩৬৯ সিএইচসিপিদের চাকরি রাজস্ব খাতে নেয়া হবে কি না কিংবা কবে নাগাদ হবে এ সম্বন্ধে কোনো কথা বলেননি। 

দীর্ঘদিন থেকে সিএইচসিপিরা আন্দোলন করে আসছেন তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নিতে; কিন্তু তা আশ্বাসের মধ্যেই আটকে আছে বলে জানিয়েছেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রভাইডারদের একজন নেতা। 
২০১২ সাল থেকে সিএইচসিপিদের চাকরি জাতীয়করণের আলোচনা শুরু হয়।

এ পরিপ্রেেিত ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সালমা ছিদ্দিকা মাহাতাব, একই বছর ২৯ জুলাই প্রকল্প পরিচালক ডা: মাখদুমা নার্গিস এবং ১৯ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতরের তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) ডা: মো: শাহনেওয়াজ সিভিল সার্জনদের চিঠি দিয়ে চাকরি জাতীয়করণের বিষয়টি জানান।

২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ডা: মাখদুমা নার্গিস সিভিল সার্জনদের সিএইচসিপিদের জন্য চাকরির বই খুলতে চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘রিভাইটালাইজেশন অব কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কর্মরত সিএইচসিপিদের চাকরির বই খুলে তাদের যোগদানের তারিখ ও নৈমিত্তিক ছুটি ছাড়া সব ধরনের ছুটি মঞ্জুরির আদেশ অনুযায়ী চাকরি বইতে লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ করেন।

চাকরি রাজস্বকরণ হবে বলে সারা দেশের সিএইচসিপিদের নামে সার্ভিস বুক ও এসিআর ফরম খোলা হয়। তারপর এ প্রক্রিয়া থমকে যায়। ফলে অনেকই হতাশ হয়ে পড়েন।

সূত্রঃ নয়াদিগন্ত

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি