শনিবার ২৩, সেপ্টেম্বর ২০১৭ - ৮, আশ্বিন, ১৪২৪ - হিজরী




বাংলাদেশের ডাক্তার, পৃথিবীর সেরা ডাক্তার

ডাক্তারের কাছে যাবার অভিজ্ঞতা মোটামুটি সমৃদ্ধ। মোট চারটি দেশে ডাক্তার দেখানোর আমার অভিজ্ঞতা আছে। বাংলাদেশ, ভারত, ইতালি এবং আমেরিকা।

আমেরিকার অভিজ্ঞতাই বলি।

আমেরিকায় ডাক্তারের কাছে যাবার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত আনন্দদায়ক। প্রথমে আপনি বুঝতেই পারবেন না, উনি ডাক্তার না আপনার আপন দুলাভাই। খুবই আন্তরিক ব্যবহার। প্রথমেই আবহাওয়া নিয়ে খানিকক্ষণ আলাপ করবেন। এবার খুব ঠান্ডা পড়েছে কিংবা আজকের সকালের রোদ অত্যন্ত আরামপ্রদ এই ধরণের আলাপ দিয়ে কথা শুরু। তারপর হালকা কিছু রসিকতা। এরপর রোগের বর্ণনা শোনা। রোগের বর্ণনা শোনার মাঝে কিছু প্রাসঙ্গিক ঠাট্টা ইয়ারকি। পুরো আধা ঘন্টার প্যাকেজ। এরপর আপনার কাছ শেষ।

ইতালি এবং ভারতের অভিজ্ঞতাও প্রায়ই একই ধরণের।

 

এবার বাংলাদেশের ডাক্তারদের কথা বলি।

রোগী বসে আছেন ডাক্তারের সামনে। ডাক্তার মহাশয় শুধালেন , কি সমস্যা? রোগীর উত্তর, চিরিক দ্যায়।

- কোথায় চিরিক দ্যায়?

:: প্যাডে?

- আর কি সমস্যা?

:: চিরিক দ্যায়।

- কোথায় চিরিক দ্যায়।

:: পিডে।

- আর কি সমস্যা?

:: চিরিক দ্যায়।

- কোথায় চিরিক দ্যায়?

:: প্যাডে।

- পেটের কথা না একবার বললেন?

:: জ্বী বলেছি।

- আর কি সমস্যা?

:: চিরিক দ্যায়?

- কোথায় চিরিক দ্যায়?

:: পিডে।

হতাশ ডাক্তার প্রেসক্রিপশন লিখতে বসেন। বাইরে শ খানেক রোগী অপেক্ষা করছেন। শালা ডাক্তার এত সময় নিতাছে ক্যান বলে, তারা ততক্ষণে ডাক্তারকে গালাগালি শুরু করে দিয়েছেন।

বাংলাদেশের রোগীদের এই ব্যাপারটি অত্যন্ত ''সুন্দর''। অন্য রোগীদের যখন ডাক্তার দেখেন, তখন তারা চিল্লাচিল্লি করেন, এত সময় লাগে ক্যা? কিন্তু নিজে যখন ডাক্তারের রুমে যান, তখন তারা ভাবেন, এত কম সময় লাগে ক্যা?

আরেকটা ব্যাপার। এটা আমার অভিজ্ঞতা, অন্যদের সাথে নাও মিলতে পারে। আমার দেখা ৪টি দেশেই প্রচুর টেস্ট করানো হয়। যেকোনো সামান্য রোগেই। আমি ভারতে সর্বমোট ৪ বার ডাক্তার দেখিয়েছি। ৪ বারই তারা একই রোগের জন্য ৪০ রকমের টেস্ট করিয়েছেন। শুধু তাই নয়। আমার রক্তে কোলস্টেরল বেশি দেখে, তারা আমার Attendence কে বলেছেন, আপনিও টেস্টটা করিয়ে ফেলুন। একই হেঁশেলের রান্না তো আপনিও খান। টেস্ট করিয়ে রাখা ভালো। নইলে একদম টেঁশে যাবেন, বলে দিলুম।

কাজেই বাংলাদেশের ডাক্তারগণ অযথাই টেস্ট করান, কথাটি পুরোপুরি সত্য নয়। একটু খোঁজ খবর নিয়ে দেখেন।

কোর্ট একটা অর্ডার দিয়েছেন। ডাক্তারদের হাতের লেখা স্পষ্ট করেন লিখতে বলেছেন। এই নিয়ে ফেসবুকে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।

ভাই রে, আনন্দ করার আগে, নিজের হাতের লেখা একবার দেখেন। আজ একটা মেয়ে আমাকে চিঠি দিয়েছে। এক লাইনের চিঠি। I বোঝা যাচ্ছে, -YOU -ও বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু মাঝখানে hate লিখছে না love লিখছে, সারা দিন চেষ্টা করেও সেটা বুঝতে পারলুম না।

আমার এই স্ট্যাটাস পড়ে অনেকে ক্ষিপ্ত হবেন। তারা কেউ কেউ জিজ্ঞেস করবেন, আমেরিকার ডাক্তারদের হাতের লেখা কেমন? তাদের হাতের লেখা কেমন, আমি জানি না। তাদের প্রেসক্রিপশন লিখতে হয় না। এই কাজ করার জন্য অন্য লোক আছেন। তারাই লেখেন, তিনি শুধু সাইন করে দেন। আর বাংলাদেশের ডাক্তাররা প্রতিদিন যে পরিমাণ প্রেসক্রিপশন লেখেন, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও দৈনিক এতগুলো কবিতা লিখতেন না।

একবার রবীন্দ্রনাথের কাটাকুটিওয়ালা কবিতার খাতায় চোখ বুলান।

ভাই রে, গালি দেবার আগে একবার চিন্তা করে দিয়েন।

ডাক্তার কি ওষুধ দিচ্ছেন, সেটা অবশ্যই স্পষ্ট করে লেখা থাকা দরকার। আবার যিনি ফার্মেসি থেকে ওষুধ দিচ্ছেন, তাকেও পাশ করা ফার্মাসিস্ট হতে হবে। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে, যেখানে রোগীর অনুপাতে ডাক্তারের সংখ্যা খুবই কম, সেখানে কেবল এককভাবে ডাক্তারদের দায়ী করা আমি কোনোভাবেই মানতে পারছি না।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ




জুতা নিয়ে যত কথা

জুতা নিয়ে যত কথা

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২০:০২



ন্যাসভ্যাক নামা

ন্যাসভ্যাক নামা

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১০:৫৮










হঠাৎ করে শিশু কেন মোটা হচ্ছে?

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৬:৪২
























মেডিকেলীয় অফলাইন

১৯ অগাস্ট, ২০১৭ ১৫:১২



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর