ঢাকা      বুধবার ২১, অগাস্ট ২০১৯ - ৫, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

একান্ত সাক্ষাৎকারে মমেক হাসপাতাল পরিচালক

একটি চক্র চাচ্ছে না হাসপাতাল এভাবে এগিয়ে যাক: ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিন

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমেদ - ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে যোগ দেন পহেলা নভেম্বর ২০১৫তে। যোগদানের পর থেকে তাঁর আন্তরিক চেষ্টায় বদলে গেছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র। রোগীদের নানা অভিযোগ, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলার ব্যস্ততা আর রোগীদের অপ্রসন্ন মুখ - এই যখন অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালের নিত্যদিনের চিত্র, সেখানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। চমৎকার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সার্বক্ষণিক ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি, রোগীদের উন্নতমানের ডায়েট, ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালমুক্ত পরিবেশ আর প্রায় একশত ভাগ ঔষধ সরবরাহ - এসব বৈশিষ্ট্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখন দেশের প্রতিটি হাসপাতালের নিকট আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে।।

 

মাত্র সোয়া এক বছরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমেদ। সম্প্রতি মেডিভয়েস এর সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি তুলে ধরেছেন এই পরিবর্তনের রহস্য। সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা খুঁটিনাটিও। মেডিভয়েসের পাঠকদের জন্য স্যারের সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইলিয়াস হোসেন। ক্যামেরায় ছিলেন আহসান হাবীব।

 

মেডিভয়েসঃ  স্যার, আসসালামু আলাইকুম। মেডিভয়েসের পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা।

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম। আপনাদেরকেও শুভেচ্ছা।

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, আমরা আপনার অনেক প্রশংসা শুনেছি। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যজগতে পরিবর্তনের সূচনাকারী একজন কিংবদন্তি বলতে পারি আপনাকে। আপনি এখানে জয়েন করার পর থেকেই একের পর এক পরিবর্তন আনছেন। মাত্র এক বছরের মধ্যে পুরো হাসপাতালকে বদলে দিয়েছেন। এজন্য মেডিভয়েস এর পক্ষ থেকে আপনাকে অভিনন্দন। প্রথমেই স্যার আপনার বেড়ে উঠা সম্বন্ধে জানতে চাচ্ছি।

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ ধন্যবাদ তোমাদের। তোমরা যেভাবে বলছো, আমি আসলে সে পর্যায়ের কেউ না। আমি একজন সাধারণ মানুষ। একেবারে গ্রাম্য পরিবেশে আমার জন্ম এবং বেড়ে উঠা। আমি ১৯৬২ সালের ৩১শে জুলাই চাদঁপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানার (বর্তমানে যেটা হাজীগঞ্জ উপজেলা) বলাখাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করি। আমার বাবা ছিলেন একাধারে ডাক্তার এবং রাজনীতিবিদ। মা গৃহিণী। আমি আব্বু আম্মুর সাথে থেকে বড় হই।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার হাতেখড়ি। ছোট বেলায় পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতাম। ১৯৭৮ সালে গ্রামের স্কুল হতে এসএসসি পাশ করেছি। ১৯৮০ সালে চাঁদপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি হই। এখান থেকে আমি ইন্টার্নি শেষ করে ১৯৮৮ সালের ১৩ই এপ্রিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করি। এর পিছনেও একটা প্রেক্ষাপট আছে।

আগেই বলেছি, আমার বাবা একজন এমবিবিএস ডাক্তার ছিলেন। একই সাথে তিনি রাজনীতিও করতেন। তিনি ১৯৭০-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত পরপর দুইবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরকারের সংসদ সদস্য ছিলেন। আমি এমবিবিএস পাশ করার পর বাবা আমাকে বলেছিলেন, তুমি রাজনীতি করতে পারবে না এবং বাড়িতেও থাকতে পারবে না। তবে আমার বিয়ে করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে কারণেই আমি সেনাবাহিনীতে যোগদান করি, যাতে বিয়ে করে একটা বাসায় থাকতে পারি।

আমার বেড়ে উঠার উল্লেখযোগ্য একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, আমার বাবা জাতীয় সংসদ সদস্য হলেও আমি মাটির কাছাকাছি বড় হয়েছি। আমার আশেপাশের মানুষজন ছিলেন খুবই সাধারণ মানুষ। আমার বন্ধু-বান্ধবরা এখনও কেউ রিকশা চালায়, কেউ মুদি দোকানদার, কেউ সাধারণ কৃষক। তো রাজনৈতিক পরিবারে বড় হওয়ায় সাধারণ মানুষদের কষ্টগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছি এবং সাধারণ, গরীব-দুঃখী মানুষের জন্য কিছু করার তাড়না অনুভব করেছি।

তবে আমি যে কথাটা খুবই জোর দিয়ে বলবো তা হচ্ছে, দেশের মানুষদের জন্য কিছু করার প্রেরণা আমি আমার বাবার কাছ থেকেই লাভ করি। আর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর প্রশিক্ষণ এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে বেড়ে ওঠার কারণেই আমার মাঝে আজকের এই শৃঙ্খলা আর কঠোর জবাবদিহিতার অনুভূতি গড়ে উঠেছে । আর এভাবেই আজকের আমি গড়ে উঠেছি। অর্থাৎ আমার বাবার যে কর্ম সেটার প্রতি আমার নিজস্ব আস্থা এবং বিশ্বাস, পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা আমার বেড়ে উঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

 

মেডিভয়েসঃ মেডিকেলে পড়া শেষ করে আপনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন। আপনি বেসামরিক পরিবেশে বড় হয়েছেন। এরপর সামরিক জীবন শুরু করলেন। এ দু'টোর মাঝে ভারসাম্য আনলেন কিভাবে?

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ আমি ২৭ বছর পর্যন্ত সেনাবাহিনীর বাইরে ছিলাম। এই সময়ে আমি গ্রাম থেকে বেড়ে উঠি। গ্রামের কলেজে পড়ি, একটা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়ি। এই সময়ে প্রচুর মানুষের সাথেই আমার পরিচিতি ঘটেছে। মানুষকে ভালোবাসতে শিখেছি এবং এর প্রেক্ষিতে মানুষকে ভালোবাসা আমি আমার জীবনের একটা ফিলোসফি হিসেবে নিয়েছি। এরপর সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার পর সেনাবাহিনী আমাকে পরিশীলিত করেছে, জীবনের শৃঙ্খলাবোধ এবং জীবনের নিয়ন্ত্রণ শিখিয়েছে। মানুষের পাশাপাশি থাকা এবং সেনাবাহিনীর নিয়মনীতি একে অপরের পরিপূরক হয়েই আমার জীবনটাকে অনেক বেশি পরিশুদ্ধ করেছে। যেহেতু ২৭ বছর বাইরে থাকা আর সেনাবাহিনীতে ৩০ বছর চাকরি করা এভাবেই আমি বেড়ে উঠেছি এবং এ দু'টোর সংমিশ্রণে আমি একজন সামরিক কর্মকর্তা এবং ডাক্তারও বটে। আমার মূল পরিচয়, প্রথমে আমি একজন সামরিক অফিসার এবং পরে ডাক্তার।

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, ২০১৫ সালের নভেম্বরে আপনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। তখনকার পরিবেশ ও আপনার পরিবর্তনমূলক কাজগুলোকে সংক্ষেপে যদি বলতেন।

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ আমি প্রথমে যেটা মনে করি, মানুষের অন্তরে যদি তাগিদ না থাকে, তাহলে কখনও পরিবর্তন হয় না এবং অন্তর থেকেই তাগিদটা আসতে হবে। আমি যখন এ হাসপাতালে যোগদান করি, দিনটি ছিলো পহেলা নভেম্বর, ২০১৫। সকাল ৮টায় যখন আমি হাসপাতালে ঢুকি, তখন প্রথমেই আমি খেয়াল করি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোন সাইনপোস্টই নেই। মেইন গেটে কোন কিছুই ছিল না। চারদিকে বোঁটকা দুর্গন্ধ। দুর্গন্ধের কারণে নাকে রুমাল দিয়ে ঢুকেছি।

আসার পর প্রথমতঃ আমার কাজ ছিল হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বাড়ানো এবং সবার সাথে মত বিনিময় করা। এ কাজটা আমি একমাসের মধ্যেই করতে পেরেছি এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর জন্য নিয়নসাইন এবং ডিজিটাল সাইনবোর্ড করে দিলাম। যাতে করে বুঝা যায়, এটা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

দ্বিতীয়তঃ যে কাজটা করলাম তা হলো - হাসপাতালে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা। যে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের দেখতাম তারা ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলত, ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশন চেক করত, তাদেরকে সম্পূর্নভাবেই মেডিকেল কলেজ হতে বের করে দিয়েছি এবং পরে হাসপাতাল চত্বরেও তাদের ঢুকতে দিইনি। বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং পার্শ্ববর্তী হাসপাতালগুলোর দালাল, যারা বিভিন্নভাবে রোগী ভাগিয়ে নিতো, তাদের হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছি।

তৃতীয়তঃ যে কাজটি করি সেটি হচ্ছে,দুর্নীতিবাজ, চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী যারা চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতো, এদের বিরুদ্ধে আমি আস্তে আস্তে অ্যাকশন নেই। তারই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদককে যখন বদলি করি - তখনই আমি প্রথম প্রেশারটা অনুভব করি।

তারপর হাসপাতালের ডায়েটের দিকে নজর দিই। তখন হাসপাতালের ডায়েট ছিলো খুবই নিম্নমানের। ডায়েটের বিষয়ে হাইকোর্টে একটা কেইস ঝুলে ছিলো প্রায় তিন বছর ধরে। আমি নিজ উদ্যোগে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই কেইস নিষ্পত্তি করি। পরবর্তীতে অনেক কম দামে ঠিকাদার নিযুক্ত করে এখন কোয়ালিটি সম্পন্ন ডায়েট আমরা দিতে পারছি।

এরপর ওষুধের ব্যাপারটা সমাধান করি। ওষুধের ব্যাপারে যে জিনিসটা ছিল, রোগীরা ওষুধ পেত না। ৮০%-৯০% ওষুধ কিনতে হতো। সরকার যে বাজেট দেয়, তার মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ওষুধ কেনার জন্যই দেয়। আমি স্টোর ব্যাবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ করি এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনি। যেটার মাঝে কিছুটা হলেও অস্বচ্ছতা ছিল। যেমন শিডিউল কিনতে হলে সব ডকুমেন্ট জমা দিতে হতো। আমি বলেছি যে শিডিউল কিনতে কোন ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে না, যে কেউ শিডিউল কিনতে পারবে। এতে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যায় এবং টেন্ডারের দর ওষুধের দর অনেক নেমে যায়। এতে আমার ওষুধের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায় এবং মন্ত্রণালয় ও মহাপরিচালকের কাছ থেকে আমি কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ অতিরিক্ত বাজেট পাই ৩ কোটি টাকা।

এখন আমি দাবির সাথে বলতে পারি, আমি ৯০ ভাগ ওষুধই দিতে পারি এবং ক্যান্সারের ওষুধও দিতে পারি। আমার সিসিইউতে এবং ১২ নাম্বার ওয়ার্ডে মোট রোগী ভর্তি থাকে ১৫৮ জন। এই রোগীদের সম্পূর্ণ ওষুধ, ফ্রি ইনভেস্টিগেশনের ব্যবস্থা করেছি । এদের এক একজন রোগীকে প্রায় ৫/৬ হাজার টাকার ওষুধ দিতে হয়। এখন হাসপাতাল থেকে ক্যান্সার চিকিৎসার ওষুধও দেয়া হচ্ছে।

মোটামুটি বলা যায়, সকলের সচেতনতা আর সহযোগিতার ফলে এই হাসপাতাল থেকে শতভাগ ফ্রি ওষুধ দেয়া হচ্ছে। ইনভেস্টিগেশন আগে ৩ বেলা হতো না। আমি নিজস্ব প্রচেষ্টায় ৭০ জন টেকনেশিয়ান এখানে রেখেছি। ৩ বেলা ইনভেস্টিগেশন সাপোর্ট হচ্ছে। কার্ডিওলজিতে আলাদাভাবে হচ্ছে। আইসিইউতে আলাদাভাবে হচ্ছে। বহির্বিভাগের প্যাথলজি ৩ শিফটেই খোলা থাকছে ।

একটা কনফারেন্স রুম ছিল, সেটার খুবই বাজে অবস্থা ছিল। সেটি সংস্কার করা হয়েছে। রেডিওলজিতে আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দুটো আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন আনিয়েছি এবং সেটার টাকা আস্তে আস্তে পরিশোধ করছি। যন্ত্রপাতি মেরামত খাতে একটা সমন্বয়হীনতা ছিল - সেটার মাধ্যমে আমরা বেশ কিছু টাকা সাশ্রয় করে যন্ত্রপাতি কিনে দিয়েছি। এভাবে ধীরে ধীরে পরিবর্তনটা হয়েছে।

আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের সমর্থন এবং আমার চিকিৎসক। মধ্যপর্যায়ের ডাক্তার এবং ইন্টার্নী চিকিৎসকরা আমাকে প্রচন্ড সাপোর্ট করেছে এবং ধীরে ধীরে আমি সম্মানিত অধ্যাপকদেরও সাহায্য পেয়েছি। চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের সাহায্য পেয়েছি, নার্সদের সাহায্য পেয়েছি। একটা পর্যায়ে সবাই মোটিভেটেড হয়েই এখন কাজ করছে। এই হাসপাতালে অর্জন যদি কিছু হয়ে থাকে, তাহলে সেটা আমাদের সকলের প্রচেষ্টার ফসল। হয়ত টিমের প্রধান হিসেবে আমি কাজ করেছি।

আসলে সরকার হাসপাতাল চালানোর জন্য মোটামুটি মানের একটা বাজেট দেয়। সেই বাজেটকে অপব্যয় না করে সাশ্রয়ীভাবে কাজ করার কারণেই আসলে হাসপাতালের আজকের এই পরিবর্তন। এবং এর কৃতিত্ব হাসপাতালের সাধারণ পরিচ্ছন্নতা কর্মী থেকে শুরু করে অধ্যাপক পর্যন্ত সবার।

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, হাসপাতাল পরিচালনার ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য আপনি কোন জিনিষটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন ?  

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ আসলে যদি সত্যিকারভাবে মনের তাগিদ থাকে এবং আপনি যদি কমপ্রোমাইস্ড না হন, (আমি শব্দটাকে এর চাইতে অন্য কোন শব্দে রূপান্তরিত করতে বলব না, আসলে আমি কমপ্রোমাইজড্ হইনি) তাহলে তো মনে করি কোন পরিচালকের জন্য এ ধরনের কাজ করা এতটা কঠিন না। সুতরাং এখানে আামার নিজস্ব কোন স্বার্থ আমি দেখছি না। তারপরও আমি চাপে থাকি, যারা সুবিধাভোগী শ্রেণি ছিল তাদের।

আপনি স্বাভাবিকভাবে দেখেন, ওষুধ কোম্পানির বিক্রি কমে গেছে। ক্লিনিক্যাল ইনভেস্টিগেশন কমে গেছে। দালালদেরকে বের করে দেওয়া হয়েছে। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে লোক যাওয়া কমে গেছে। স্বাভাবিকভাবে কিছু সংখ্যক লোক খেপে আছে। এই লোকগুলো আমার অনেক ভয়ের কারণ হতে পারে। তাদের হাতে অনেক টাকা আছে, অনেকেই ক্ষমতাবান, বিভিন্নভাবে তারা ঝামেলা করার চেষ্টা করছে। আপনি যদি বলেন তারা কারা, তাহলে আমি হয়ত নাম বলতে পারব না। কিন্তু আমি অনুভব করি, একটি চক্র চাচ্ছে না হাসপাতাল এভাবে এগিয়ে যাক। এটা চরম সত্য।

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, আপনার একটা ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেখেছিলাম যে, চিকিৎসা সরঞ্জামের কিছুটা অভাব আছে। সেগুলোর বিষয়ে যদি কিছু বলতেন। 

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ হ্যাঁ, চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে এখনো আমাদের সীমাবদ্ধতা থেকে গেছে। আমি এখানে আসার পরে হতবাক হয়ে গেছি। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, রংপুর মেডিকেল কলেজগুলোতে কিন্তু ক্যাথল্যাব আছে (যেটাতে ইনভেনশনাল কার্ডিওলজির কাজ করা হয়)। অথচ ময়মনসিংহ বাংলাদেশের ৩ নম্বর মেডিকেল কলেজ। যেটি ১৯৬২ সালে স্থাপিত - অথচ এখানে ক্যাথল্যাব নেই। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিয়মিত কার্ডিয়াক সার্জারি হচ্ছে অথচ এখানে সেই ব্যবস্থা নেই। এটা বৃহত্তর ময়মনসিংহের আড়াই কোটি মানুষের জন্য একটা বিড়ম্বনা।

একটামাত্র সি আর রেডিওলজি এক্সরে মেশিন আছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে হয়ত আমরা ২০০/৩০০ জনকে এক্সরে করাতে পারি। আর একটা নরমাল এক্সরে আছে ৫০০ এম এল, এটা কাজ করে না। একটা জিরো সাইজ সিটিক্সেন আছে, এটা ১০ বছরের পুরাতন, কাজ করে না। এমআরআইএর ও একই অবস্থা। ২০০৯ এ দু'টো এমআরআই মেশিন দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো নষ্ট হয়ে আছে। নেফ্রোলজি বিভাগে ডায়ালাইসিস মেশিন নেই। এগুলো আমার মারাত্মক সংকট।

তারপর আমাদের হেপাটোলজি বিভাগ আছে, পোস্ট গ্রাজুয়েশন ট্রেনিং হয়। ওখানে ইআরসিপি মেশিন একটা দরকার। কোলনস্কপি মেশিন দরকার। কার্ডিওলজি বিভাগে সিসিইউ এর বেড বাড়ানো দরকার। ইমার্জেন্সিতে ব্যবস্থা করে দেয়া দরকার যাতে একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে করে রোগী ভর্তির ঝামেলা অনেক কমে যাবে।

এই ইকুয়েপমেন্টগুলো কেন এত বছরে আসেনি আমি বুঝি না। আমি আসার পর মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানুয়ারি, ২০১৬ তে ভিজিট করেছিলেন। উনার নির্দেশনার প্রেক্ষিতে সমস্ত লিস্ট পাঠিয়ে দিয়েছি। তারপর বহুবার এ কপি আমি পাঠিয়েছি। বিএমএ’র মাধ্যমে চেষ্টা করেছি। স্বাচিপের মাধ্যমে চেষ্টা করেছি। মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব মহোদয়ের মাধ্যমে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমি আজও এ জিনিসগুলো পাইনি। না পাওয়াতে সাধারণ জনগণের টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

আমি মনে করি, যেখানে পোস্ট গ্রাজুয়েট ৬/৭ টা কোর্স চালানো হয়, সেই হাসপাতালে এই সুযোগ সুবিধাগুলো থাকা উচিৎ। কিন্ত এই সুবিধাগুলো নাই। কেন নাই সেটার উত্তর আমি বলতে পারব না। কিন্তু আমার দিক থেকে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি।

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, আমরা শুনেছি, যারা এখানে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করতে আসেন তাদের আবাসন সুবিধা নেই।

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ আপনি যা শুনেছেন - তা সত্য। এখানে ট্রেইনি এবং রেসিডেন্টদের কোনো থাকার জায়গা নেই। অবশ্যই এটি থাকা দরকার কিন্তু এখানে পরিচালকেরই বাসস্থান নেই। এখানে পরিচালকের জন্য যে বাসভবনটি ছিল সেটা হাসপাতাল ৩০০ বেডের থাকাকালীন যে সুপারিনটেনডেন্ট ছিল, তার জন্য করা হয়েছে।

পদমর্যাদা অনুযায়ী আমি সরকারের যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের। আমি যখন গণপূর্ত বিভাগকে লেখি যে, এটা কি আমার পদমর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ? তারা বলছে, না। আমি বললাম, তো আপনারা কেন উদ্যোগ নেননি। উনারা ভালো ‍কোন জবাব দেননি। বলেছেন - আমরা প্রকল্প প্রস্তুত করে পাঠাবো। আমার অধ্যাপকরা, সহযোগী অধ্যাপকরা যে বাসাগুলোতে থাকেন - তা বলা কষ্টকর। আমি যদি আমার ডাক্তারদেরকে ভালো জায়গায় না রাখতে পারি, ভালো পরিবেশ না দিতে পারি - তাহলে আমি কিভাবে ভালো কাজ আশা করবো? এ ব্যাপারে বহুবার চিঠি লেখা হয়েছে, প্রজেক্ট পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ প্রাপ্তিও হচ্ছে না। তবে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি।

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, আমরা জানতে পেরেছি যে, আপনার হাসপাতালে বেড আছে মাত্র ৮০০ আর রোগী থাকছে ২২০০-২৩০০। এই বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত রোগীর সার্বিক ব্যবস্থপনা কিভাবে করছেন?

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ সরকারের ১৯৮২ সালের পলিসি অনুযায়ীঃ পরিচালকের হাতে ক্ষমতা অর্পন করেছে, যতজন রোগী উনি ততজনের খাদ্য ব্যবস্থা করতে পারবেন। এজন্য আমার কোন সমস্যা হচ্ছে না।

স্থান সংকুলানের বিষয়ে বলব, এই বিল্ডিংগুলো ১৯৬২ সালের। পুরনো যে বিল্ডিংগুলো দেখছেন - বিভিন্ন সময় ভূ-কম্পন, লাইভলোডের কারণে এগুলো অনেক আগেই (২০১৩ সালে) পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। আমি আসার পরে আরো দুটি পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে রোগী দেখা হচ্ছিল, সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু এ ঘটনা ঘটার পর আমি সচিত্র বর্ণনা ‍দিয়ে ২/৩ বার মন্ত্রণা্লয়কে চিঠি পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত বরাদ্দ পাইনি।

আমাকে যেটা বলা হয়েছে, একটা অপারেশনাল বাজেটে দেওয়া হবে। সেটাও আগামী জুলাই এ। আর জুলাইতে বরাদ্দ আসলে কাজ হতে হতে ২০১৮ এর জুন পর্যন্ত লাগবে। এখানে জটিলতাটা কোথায় আমি বুঝি না। আমি সচিব মহোদয়ের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি, উনাকে আমি টেলিফোনে পাইনি। দেখা করার চেষ্টা করছি। উনি ছিলেন না, হয়ত উনি ব্যস্ত ছিলেন। মানে সব কিছুতেই একটা দীর্ঘসূত্রিতা আছে। আমি মাননীয় মহাপরিচালক মহোদয়ের সাথেও কথা বলেছি। বিএমএর মাধ্যমে চেষ্টা করেছি। আমার মাধ্যমে যতগুলো জায়গা সম্ভব, সব কটাতে জানিয়েছি। এখনো আমি এটার কোন সমাধান পাইনি।

আর একটি বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে একবার লিফট দুর্ঘটনা হয়েছিল। তখন থেকে সবাই পরিচালককে প্রশ্ন করে, আপনি কি করেছিলেন, কি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন ?

আমি নিজেই লিফট আটকে যাওয়া অবস্থায় ছিলাম। লিফটের নীচে আমিও মরে যেতে পারতাম। তখন টিভি সাংবাদিকরা শুধু ওটা প্রচার করতেই ব্যস্ত। আমি দাড়িয়ে থেকে পেশেন্ট উদ্ধার করে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। পরে তো আর টিভি সাংবাদিকরা আসে না। এখানে ৬/৭ টা লিফট আছে, ওভারলোডের জন্য যেগুলোর তার ছিঁড়ে গেছে।

আমি নিজে টেলিফোনে গণপূর্তভবনের ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে জানিয়েছি। এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে জানিয়েছি। তাদের কোন ফান্ড নেই। কালকে যদি হাসপাতালে আরেকটা লিফট দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে তো সব দায়দায়িত্ব আসবে হাসপাতালের পরিচালকের উপর। বলবে পরিচালক কাজ করছে না। কিন্তু পরিচালকের আন্তরিকতার সাথে কাজ করলেও যে সব হয়না। একটা ইন্টারডিপার্টমেন্টাল বিষয় আছে। গণপূর্তের কাছে টাকা নাই। উপর লেভেলে গেলে ফান্ড নাই। এই সমস্যাগুলো আমাদের মিডিয়া বুঝে না।

তো আমরা রোগী দেখছি কিভাবে? অনেক কষ্ট হচ্ছে আমাদের। আমি আমার প্রশাসনিক ব্লক ছেড়ে দিয়ে একটি ওয়ার্ডকে সেখানে শিফট করিয়েছি। আমার দুটি পেইং - বেড ওয়ার্ড ছিল, সেগুলোকে নন-পেইংএ রূপান্তর করে আপাতত চালিয়ে নিচ্ছি। হাসপাতালে সকল মেডিসিন ওয়ার্ড মিলে যেখানে আমার বেড সংখ্যা ৭৪ জনের- সেখানে ৫১৮ জন রোগী আছে। এদেরকে রাখতে হচ্ছে ফ্লোরে-বারান্দায়। তাদেরকে ম্যাট্রেস দেওয়া হচ্ছে, চাদর দেওয়া হচ্ছে, বালিশ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এটা তো একটা সুন্দর কর্ম-পরিবেশ হলো না।

সুন্দর কর্ম-পরিবেশ যাদের দেয়ার দায়িত্ব আছে, তারা যদি তাদের দায়িত্বটুকু তাদের অবস্থান থেকে পালন না করে, তাহলে শুধুমাত্র ডাক্তারদের দোষ দিয়ে তো লাভ হবে না। এটা বাস্তবেই একটা সমস্যা। না পারছি রোগীদের প্রতি সুবিচার করতে, না পারছি কমকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি সুবিচার করতে। আমিতো মনে করি না, রোগীবান্ধব একটা পরিবেশে আমরা রোগীদের চিকিৎসা দিতে পারছি।

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, আপনার এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে কোন কোন বিষয়গুলোকে আপনি অগ্রাধিকার দিতে চান ? 

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ আমার চাওয়ার অতিরিক্ত কিছু নেই। একটা ভালো মানের হাসপাতালে যেরকম যন্ত্রপাতি দরকার এগুলো দিতে হবে। রোগীদের জন্য স্পেস বৃদ্ধি করতে হবে। নতুন কনস্ট্রাকশান করতে হবে এবং জরুরী ভিত্তিতে এটা করতে হবে।

এখন আড়াই কোটি মানুষের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। আমি যখন আসি, তখন রোগী ভর্তি থাকত গড়ে ১৬০০ জন। এখন ২২০০/২৩০০ জন, ২৪০০ জন, এমনকি ২৬০০ জনও হয়েছে। রোগী এখানে বিনা পয়সায় সার্ভিস পাচ্ছে, ওষুধ পাচ্ছে। ফলে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

আমরা এন্ডোক্রাইন ক্লিনিক করেছি। ডায়াবেটিক ক্লিনিক করেছি। কার্ডিওলজি ক্লিনিক করেছি। ইনফার্টিলিটি ক্লিনিক করেছি। তো এ ধরনের কাজের ফলে কিন্তু রোগীর সংখ্যা বাড়বে। এ ধরনের একটি হাসপাতালে যে ধরনের যন্ত্রপাতি সরকার থেকে পাওয়া দরকার - তা আমরা পেতে চাই।

একই সাথে আমাদের হাসপাতালের আরো কিছু সুবিধা বাড়ানো দরকার। যেমন আমার আউটডোরে একটি বিল্ডিং হয়েছে ২০১৩ সালে। এটা এয়ারকন্ডিশন সিস্টেমে করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো এয়ারকন্ডিশন দেওয়া হয়নি। আমি এসে দেখি যে, চারতলা থেকে সকল দরজা ঘুনে খেয়ে ফেলছে। সার্জারি ফিটিংস  নাই। অক্সিজেন লাইন কেটে নিয়ে গেছে।

এগুলো দেখার জন্য আমার গার্ড ছিল ১৪ জন। আমি এসে আউট সোর্সিং শুরু করলাম। সরকার ৭৩ জন লোক নেয়ার পারমিশন দিয়েছে। আমি ৭৩ জন লোক নিয়ে শুরু করলাম। এখন আমি অনেক সাশ্রয়ীভাবে বিভিন্ন দিক মেইনটেইন করি।

তো এটার জন্য আমার কষ্ট করার কথা না। হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট কমিটি আছে, মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রী এ কমিটির সভাপতি। আমি বহুবার চেষ্টা করেছি উনাকে নিয়ে একটা মিটিং করার। কিন্তু উনাকে পাইনি। আমার দুঃখের জায়গা এখানে। আমি সেনাবাহিনীর লোক, লাঠি থাকলে, ক্ষমতা থাকলে সবাই মূল্য দেয়। অথচ এ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে আমি অসহায়বোধ করি।

সমাজে অনেক কারণে অনেক অপচয় মানুষ করে। আমি ময়মনসিংহবাসীকে বলেছিলাম, আপনারা যদি আমাকে ১০ টাকা করে দেন, আমার আর কারো কাছে যেতে হবে না। ঈদের সময় এখানে একটা পুওর ফান্ড করেছিলাম। সেসময় সমাজের মানুষের কাছে ২শ’ চিঠি লিখেছিলাম। মাত্র ২০ হাজার টাকা পেয়েছি। এই ছিল রেসপন্স!

জনসম্পৃক্ততার প্রয়োজন আছে। জনগণকে দায়িত্ব নিতে হবে। সমাজের যারা প্রতিনিধি তাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু সরকারের একার পক্ষে এ ধরনের ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। পৃথিবীর কোথাও নজির নেই ১০/১৫ টাকা টিকেট। সকলের জীবনের মান বেড়ে যাচ্ছে, সকলের বেতন বেড়ে যাচ্ছে। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। সুতরাং এসব জায়গাতে ফি বাড়াতে হবে। ভালো চিকিৎসা পেতে হলে রোগীদের এই ফি বাড়ানোর আওতায় আসতে হবে। যারা পারবে না, তাদের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে।

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, কিছুক্ষণ আগে আপনি জানালেন, এখানে একবার লিফট দুর্ঘটনা হয়। এ বিষয়ক খবর প্রচারকে কেন্দ্র করে মিডিয়া কর্মীদের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব তৈরি হয়। মিডিয়ায় তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন ঘাটতি আছে কি ?

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ এখানে আমাদের নিজস্ব কোন ঘাটতি নেই। আপনি টিভি খুললেই দেখবেন যে, চ্যানেলগুলো নেগেটিভ নিউজগুলো অধিক প্রচার করে। বাংলাদেশে কি ভালো কাজ হয় না? সরকারি বেসরকারি লেভেলে কি কোন ভালো কাজ হয় না? অনেক ভালো কাজ হয়।

আমার এখানে কিছুক্ষণ আগে একজন প্রফেসর এসেছিলেন। সার্জারির প্রফেসর কাজল কান্তি, ১৯৮৪ সালে এফসিপিএস পাশ করেছেন। এই ভদ্রলোক প্রতি রাতে এক কিলোমিটার ড্রেন নিজে সাফ করেন। এসব মহৎ মানুষের গল্প তো টিভি প্রচার করে না। কারণ এতে ব্যবসায়িক লাভ হবে না। অথচ খুনোখুনির ঘটনা, সরকারের নেগেটিভ সমালোচনা- যত নেগেটিভ জিনিস মিডিয়া প্রচার করতে চায়।

এখানে ৬ মাস আগে একটা লোক একটা মেয়ের পেটে তলোয়ার ঢুকিয়ে দিয়েছে, মিডিয়া এটা নিয়ে অনেক আগ্রহ নিয়ে প্রচার করে। সেই মেয়েটির শেষ পর্যন্ত পরিণতি কি হয়েছিল কোন মিডিয়া জানে না। মেয়েটি সম্পূর্ন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেল। কোন মিডিয়া এটা দেখায়নি। অথচ এখানে আজ আগুন লাগুক, বিল্ডিং ভাঙুক সেটা মিডিয়া দেখাবে।

পাবলিক নেগেটিভ নিউজ পছন্দ করে, মিডিয়াও তাই নেগেটিভ নিউজের পেছনে ঘোরে। যেনো, এটাই মিডিয়ার দায়িত্ব। অথচ সমাজের উন্নয়নে মিডিয়ার একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। তথ্য তাদেরকে না দেওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। তারা তো নিজেরাই দেখছে। 

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, গণমাধ্যমের কাছে আপনার দাবি?

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ গণমাধ্যমকে শুধু ব্যবসা নির্ভর হলে হবে না। যারা গণমাধ্যমের মালিক তাদেরকে বলি, এ দেশটা আমাদের সবার। দেশের যারা ভালো করছেন, ভালো কিছু যেখানে হচ্ছে সেগুলো প্রচার করতে হবে। যেমন আমি শাইখ সিরাজের অনুষ্ঠান দেখি। ওটা দেখলে আমি আনন্দ পাই। আমার মধ্যে একটা ভালো লাগা আসে। এ ধরনের নিউজগুলো যদি মানুষ জানে, তাহলে মানুষের মনে উৎসাহ জাগবে। মানুষের মধ্যে একটা পজেটিভ চিন্তা ভাবনা আসবে। সরকারি বা বেসরকারি খাতে অনেক কিছুই তো ভালো হচ্ছে। আসলে যারা এসকল মিডিয়ার মালিক তাদেরকে বিনয়ের সাথে বলতে চাই - দেশে ভালো অনেক কিছুই হচ্ছে, মানুষকে উজ্জীবিত করার জন্য প্রয়োজন সে নিউজগুলোকে গুরুত্বের সাথে প্রচার করা উচিত।

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, তরুণ চিকিৎসকরা বেশিরভাগই আপনাকে শ্রদ্ধা করে। তাদের অনেকেই আপনার মত সফল একটা ক্যারিয়ার গড়তে চায়। তাদের জন্য পরামর্শ কি?

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ  আমি তাদেরকে একটা উদাহারণ দিতে চাই। একটা সিঁড়ি এবং একটা লিফটের উদাহরণ। একটা লিফট সিঁড়ির তুলনায় আগে উঠে যায়। জীবনে তাড়াতাড়ি বড় হওয়ার জন্য সবাই লিফটকেই বেছে নিতে চাইবে। লিফট কিন্তু যেকোন সময় ছিঁড়ে যেতে পারে। এটা একটা লটারির মত। আর আপনি যদি একটা সিঁড়ি বেয়ে পাঁচ তলায় উঠেন - আপনাকে ক্রমান্বয়ে উপরে উঠতে হবে। আপনাকে প্রতিনিয়ত একটা কষ্ট করার মানসিকতা নিয়ে পরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে। কিন্তু আপনি যদি নৈতিকতাহীন হয়ে যান, আপনার অন্তরের তাগিদ যদি মরে যায়, অন্যের জন্য ভালোবাসা যদি আপনার না থাকে - তাহলে জীবনে আপনি কিছুই হতে পারবেন না।

তো কিছু হওয়ার জন্য সবচেয়ে দরকার একজন ভালো মানুষ হওয়া। মানুষকে ভালোবাসা। আর যিনি মানুষকে ভালোবাসেন, আল্লাহ তার দ্বারা অনেক অসাধ্যকে সাধন করবেন। আমি সত্যি মানুষকে অন্তর থেকে ভালোবাসি। আমি খারাপটাকে ঘৃণা করি - কিন্তু মানুষকে না। এটাই আমার স্পিরিট। তরুণদের বলবো, ভালো কাজ করে যান। সৃষ্টিকর্তা আপনার সহায় হবেন। এবং সৃষ্টিকর্তার উপরই সর্বাবস্থায় নির্ভর করবেন। মানুষের পেছনে আপনাকে ছুটতে হবে না। মানুষই আপনার পিছনে ছুটবে।

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, এটা তো সত্য যে, সবচেয়ে মেধাবী ছাত্ররাই মেডিকেল শিক্ষায় আসে। কিন্তু এমবিবিএস ডিগ্রির পর তারা চরম প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যায়। তাদের জন্য উচ্চতর শিক্ষা-গবেষণায় মেধাবান্ধব সুযোগ-সুবিধা কি নিশ্চিত করা যায় না?

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ এখানে আমি বলব, সমস্যাটা ডাক্তারদের মধ্যেই। আমদের বিসিপিএস আছে, বিএসএমএমইউ আছে। এদের অধীনে এফসিপিএস, এমডি, এমএস, এমফিল, ডিপ্লোমা কোর্স আছে। এদের মধ্যে কোন সমন্বয় নাই।

বিএমএকে সম্পূর্ণভাবে ডাক্তাদের পেশাগত দায়িত্ব নিতে হবে। সুন্দর মন মানসিকতা তৈরির জন্য আমাদের ডাক্তারদের সিলেবাসে যুগোপযোগি বিহেভেরিয়াল সাইন্স, সোশ্যাল সাইন্স এগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ছাত্রদের আবাসন সুবিধা, খাওয়া-দাওয়া এগুলোর সাবসিডি দিতে হবে। এমনকি বিদেশে যেমন অনারিয়াম দেওয়া হয়, এখানে তেমন সম্মানি ব্যবস্থা করতে হবে।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে একটা ছেলেকে এমবিবিএস পাশ করার পর তার ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিনা পয়সায় ট্রেনিং করতে হয়। একটা পূর্নবয়স্ক ছেলে বিনা পয়সায় কিভাবে ট্রেনিং করবে? এগুলো সমন্বিতভাবে একটা রেগুলেটরি বডির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এই পেশার যারা দক্ষ ও নীতিবান, তাদেরকে নিয়ে যদি পলিসি বডি করা হয়, তাহলে আমার মনে হয় সমস্যা সমাধান করা কঠিন হবে না।

যদি সবকিছুতেই আমাদেরকে আমলা নির্ভরই থাকতে হয়, তাহলে ২০২১ সালের মধ্যে একটা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। একটা প্রগতিশীল উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকার যথেষ্ট সচেতন। ঢাকা সিএমএইচে থাকতে বেশ কয়েকবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার সাক্ষাত হয়েছে। উনি চান সুন্দর এবং সমৃদ্ধ একটা বাংলাদেশ। কিন্তু সেজন্য আমাদের এই আমলা নির্ভরতা কমাতে হবে। একটা আমলা যদি ৫/৭ টা অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়ে বদলির পর সব কাজ বোঝেন, তাহলে আমার বলার কিছু নেই। যিনি যে জায়গায় উপযুক্ত, তাকে সেখানে রাখতে হবে।

ডাক্তাররা তো অন্য পেশায় যাওয়ার জন্য পড়েন না। একজন ডাক্তারের ক্যারিয়ার তৈরির জন্য যেরকম অবস্ট্যাকল ফেস করতে হয়, তাতে যদি তার মানবসেবার উদ্যোমই চলে যায়, সেটা কল্যাণকর নয়। আগে তাকে উচ্চশিক্ষায় যাওয়া পর্যন্ত সাপোর্ট দিন। তারপর দেখেন, নীতি-নৈতিকতা বদলায় কিনা।

দেশে কেউ সরকারের সাহায্য ছাড়া বড় হতে পারবে না। যারা ইউনিভার্সিটিতে পড়ে, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ে, সরকার তাদের পিছনেও খরচ করে। আর ডাক্তারদের কাজ যেহেতু অসুস্থ মানুষের সাথে - সেহেতু কোন কারণে ডাক্তার খারাপ আচরণ করলে সেটা খারাপ লাগে। ইঞ্জিনিয়াররা যদি বিল্ডিং বানানোর কমিশন খায়, এটা ডাইরেক্ট কোন মানুষকে হিট করে না।

আর বদনাম বেশি ডাক্তার, পুলিশদেরই। কারণ, মানুষ খুব অসহায় অবস্থায় তাদের কাছে যায়। তাই অন্যান্য পেশায় যারা আছেন, তারা যদি কাজে কমপ্রোমাইসড হন, তাহলে সমাজে এটা খুব ইফেক্টেড হয় না। বাংলাদেশকে যারা ভালোবাসেন আমাদের পেশাজীবি সংগঠনগুলোকে এগুলোর ব্যাপারে নির্মোহ হতে হবে। দেশকে ভালোবাসতে হবে।

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, সম্প্রতি পত্রিকায় একটা রিপোর্ট হয়েছে, মেডিকেল শিক্ষার বেহাল দশা, শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার কারিকুলাম নিয়ে। এটি নিয়ে আপনার মন্তব্য কি?

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ  সরকারী মেডিকেল কলেজ - যেগুলো নতুন হয়েছে সেখানে অনেকেই যেতে চান না। ডাক্তারদের মধ্যে প্র্যাকটিস করার প্রবণতা তৈরি হয়ে গেছে। ইন্ডিয়াতে যারা সরকারি ডাক্তার, তাদেরকে নন প্র্যাকটিস অ্যালাউন্স দেওয়া হয়, অনেক পরিমাণে। এটা আমাদের দেশেও চালু করতে হবে।

একটা অবকাঠামোগত জিনিস তৈরি করতে হলে আগে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে, বিশেষ করে ডাক্তারি পেশায়। আমাদের দেশে অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি হয়েছে আগে, কিন্তু দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয় না। আমাদের দক্ষ চিকিৎসকের অনেক সংকট আছে।

আর প্রাইভেট সেক্টরে মান মেইন্টেইন করছে মাত্র গুটিকয়েক মেডিকেল কলেজ। এর দায় তাদেরকে নিতে হবে, যারা এই মেডিকেল কলেজগুলোর পারমিশন দিয়েছেন। সরকার তো নিয়ম-নীতি করেছে। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একার পক্ষে সব দেখা সম্ভব না। মেডিকেল কলেজগুলো মান মেইন্টেইন করছে কিনা, তা দেখার জন্য একটা মন্ত্রণালয় আছে, অধিদপ্তর আছে। তারা যদি ঠিকমত কাজ না করে, তাহলে এই বেহাল দশা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।

আমি শংকিত সরকারের যে মহৎ উদ্দেশ্য, এটাকে কিছু কিছু ব্যক্তি বা মালিক ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছে। ফলে বাংলাদেশের ডাক্তাররা একসময় মেধা শূন্য হয়ে পড়বে। এ ব্যাপারে আমাদের যারা পলিসি বডি আছে, তাদেরকে এখনই চিন্তা করতে হবে। যারা মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না, তাদেরকে বাদ দিতে হবে। এটা শুধু প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের ক্ষেত্রে না, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও অনুসরণ করতে হবে।

আর চিকিৎসক এবং ইঞ্জিনিয়ারদের ক্ষেত্রে এই মান নিয়ন্ত্রণটা অনেক অনেক জরুরি। আমি মনে করি, সরকারের প্রতিটি উদ্যোগই সঠিক। কিন্তু যারা যে সেক্টর দেখাশুনা করার কথা, সেই সেক্টরটা তারা সঠিকভাবে দেখছেন বলে মনে হয় না। যদি তা দেখতেন, বাংলাদেশ এতদিন মধ্যম আয়ের দেশ শুধু না, উন্নত দেশে পরিণত হত।

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পুরোপুরি আস্থা রেখে বলছি, উনি এভাবেই চান জিনিসগুলো। আমি ব্যক্তিগতভাবে ঢাকা সিএমএইচ এর কমান্ডার থাকা অবস্থায় বেশ কয়েকবার তাঁর সাথে ইন্ট্রোডাকশানের সুযোগ হয়েছে। উনি ব্যক্তিগতভাবে দেশপ্রেমিক। এতে কোন সন্দেহ নেই। উনার দেশের প্রতি দরদ আছে। উনার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। তো উনি যাদেরকে দিয়ে কাজগুলি করাবেন, তাদেরকে সৎ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। তাহলে সব ক্ষেত্রেই একটা পজিটিভ পরিবর্তন আসবে।

 

মেডিভয়েস: স্যার, আপনার হাসপাতালে একটি ডেন্টাল ইউনিট আছে, সেখানে আপনি বেড বাড়িয়েছেন এবং আপাতত প্রেষণের শিক্ষক দিয়ে সেটি চালাচ্ছেন। এটাকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য আপনার পরিকল্পনা কি?

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ আমি যখন প্রথম আসি, তখন ২০১৬ সালের জুন থেকে ফার্স্ট বিডিএস ব্যাচ বের হবে। কিন্তু তারা অনজব ট্রেনিংটা (ইন্টার্নশিপ) করবে কোথা থেকে? তখন ৩টার মত ডেন্টাল চেয়ার। আমরা ঐ বছরই বাজেট থেকে ১২টা চেয়ার কিনে দিয়েছি। এখন ১৫টা চেয়ার আছে।

ডেন্টাল এক্সরে নাই। আমি ৪টি এক্সরে মেশিন কেনার অর্ডার দিয়েছি। প্রেষণের চিকিৎসক আছেন। তবে চিকিৎসক পরিধি মোটামুটি সন্তোষজনক। বর্তমান ডিজি মহোদয় অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ স্যার আসার পর আমরা চিকিৎসক সংকটে নেই। প্রমোশন নিয়েও সংকটে নেই। মন্ত্রণালয় একটা ভালো কাজ করেছে। প্রমোশন ছেড়ে দিয়েছে ডিপিসি করে। সবমিলিয়ে ভালো এবং পুরাতন মেডিকেল কলেজগুলোতে কোন সংকট নেই। 

তবে যে সংকটগুলো আছে চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়গুলোতে, সেটি হচ্ছে রাজনীতি। এটি ছাত্রদের মূল লক্ষ্য হওয়া ঠিক হবে না। তাদের মূল দায়িত্ব পড়াশুনা করা, ভালো ডাক্তার হওয়া। আর ইন্টারনাল গ্রুপিং বন্ধ করতে হবে। তাদের আচরণগত পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষকরা ছাত্রদের রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করবেন না। এগুলো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তাহলে মেডিকেল কলেজের পরিবেশ অবশ্যই ফিরে আসবে।

আমি অনেক খোলামেলাভাবে সব বিষয়গুলো বলেছি। আমি মনে করি, এই বয়সে দেশের একজন নাগরিক হিসেবে যা সত্য তাই বলেছি। আমি কার ভয়ে বলব না? আমি ভয় করি আল্লাহ তায়ালাকে। যা কিছু বলেছি, আমার সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্যই। যা কিছু প্রাপ্ত উনার কাছ থেকেই আসবে, আমি সেটা গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, আপনার পছন্দের বিষয় কোনটি?

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ আমি কবিতা লিখতে পছন্দ করি। কবিতা পড়তে পছন্দ করি। বাগান করা আমার একটা পছন্দের বিষয়। ভালো মানুষদের গল্প পড়া এবং শোনা আমার পছন্দ। আর চ্যানেল আই এর সন্ধ্যা সাতটার খবর আমার পছন্দের একটা বিষয়। আর গান শুনি আমি।

 

মেডিভয়েসঃ আপনার অপছন্দের বিষয় কোনটি?

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ দ্বিমুখী মানুষগুলো। তাদের মুখে এক অন্তরে আরেক। এই কাজটিকে আমি অপছন্দ করি। মানুষকে নয়, যারা এ কাজটা করে - তাদের অপছন্দ করি।

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, আপনার প্রিয় ব্যক্তিত্ব কে?

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

 

মেডিভয়েসঃ ব্যক্তি জীবনে আদর্শ কে ?

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ ব্যক্তি জীবনে আমার আদর্শ আমার বাবা- মরহুম ডাঃ আব্দুস সাত্তার।

 

মেডিভয়েসঃ পারিবারিক জীবনে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে কিছু বলুন। 

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ আমার স্ত্রী অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ। তিনি অনেক কষ্ট করেছেন আমার এখানে আসার পিছনে। কারণ আমি সংসারের কিছুই দেখতে পারতাম না। যে দায়িত্ব আমার স্বামী হিসেবে পালন করার উচিত ছিল, আমি তা কতটুকু পেরেছি জানি না। কারণ আমি কাজকে গুরুত্ব দিয়েছি। অফিসকে সময় দিয়েছি।

তবে আল্লাহর অশেষ রহমত আমার দুটি মেয়েই এখন আর্মড ফোর্সেস মেডিকেলে পড়ে। একজন ৫ম বর্ষে এবং একজন ৩য় বর্ষে। আমি সেনাবাহীনিতে চাকরি করার কারণে অনেক কিছু শিখেছি। সেনাবাহিনী আমার পরিবারকে অনেক কিছু দিয়েছে। হয়ত অন্য কোন জায়গায় কাজ করলে এভাবে তৃপ্ত হতে পারতাম না। জীবন ভালোই চলছে, আমি বেশ ভালো আছি।

 

মেডিভয়েসঃ স্যার, আপনি মেডিভয়েসকে সময় দিয়েছেন এইজন্য মেডিভয়েস পরিবার এর পক্ষ হতে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ আমি মেডিভয়েসের একজন নিয়মিত অনলাইন পাঠক। তারা অনেক ভালো কাজ করছে। এখনো হয়তো জাতীয় পর্যায়ে অত বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর হয়নি। তবে একদিন নিশ্চয়ই বাংলাদেশের উন্নয়নে, চিকিৎসক সমাজের উন্নয়নে, মেডিভয়েস একটি মহীরূহ হয়ে দাঁড়াবে। মেডিভয়েসের কাছে এই প্রত্যাশা থাকবে।

 

মেডিভয়েসঃ আপনাকে আবারো ধন্যবাদ, স্যার।

ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিনঃ আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 

আরো সংবাদ











NOVO Healthcare and Pharma Ltd

হোম পেইজের ডানদিকে নোটিশ বোর্ড ক্যাটাগরির উপরে | এই বিজ্ঞাপনের সাইজ (ওয়াইড ফিক্সড : ৩৭৪ পিক্সেল )

জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর