১৯ জানুয়ারী, ২০১৭ ০৭:০২ এএম
পরীক্ষায় টাঙ্গাইল জেলার প্রার্থীদের অস্বাভাবিক ভালো ফল

মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিধি না মেনে নার্স নিয়োগের উদ্যোগ

মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিধি না মেনে নার্স নিয়োগের উদ্যোগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নার্স নিয়োগে বিধি অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় টাঙ্গাইল জেলার প্রার্থীরা অস্বাভাবিক ভালো করায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বিশেষ করে ওই জেলার ঘাটাইল উপজেলার প্রার্থীরা ভালো করেছেন। বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খানের বাড়ি ওই উপজেলায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০০ নার্স নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হলে ৬ হাজার ৫০০ আবেদন জমা পড়ে। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ৭৯৮ জনকে বাছাই করা হয়, এর মধ্যে ৮৬ জন মুক্তিযোদ্ধা কোটায়। ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয় ২ জানুয়ারি। তাতে দেখা যায় টাঙ্গাইল জেলা ও ঘাটাইল উপজেলার প্রার্থীদের প্রাধান্য।
এখন মৌখিক পরীক্ষা চলছে। গতকাল বুধবার সর্বশেষ ৮২ জনের মৌখিক পরীক্ষা ছিল। বেলা ১১টায় পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকের দ্বিতীয় তলায় ভিড় করতে থাকেন। বেলা একটার দিকে সাতক্ষীরা থেকে আসা একজন প্রার্থী এই প্রতিবেদককে বলেন, পরীক্ষা ভালো হলেও চাকরির আশা অনেকটা ছেড়েই দিয়েছেন। কারণ তিনি জেনেছেন, টাঙ্গাইলের প্রার্থীদেরই চাকরি হবে বেশি।

পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এ ধরনের মনোভাব সৃষ্টি হওয়ার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল জেলার ৭৬ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় ৮০ নম্বরের ওপরে পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৩ জনের বাড়ি ওই জেলার ঘাটাইল উপজেলায়।

গত বছরের ২৫ জুন থেকে কার্যকর হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগবিধিতে বলা আছে, যেকোনো নিয়োগে নির্বাচনী বোর্ড হবে ১০ সদস্যের। এর প্রধান হবেন উপাচার্য। তিনজন সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ এর সদস্য হবেন, সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন রেজিস্ট্রার। বাকি চারজনকে মনোনয়ন দেবেন উপাচার্য। কিন্তু লিখিত পরীক্ষার আগে কোনো বোর্ড গঠিত হয়নি।

গতকাল বোর্ড ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে উপাচার্যের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। উপাচার্য বোর্ড গঠন ও ফলাফল নিয়ে সহ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ সিকদারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

মো. শহীদুল্লাহ সিকদার মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ১০ সদস্যের নির্বাচনী বোর্ডের তালিকা এই প্রতিবেদককে দেন। ওই বোর্ড গঠিত হয়েছে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার দুই দিন পর, ৪ জানুয়ারি। লিখিত পরীক্ষার জন্যও বোর্ড গঠিত হয়েছিল দাবি করলেও তিনি কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।

লিখিত পরীক্ষা সুষ্ঠু হয়েছে বলে মো. শহীদুল্লাহ সিকদার দাবি করেন। টাঙ্গাইল জেলার, বিশেষ করে ঘাটাইল উপজেলার প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার কারণ চানতে চাইলে তিনি বলেন, সব জেলার প্রার্থীরা ভালো করেছেন।

মৌখিক পরীক্ষার জন্য গঠিত বোর্ডের সদস্য তালিকায় সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম জাকারিয়ার নাম আছে। প্রথমে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণে অংশ নিলেও তিনি পরে সেখান থেকে সরে আসেন। সরে আসার কারণ জানতে চাইলে জাকারিয়া স্বপন বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষার সময় দেশের বাইরে ছিলাম। ফিরে এলে আমাকে টেলিফোনে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বলা হয়। আমি নেই। পরে নিজ কার্যালয়ে খুঁজে দেখি, এ বিষয়ে লিখিতভাবে কোনো চিঠি আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার মনে খটকা লাগে।’

গতকাল আরও অন্তত ১০ জন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ও শিক্ষকের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। প্রত্যেকেই স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কপাল ভালো, আমাকে পরীক্ষা কমিটিতে রাখেনি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিভাগীয় প্রধান বলেছেন, ‘এই নিয়োগ বাতিল না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমরা মুখ দেখাতে পারব না।’

বেসিক সায়েন্স অনুষদের ডিন ও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করতে বিব্রত বোধ করছি। জানামতে, পরীক্ষার জন্য কমিটি হয়নি।’

সৌজন্যে : প্রথম আলো। 

 

অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা
একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা

একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত