মো. জান্নাতুল নাইম সজীব

মো. জান্নাতুল নাইম সজীব

তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ।


০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ১২:১৬ পিএম

ডাক্তারদের কসাই,দালাল,অমানুষ বলা বন্ধ করুন

ডাক্তারদের কসাই,দালাল,অমানুষ বলা বন্ধ করুন

আজকাল ডাক্তার দের নিয়ে পত্রপত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলাতে এমনভাবে নেগেটিভলি পরিবেশন করা হয় যা খুবই বিব্রতকর। সস্তা আলু পটলের মত যেখানে সেখানে যার তার সাথে ডাক্তার দের কে কসাই,দালাল,অমানুষ ইত্যাদি আখ্যা দেয়া হয়।

বাংলা প্রথম প্রশ্ন পত্রে মাধ্যমিক পরিক্ষার যে স্টিম টি দেয়া হয়েছিল তার পিছনে যে অন্ধকারের গল্প ছিল তা পেশাগতভাবে ইর্ষা মূলক। সামাজিক ভাবে অফিশিয়ালি এবং এবং ডাক্তার সমাজের সর্বাঙ্গ হোয়াইট ওয়াশ করার মত ধুয়ে দিল এই ঘটনার মাধ্যমে,যা নিতান্তই উদ্দেশ্যগত ভাবেই।

আমরা অবশ্যই শিক্ষকদের সম্মান জানাই,আমাদের জাতির পুনঃ গঠনের দাবিদার। কিন্তু শিক্ষক হওয়া বা শিক্ষার পিছনের গল্পটা সবার জানা,কিন্তু একজন ডাক্তার হতে গেলে পুলসিরাত(রুপক অর্থ) সমতুল্য,কাঁটা ময়,দুরন্ত রাস্তা পাড়ি দিতে হয়।

হাজারো আইটেমের ভীড়ে, বোনের বিয়ে,ইদ,পূজা,পহেলা বৈশাখের মত এমন রংমাখা সময়গুলাতে অন্যপেশার বা স্টুডেন্ট রা যখন বদনের ছারকামডাকশন মুভমেন্টের সেল্ফি আপ্লোড দেয়,আমরা তখন দুই মিনিট নিউজফিড স্ক্রল করে তাদের ছবিতে লাইক দিয়ে,অনুভুতির গল্পে চোখ মুছতে মুছতে,আইটেম পড়তে বসি,,এইসব সময় গুলাতে নিন্দুকেরা ত ঠিকই চোখে টিনের চশমা লাগিয়ে কিছুই দেখতে পাইনা।

মেডিকেল শিক্ষাটা কোন "ধর তক্তা মার পেরেক " টাইপের বিষয় না যে সাধারন শিক্ষা পদ্ধতির মত ৪০ টা বহুনির্বাচনী আন্দাজে দাগিয়ে তার মধ্যে ৩০ টা সঠিক হয়ে জিপিএ ৫ পাওয়া না। এরপরেও শুধু যে পড়াশুনা শেষ হলেই খেল খতম বা হাতে হাতে আলাদীনের চেরাগ পেলাম।

চাইলেই টাকা,এমন তা কিন্তু না। এর পর অনন্তকালের কস্ট বরন,যে সময়টা পরিবার,সমাজ তাকিয়ে আছে হয়ত আমরা এইবার ভাগ্য বদলাব,সেই সময়টাই আবার শুরু হয় বিভিন্ন পোস্ট গ্রাজুয়েশন এর জন্য হাড় ভাঙা খাটুনি,বিনা বেতনে কমপক্ষে ৫ বছর,ততদিনে পরিবার বা সমাজ,বিশেষ করে পরিবারে যদি অন্যকোন ডাক্তার না থাকে তাহলে ভুল বুঝতে শুরু করে,পরিবার সময় দেয়া ত দুরের কথা,চিন্তাও করে না।

নিজের একটু বিশ্রামের ফুরছুত নেই,তখন ত আর বাবার কাছে টাকা চাওয়া যায় না,রাত বিরাতে বিভিন্ন হাসপাতালে ক্ষ্যাপ মেরে চালাতে হয় সংসার। জাহান্নাম বা নরকের দর্শন হয়ত পোস্টগ্রাজুয়েশনের সময়ই একবার হয়ে যায়।

ধন্যবাদ দিতে চাই শিক্ষাবোর্ড কে তাদের মনের কথা প্রকাশ করার জন্য,হোক না আমাদের বিরুদ্ধে,এতদিন ভাবতাম এট লিস্ট শিক্ষকরা কথিত হ্লুদ সাংবাদিকদের মত অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী ফরমুলাই চলে না কিন্তু আমার ভুল ধারনার অবসান হইল,আসলে হিংসার উর্ধে কেউ নয়।

শিক্ষকদের উদ্দেশ করে বলতে চাই ভবিষ্যত এ আপনার ছেলে মেয়েকে এই পেশাই আসার জন্য বাধ্যকরবেন না। আমি হলফ করে বলতে পারি মানুষ যতই ডাক্তার দের নিন্দা করুক না কেন চায়ের দোকানে বা গল্পের ছলে,সে যে পেশার মানুষই হোকনা কেন দিন শেষে ঠিকই তার নিজের সন্তান কে বলে "ভালো করে পড় বাবা ডাক্তার হতে হবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত