২২ জানুয়ারী, ২০১৭ ১২:০০ পিএম
হাসপাতালগুলোতে সুযোগ-সুবিধা বাড়ান

নারীর স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা

নারীর স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা

মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সাফল্য অর্জন করেছে। এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আজ এক বিস্ময়। শিক্ষা, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণসহ নানা সূচকে নারীরা এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশে।

লিঙ্গ সমতায় এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত হয়েছেন। নানা সূচকে নারীর এগিয়ে যাওয়ার প্রমাণ মিললেও স্বাস্থ্যসেবায় নারী এখনো অবহেলিত।

গ্রামপর্যায়ে নারীরা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার। বিশেষ করে উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবহেলা বেশি। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্যে বলা হচ্ছে, নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বাড়ির কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা কমিউনিটি ক্লিনিকে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও বেশি দূরের হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ কমই পায় নারীরা।

এ ক্ষেত্রে স্বামী বা সন্তানের দিকে সাহায্যের হাত বাড়াতে হয়। ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পুরুষের চেয়ে নারী রোগী বেশি হলেও স্তরভিত্তিক সেবাকেন্দ্রে নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশি।

প্রাথমিক স্তর বা কমিউনিটি ক্লিনিকের তুলনায় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নারী রোগী আনুপাতিক হারে কম। একইভাবে এই হার কমতে থাকে জেলা শহরের হাসপাতালে। বিশেষায়িত হাসপাতালেও নারী রোগীর সংখ্যা আনুপাতিক হারে পুরুষ রোগীর চেয়ে কম।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে দেশে নারীর স্বাস্থ্যসেবায় এখনো অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক বাধাও নারীর স্বাস্থ্যসেবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক নারীই একা বাইরে যেতে চায় না। বাড়ির কাছের কমিউনিটি ক্লিনিকে গেলেও দূরের হাসপাতালে যেতে স্বামী-সন্তানের সহযোগিতা লাগে অনেকের।

আবার উপজেলা বা জেলা হাসপাতালে নারীর জন্য সুযোগ-সুবিধারও অভাব রয়েছে—এমন অভিযোগও শোনা যায়। হাসপাতালগুলো নারীবান্ধব হলে সেখানে নারী রোগীর সংখ্যা বাড়বে। অন্তত দ্বিতীয় কারো সাহায্য ছাড়া নারী হাসপাতালে যেতে আগ্রহী হবে।

এ জন্য পারিবারিক সচেতনতাও বাড়াতে হবে। নারী, সে মা-বোন বা স্ত্রী যে-ই হোক না কেন, অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই, পুরুষদের এটা বুঝতে হবে। স্বাধীনভাবে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্য নারীদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। হাসপাতালের নারীবান্ধব পরিবেশ নারীর স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্তি সহজ করে তুলবে। এ ব্যাপারে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এসডিজি অর্জনের পথে আমাদের বড় বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।

সূত্রঃ কালের কন্ঠ।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত