১৭ নভেম্বর, ২০২৩ ০১:৪৭ পিএম

‘আল-শিফা হাসপাতালের অক্সিজেন ও পানি শেষ’

‘আল-শিফা হাসপাতালের অক্সিজেন ও পানি শেষ’
বুধবার ভোররাতে ইসরায়েলি সেনারা গাজার আল-শিফা হাসপাতালে প্রবেশ করে। ছবি: বিবিসি

মেডিভয়েস ডেস্ক: অক্সিজেন এবং পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ সংকটাপন্ন চিকিৎসাধীন রোগীরা তৃষ্ণায় চিৎকার করছেন বলে জানিয়েছেন গাজার প্রধান হাসপাতাল আল-শিফার পরিচালক মুহাম্মদ আবু সালমিয়া।

আল-শিফার পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে ৬৫০ জনেরও বেশি রোগী, ৫০০ চিকিৎসা কর্মী এবং পাঁচ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ আছে।

মুহাম্মদ আবু সালমিয়া বলেন, ইসরায়েলি সেনারা আল-শিফার প্রধান পানির লাইন বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে। রোগীরা তৃষ্ণায় চিৎকার করছে। 

তিনি আরো বলেছেন, ‘স্নাইপিং অপারেশন অব্যাহত রয়েছে। কেউ এক ভবন থেকে অন্য ভবনে যেতে পারে না। আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগও হারিয়ে ফেলেছি।’

পরিচালকের বরাত দিয়ে বিবিস জানিয়েছে, ইসরায়েলি ট্যাংক গাজা শহরের হাসপাতালটিকে ঘিরে রেখেছে। মাথার ওপরে ড্রোন উড়ছে এবং ইসরায়েলি সৈন্যরা এখনও ভিতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। 

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, হামাসের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান বিচক্ষণ, পদ্ধতিগত এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চলছে। তবে হাসপাতালের অভ্যন্তরে আটকেপড়া একজন সাংবাদিক খাদের বিবিসির রুশদি আবু আলউফকে ফোনে বলেছেন, ইসরায়েলি সৈন্যরা ‘সব জায়গায়, সব দিকে গুলি চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে বিবিসি স্বাধীনভাবে কোনো প্রতিবেদনই যাচাই করার সুযোগ পায়নি বলে তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) স্থানীয় সময় গত বুধবার (১৫ নভেম্বর) ভোরে থেকে আল-শিফায় অভিযান শুরু করে। এরপর অস্ত্র ও সরঞ্জামের বেশ কয়েকটি ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করে এগুলো হামাসের বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) আল শিফার নিচে হামাসের অপারেশনাল টানেলের মধ্যে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র বোঝাই একটি যান পাওয়ারও দাবি করেছে তারা। 

গাজার বৃহত্তম হাসপাতাল আল-শিফার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, হাসপাতালের একটি প্রবেশপথের কিছু অংশ এবং রেডিওলজি, বার্ন ও কিডনি বিভাগ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর বাইরে মধ্য গাজায় বুধবার রাতে ইসরায়েলি বোমায় প্রাণ হারিয়েছে ৫০ বেসামরিক মানুষ। হামলা হয়েছে খোদ হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়েহের গাজার বাড়িতেও।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস।

এর পর থেকে গাজাকে অবরুদ্ধ করে নির্বিচার বোমা হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় স্থল, নৌ পথে হামলা। অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ১১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এই হামলায় প্রতিনিয়তই ঝরছে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণ।

গত ৭ অক্টোবর গাজায় বোমা হামলা শুরুর পর আল-কুদস হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আশ্রয় নেন হাজার হাজার মানুষ। এরপরও ওই হাসপাতালের আশপাশে বিমান হামলা অব্যাহত রাখে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। বর্তমানে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কতজন মানুষ আছে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

এএনএম/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
ওজিএসবির ৩৪তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বক্তারা

তৃণমূলে নিরাপদ প্রসবে বড় প্রতিবন্ধক জনবল ও অবকাঠামো সংকট

ওজিএসবির ৩৪তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বক্তারা

তৃণমূলে নিরাপদ প্রসবে বড় প্রতিবন্ধক জনবল ও অবকাঠামো সংকট

সুস্থতায় সচেতন হওয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

প্রতি ১০০ পুরুষের ৮-১০ জন প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও