২৬ জানুয়ারী, ২০১৭ ১২:৪১ পিএম

ফসল উত্পাদনে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বাড়ছে

ফসল উত্পাদনে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বাড়ছে

ফসল উত্পাদনে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করেন সাতক্ষীরার প্রায় ৯৭ দশমিক ৫ ভাগ কৃষক।

গত শনিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘ফস?ল উত্পাদনে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে অবস্থান অনুসন্ধান:প্রেক্ষাপট সাতক্ষীরা’ শীর্ষক মিট দ্য প্রেস অ্যান্ড ডালায়গ নামে একটি অনুষ্ঠানে বার্ষিক ইনস্টিটিউট অব এ্যাপ্লাইড স্ট্যাডিজ (বিয়াস) এ তথ্য উপস্থাপন করেছে।

ওই অনুষ্ঠানে বলা হয়, বৈচিত্র্যপূর্ণ ফসলে ভরপুর সাতক্ষীরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ জেলায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে, যা প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য যেমন হুমকি, তেমনি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। এই কারণে ধ্বংস হচ্ছে মাটির স্বাস্থ্য, নষ্ট হচ্ছে উর্বরতা। কীটনাশক ব্যবহারে সতর্ক না হওয়ায় কমছে কৃষকের জীবনী শক্তি। গবেষণাটি করেছেন বিয়াসের শিক্ষার্থী শেখ তানজির আহমেদ ও আসাদুল ইসলাম।

জেলার পাঁচ উপজেলার ২২ ইউনিয়নে পরিচালিত ওই গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৯ দশমিক ৭ ভাগ কৃষক রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য হুমকি বলে মনে করে।

৪২ দশমিক ৮ ভাগ মানুষ প্রতিনিয়ত ‘কি খাচ্ছেন’ সেটা নিয়ে ভাবেন। ৫৭ দশমিক ২ ভাগ থাকেন নীরব। ৬২ দশমিক ৫ ভাগ কৃষক সীমিত আকারে জৈব সার ব্যবহারের চেষ্টা করেন। ৫৫ ভাগ উত্পাদনকারী কীটনাশক ব্যবহারের সময় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয় না।

১৯ দশমিক ৭ ভাগ কৃষক বিভিন্ন মাধ্যমে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ পেয়ে থাকেন। ৮০ দশমিক ৩ ভাগের কাছে কোনো পরামর্শই পৌঁছায় না।

গবেষণাপত্রে ক্রমান্বয়ে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারে উত্সাহিতকরণ, প্রত্যেক কৃষি পরিবারে কেঁচো কম্পোস্টসহ জৈব সার তৈরিতে কারিগরি সহায়তা, রাসায়নিক সারের উপর ভতুর্কি কমিয়ে জৈব সার উত্পাদন ও ব্যবহারে ভর্তুকি প্রদান, কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব প্রচার, কীটনাশক কোম্পানির অপতত্পরতা ও কীটনাশক বিক্রি নিয়ন্ত্রণে আনা, ভেজাল সার ও ভেজাল কীটনাশক উত্পাদন ও বিক্রি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভেজাল রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অনুপ্রবেশ বন্ধ করা, কৃষকদের সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত ফসল ব্যবস্থাপনায় উত্সাহী করে তোলা, কৃষকদের একেক মৌসুমে একেক ফসল ফলানোয় উদ্বুদ্ধ করাসহ বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়।  

সূত্রঃ ইত্তেফাক।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত