২২ জানুয়ারী, ২০১৭ ১২:৪৬ পিএম

‘চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন, নয় হত্যার অনুমতি দিন’

‘চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন, নয় হত্যার অনুমতি দিন’

হয় চিকিত্সার সুব্যবস্থা করুন, নয়তো বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করে মেরে ফেলার অনুমতি দিন। আমি আর পেরে উঠছি না। বাবা হয়ে দুই ছেলে আর নানা হয়ে নাতির অসহায়ত্ব দেখে আত্মহত্যা করতেও পারছি না। তাদের চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে গিয়ে এখন ভিখারি।

আর কত দিন চলতে হবে এভাবে? এমন আকুতি জানিয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন জানিয়েছেন শহরের ফল ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল হোসেন। তার বাড়ি শহরের বেড়পাড়া এলাকায়। জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে মানবিক আবেদনটি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খায়রুল হাসান। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় পরিবারটিকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের নিয়মিত চিকিত্সার ব্যবস্থা করে।

আবেদনকারী তার আবেদনপত্রে বলেছেন, তার স্ত্রী একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। তার দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে আবদুস সবুরের বয়স ২৪ বছর। আর ছোট ছেলে রায়হানুল ইসলামের বয়স ১৩ বছর। দুটি ছেলেই দুরারোগ্য ব্যাধি ‘ডুফিনি মাসকুলার ডেসট্রোফি’ রোগে আক্রান্ত।

আবার একমাত্র নাতি সৌরভ (৮) ওই একই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বড় ছেলের বয়স যখন আট বছর তখন সে এ রোগে আক্রান্ত হয়। ছোট ছেলেটিও একই বয়সে একই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

দেশে এবং ভারতে বড় ছেলের চিকিত্সা করতে গিয়ে জমানো টাকা, জমিজমা, দোকানপাট, অস্থায়ী সম্পদ সবই বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। এখন দুই ছেলে আর নাতির ক্রমেই মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। নিকটাত্মীয়রা সাহায্যের হাত বাড়ালেও এখন তাও বন্ধ করে দিয়েছে।

এখন সবার মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতেই হিমশিম খাচ্ছি, চিকিত্সা তো দূরের কথা। তাই আমাদের মতো গরিবের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।ভারতে চিকিত্সার সময় ডাক্তার বলেছিল, দুরারোগ্য ব্যাধিটির নাম ‘ডুফিনি মাসকুলার ডেসট্রোফি’।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাবে এবং চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাবে। এরই মধ্যে বড় ছেলেটি চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। নিজে নিজে কোনোরকমের নড়াচড়া করতে পারছে না। ছোট ছেলে এবং নাতিও একই পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

চোখের সামনে তাদের কষ্ট আর মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া দেখে সহ্য করতে পারছি না। বর্তমানে তাদের চিকিত্সা করার কোনো সক্ষমতা নেই। তাই হয় তাদের সরকারিভাবে চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হোক আর না হয় মেরে ফেলার অনুমতি দেওয়া হোক।    

তোফাজ্জেলের পাশের ব্যবসায়ী নান্নু মিয়া জানান, তোফাজ্জেল বড়বাজারের বিশিষ্ট ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। দুই ছেলে ও নাতিকে চিকিত্সা করাতে গিয়ে নিঃস্ব। এখন বাজারে ভ্রাম্যমাণভাবে ফলের ব্যবসা করেন। যা আয় হয় তা দিয়ে পরিবারের সবার অন্ন ও চিকিত্সার ব্যবস্থা করাই যেন তার পক্ষে অসম্ভব।

আরেক ব্যবসায়ী রুমেল হোসেন বলেন, তার পক্ষে চিকিত্সার ব্যবস্থা করা কঠিন। সমাজের বিত্তবানরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে চিকিত্সার ব্যয় বহন সম্ভব হতো। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খায়রুল হাসান সকালের খবরকে জানান, বিষয়টি মানবিক।

তাদের চিকিত্সা ও অন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। লিখিতভাবে আজ বিভাগীয় কমিশনারকে জানানো হবে। কাউকে মেরে ফেলার অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। 
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন অলক কুমার রায় জানান, তিনজন যে রোগে আক্রান্ত হয়েছে তার চিকিত্সা বিশ্বে কোথাও নেই।

আমরা তাদের নিয়মিত চিকিত্সা দিয়ে থাকি। প্রয়োজন হলে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হবে। অসহায় বাবা তোফাজ্জলের বিকাশ নম্বর ০১৭১০০৩৩৬৪৩। ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড মেহেরপুর শাখায় সঞ্চয়ী হিসাব নং ১১৭৭।

সূত্রঃ স.খ
 

নতুন শনাক্ত দেড় সহস্রাধিক

ঈদের আগে করোনায় একদিনে ২৮ জনের মৃত্যু

দাবি পেশাজীবী সংগঠনের, রিট পিটিশন দায়ের

‘বেসরকারি মেডিকেলের ৮২ ভাগের বোনাস ও ৬১ ভাগের বেতন হয়নি’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি