ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. মোবাশ্বের আহমেদ নোমান

ডা. মোবাশ্বের আহমেদ নোমান

অ্যাসিস্টেন্ট রেজিস্ট্রার, সার্জারি, 

রংপুর আর্মি মেডিকেল কলেজ। 


০৯ জানুয়ারী, ২০১৭ ১১:৩০

বার্পিং করুন, বাচ্চাকে সুস্থ্য রাখুন

বার্পিং করুন, বাচ্চাকে সুস্থ্য রাখুন

তখন চাদঁপুর এ জব করি। একজন তার ৫ দিনের বাচ্চাকে নিয়ে আসল। বাচ্চা খুউব কাঁদে।

বাচ্চার দেখলাম সবকিছুই ঠিক আছে। তখন তাদেরকে বললাম, বাচ্চা সুস্থ্য থাকুক তা চান নাকি চান বাচ্চা ঔষধ খাবে?

স্যার আপনি যা ভালো মনে করেন। 

বললাম, বাচ্চাকে প্রত্যেকবার বুকের দুধ খাওয়ানোর পর বাচ্চাকে এমনভাবে ঘাড়ে নিবেন যাতে আপনার ঘাড় আপনার বাচ্চার পেট এ আলতো চাপ দেয় আর ধীরে ধীরে পিঠ চাপড়ে দিবেন (মূলত বাচ্চাকে কোলে নিয়ে দেখিয়ে দিলাম)।

যথাসাধ্য বোঝানোর পর যখন তাদের বিদায় দিব তখন দেখি বাচ্চার বাবার মন খারাপ। বাচ্চার মাও কি যেন ফিস ফিস করে বলছে। 

বুঝলাম বিনে ঔষধে রোগী দেখাটা সে মেনে নিতে পারছে না।

বলল, স্যার একটা ঔষধ দেয়া যায় না?

জোরে শ্বাস নিয়ে বললাম, যায়।

সিরাপ : সিমেথিকোন গ্রুপের ঔষধ দিয়ে বললাম উপদেশটা মাথায় রাখাই ভালো।

বলল, আচ্ছা স্যার। ঔষধ খাওয়াবো না।

যাই হোক মূল ব্যাপারটা হচ্ছে বাচ্চা যখন মায়ের বুকের দুধ টানে তখন বুকের দুধের সাথে অনেক বাতাস ও বাচ্চার পেটে যায়। এই বায়ু বাচ্চার পেটে বাবল আকৃতির হয়ে ব্যথা তৈরী করে। এই বাতাস বের করে দেওয়ার পদ্ধতিই বার্পিং। এটা অনেক ভাবেই করা যায়। এর ফলাফল ও ম্যাজিক এর মতো। কান্নারত বাচ্চাও মুহুর্তেই হেসে আটখানা হয়ে যায়। হাউ টু বার্প আপ লিখলে অনেক পদ্ধতির বার্পিং ইউটিউব এ পাবেন।

এই পেট ব্যাথায় (ইনফ্যান্টাইল কলিক) বাচ্চারা পেট ব্যাথার জন্য খেতেও চায় না। তাই অনেক মা ভাবেন বাচ্চা বোধহয় বুকের দুধ পাচ্ছে না আর বাচ্চাকে ফিডার নামে অখাদ্য খাওয়ানো ও শুরু হয় এখান থেকেই।
তাই বাচ্চাকে প্রত্যেকবারই খাওয়ানোর পর বার্পিং করালে বাচ্চা পেট ব্যাথা থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকবে আপনিও থাকবেন টেনশন মুক্ত।

১৫ দিন পর ঐ বাচ্চার আকিকায় গিয়ে শুনলাম বাচ্চাকে সিরাপ খাওয়ানো হচ্ছে। 

এত কিছু বোঝানোর পরেও যে বুঝে না তার ক্ষেত্রে অন্য পথ ধরাই বেটার।

আকিকার খাওয়া দাওয়ার মাঝেই বললাম এই ঔষধ কিন্তু বাচ্চার বেশ ক্ষতি করে।

বলেন কি স্যার ?

হুম।

আরেকদিন দেখা হলে নিজেই বলল, স্যার বাচ্চাকে কিন্তু আর সিরাপ খাওয়াই না। বাচ্চাকে রেগুলার ঘাড়ে নেই।

হাসলাম আর মনে মনে ভাবলাম, বাংগালী কি আর সাধে বাচ্চাকে ঘাড়ে তুলে।

 

(এই সিরিজ লেখা শুরু করেছি মানুষের সচেতনতার জন্য মেডিকেলীয় রেফারেন্সের জন্য নয়। সিরিজের ছাব্বিশতম লেখা।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত