বুশরা নূর

বুশরা নূর

এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ। 


০৯ জানুয়ারী, ২০১৭ ০১:৫৪ পিএম

ডিপ্রেশন : অভিজ্ঞতা থেকে বলছি

ডিপ্রেশন : অভিজ্ঞতা থেকে বলছি

আমার সাথে তার বসবাস অর্ধযুগের। প্রথমে বুঝিনি,  আমার ভেতর বীজ বুনেছে।  তারপর প্যারাসাইটের মতন আমার আত্মার সমস্ত শুধা প্রায় নিংড়ে যখন আমাকে অর্ধমৃত করে রেখে গেল তখন অনুভব করলাম আমি আর আমি নেই।  

প্রথম প্রথম শুধু স্যাডনেসটা কাজ করত। রাজ্যের সমস্ত কষ্ট আমার অন্তরের গহিনে। সূর্য অস্তাচলে যাবার সাথে সাথে বিষাদরা আমার কাধে সিন্দাবাদের ভূতের মত ভর করত।  

তার কিছুদিন পর ভেতরে আমি শুন্য,  বাহিরে খোলস।  কি যেন নেই,  কি যেন নেই।  একটা সময় মনে হল কিছু খেলে হয়ত ভাল লাগবে।  
এটা খাই,  ওটা খাই খাওয়ার সাথে সমানুপাতে ওজন বাড়তে থাকে,  কিন্তু শুন্যতা পূরণ হয় না।  
ইনফেরিওরিটি কম্পলেক্স আগে থেকেই ছিল, ওজন এর সাথে তাও পাল্লা দিয়ে বাড়ে।  

যখন এইচ এস সি টেস্ট পরিক্ষা দেই,  তখন একবার কলেজের প্রিন্সিপাল আমাকে বলেছিল আলাদা ভাবে এক ফাঁকে তার সাথে যেন কথা বলি।  হয়ত তিনি আমার ভেতরকার সমস্যাটা বুঝতে পেরেছিলেন।  কিন্তু ভিত আমি যাই নি এবং এটা আমার জীবনের একটা বড় ভুল।  আর তাইত মেডিকেলে ঢুকে অবস্থারর এত অবনতি হয় যে সারারাত পড়াশুনা করেও কিছু মনে রাখতে পারি না আর আইটেমের টেবিলে বকা খাই। আইটেম কার্ডের নাম্বার ৭ থেকে ৫,  তারপর ৩ এবং শুন্যে নামে।  প্রফের সময় অবস্থা আরো খারাপ। একে ডিপ্রেসড সাথে স্ট্রেস। ফলাফল প্রতি রাতে দুঃস্বপ্ন আর ভাইভার আগে ৩/৪ দিন ধরে কান্না।  সে কান্না আর থামে না।  কেন কাঁদি তাও জানি না।  

আমি ডিপ্রেশনের ডেফিনিশন,  ক্লাসিফিকেশন এসব কিছুতে যাব না।  ডিপ্রেশনে ডোপামিন বাড়ে নাকি কমে আর তার মেকানিজম কিভাবে হয় এসবেরও বিশদেও যাব না।  সাইকিয়াট্রি স্যার ম্যাডামরা এসব ভাল বলতে পারবেন।  আর কারো সংকোচ থাকলে সে গুগল করে জেনে নিতে পারবে। 

ডিপ্রেশন কোন মানসিক রোগ না। এটা অবচেতন মনের একটা অবস্থা।  আমাদের অবচেতন মন অনেককিছু জমিয়ে রাখতে পারে। জমতে জমতে ভারাক্রান্ত অবচেতন মন ডিপ্রেশন হয়ে প্রকাশ ঘটায়। কোন ডিপ্রেসড পার্সনের হিস্ট্রি ঘাটলে দেখা যাবে তার ডিপ্রেশনের পিছে একসাথে অনেক দিনের অনেক কারণ আছে।  ডিপ্রেশন মালটি-ফ্যাক্টরিয়াল এবং স্লো রাইজিং।  কিন্তু একটা সিংগেল ইভেন্ট এর তীব্রতা বাড়ায়। 

স্থবির মনে শেওলা জমে,  শেওলা জমতে জমতে তার উপর একটা শক্ত আবরণ তৈরি হয় যা দুর্ভেদ্য। যখন আলো বাতাস ঢোকা বন্ধ হয়ে যায়, তখন তাকে মৃত বলে ঘোষনা করা হয়।  মনের এই শেওলা একা একা পরিষ্কার করা সম্ভব নয়।  দরকার কাউন্সেলিং এবং তার থেকে বেশি দরকার পরিবার ও বন্ধু বান্ধবের সহজ দৃষ্টিভঙ্গি সাথে সাহায্যের হাত। 

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে