ডা. মোঃ মাকসুদ উল্যাহ্‌

ডা. মোঃ মাকসুদ উল্যাহ্‌

চিকিৎসক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল


০৫ জানুয়ারী, ২০১৭ ০৯:২৪ পিএম

সদ্য পাস করা এমবিবিএস ডাক্তারদের জন্য

সদ্য পাস করা এমবিবিএস ডাক্তারদের জন্য

আপনি কোন সাবজেক্ট এ ক্যারিয়ার করবেন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করবেন না। সিদ্ধান্ত নিতে যত দেরি করবেন আপনি ততই পিছিয়ে যাবেন। ইন্টারনীর শুরুতেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পাকা পোক্ত করা উচিত। ইন্টারনীর সময় আপনার বেডে যে রোগী থাকবে ওই কমন রোগটা ওই সময়ে একবার পাঠ্য বই থেকে পড়ে নিবেন ।

 

এখন/ চলতি সময়ে এফসিপিএস/ রেসিডেন্সি একটার প্রশিক্ষণ আরেকটাতে কাজে লাগানো যায় না। তাই যে কোন একটাকে প্রাধান্য দিয়ে শুরু করবেন। অনারারি / সরকারি ট্রেনিং শুরু করলে ইন্টারনাল মেডিসিন / জেনারেল সার্জারি/ অবস-গাইনী ( মাতৃ বিষয় ) দিয়ে শুরু করা ভালো এবং এক বছর পূর্ণ না করে ব্রাঞ্চ এ না যাওয়াই ভালো । এতে করে পরবর্তীতে ব্রাঞ্চ গুলিতে প্রশিক্ষণ নিতে আপনার সুবিধা হবে। তা ছাড়া, ওই এক বছরের প্রশিক্ষণ দেখিয়ে পরে প্রয়োজন মনে করলে এমসিপিএস পরীক্ষা দেয়া যাবে।

 

ট্রেনিং এর লগ বইয়ে সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকের স্বাক্ষর যথাসময়ে নিশ্চিত করবেন। অন্যথা অধ্যাপক বা আপনি বদলি হয়ে গেলে আপনি বিপদে পড়বেন । ভালো প্রস্তুতি না নিয়ে পরীক্ষা না দেয়াই ভালো । এতে করে আর্থিক অপচয় হয়।

 

বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখে নিলেই বুঝবেন কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। সহায়ক বইগুলিতে বিগত বছরের প্রশ্ন গুলো পাবেন। সহায়ক বই থেকে প্রশ্ন দেখে পাঠ্য বই থেকে পড়বেন । রেসিডেন্সিতে আনুমানিক ৬৫% প্রশ্ন বেসিক সাবজেক্ট থেকে আসে। অর্থাৎ , বেসিক মাইক্রোবায়োলজি , বেসিক প্যাথলজি , ফার্মাকোলজি , ফিজিওলজি ইত্যাদি । এফসিপিএস প্রথম পর্বে তার উল্টা , অর্থাৎ বেসিক থেকে আনুমানিক ৩৫% প্রশ্ন আসে। বাকিটা ক্লিনিক্যাল থেকে ।

 

ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেয়ার পর একবার, দুইবার বা তিন বারে এফসিপিএস ১ম পর্ব বা রেসিডেন্সিতে চান্স না পেলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই, এতে আপনার পরবর্তী প্রশিক্ষণের জন্য বরং ভালোই হবে।

অনেকে জানেই না যে, এফসিপিএস/ এমডি/ এম এস এর জন্য থিসিস/ ডিজারটেশন করা লাগে । এফসিপিএস এর ডিজারটেশনের জন্য বিসিপিএস তিন দিনের প্রশিক্ষণ দেয় । আপনার প্রশিক্ষণ দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ওই তিন দিনের প্রশিক্ষণ করে নিলে ভালো। এমডি/ এমএস এর থিসিস এর জন্য সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজে research methodology & biostatistics এর ক্লাস হয়/ হওয়ার কথা/ হওয়ার সম্ভাবনা। এফসিপিএস এর ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দুই বছর পূর্ণ হওয়া মাত্র ডিজারটেশনের কাজ শুরু করে দিবেন। এর জন্য আনুমানিক এক বছর সময় লাগে। কারন, থিসিস / ডিজারটেশন করতে হয় অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপকের অধীনে । জেলা সদর হাস্পাতালে সিনিয়র কন্সাল্টেন্ট এর অধীনে প্রশিক্ষণ করা যাবে কিন্তু সেখানে থিসিস করার ব্যবস্থা নেই। থিসিস/ ডিজারটেশন এর ব্যপারে সময় থাকতে অবহেলা করলে পরে আফসোস করবেন।

সরকারি চাকরিতে থেকে প্রশিক্ষণের জন্য পোস্টিং নেয়ার পর তিন বছর পার হলে যে কোনও মুহূর্তে আপনার প্রশিক্ষণ পদ বাতিল করতে পারে কর্তৃপক্ষ । পরে আপনি এক বছরের কোর্স করবেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। উপজেলাতে দুই বছর পূর্ণ না করে প্রশিক্ষণ পদে আসবেন না। অন্যথা পরবর্তীতে আপনি অনেক মাশুল দিবেন এবং আফসোস করবেন। এ ব্যাপারে অল্পতে সন্তুষ্ট থাকুন। চাকরিতে যোগদান করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে আপনার পিডিএস একাউন্ট খুলুন। যে কোন আবেদনের সাথে পিডিএস দিতে হয়। প্রত্যেক জানুয়ারিতে এসিআর জমা দিন। এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ । প্রশিক্ষন পদে যাওয়ার আগেই ফাউন্ডেশন ট্রেনিং করা ভালো ।সংশ্লিষ্ট তথ্য সমূহ এর ব্যাপারে সময়মত আপডেট জেনে নিবেন।

 

আমাদের মা বোনেরা অনেকেই স্তনের সমস্যার জন্য স্বাভাবিক লজ্জার কারনে সমস্যা লুকায়িত রাখে এবং দেরি করতে থাকে। স্বভাবতই এ ধরনের সমস্যার জন্য তারা পুরুষ ডাক্তারের কাছে যেতে চায় না। এসব কারনে অনেক সময় দেখা যায় স্তনে ক্যান্সার হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ার পর তারা শেষ মুহূর্তে ডাক্তারের শরনাপন্ন হয়। তখন আর কিছু করার থাকে না। ওই পরিবারটাতে বিপর্যয় নেমে আসে। তারা জানে না যে , এটার জন্য সার্জারি বিশেজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। তাই তারা ভুল করে গাইনি ডাক্তারের কাছে গিয়ে কিছু সিস্টেম লস করে। তাই নতুন পাস করা মহিলা ডাক্তারদের মধ্য থেকে কেউ কেউ সম্ভব হলে সার্জারি বিশেষজ্ঞ হওয়ার কথা চিন্তা করা যায় ।

একবার একটি বিষয় কোনো একটি পাঠ্য বই থেকে পড়লে পরবর্তীতে কখনো ওই বিষয়টি ভুলে গেলে সেটি আবার ওই বই থেকেই পড়বেন । এ কারনে নিজের দাগানো বই কখনো হাতছাড়া করবেন না। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি Robbins & Cotran জেনারেল প্যাথলজি বই থেকে একবার tumor marker মুখস্থ করে থাকেন , তাহলে পরবর্তীতে ভুলে গেলে ওই তালিকাটিই আবার পড়বেন । একবার যদি P.N. BENNETT & M.J. BROWN এর বই থেকে Antipsychotic drug মুখস্থ করে থাকেন তবে বার বার ওখান থেকেই পড়বেন । তাহলে সিস্টেম লস এড়ানো যাবে। শুধু নতুন tumor marker বা নতুন antipsychotic drug আবিষ্কৃত হলে সেটা আলাদা করে মনে রাখবেন বা একটি আলাদা নোট করে নিবেন।

পড়া মুখস্থ করার জন্য নিজের বানানো সূত্র কখনো ভুলে যাবেন না । বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোর জন্য একটি আলাদা ব্যক্তিগত নোট তৈরি করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। সে নোটের মধ্যে থাকতে পারে নিজের বানানো সূত্র , আগে থেকে মুখস্থ করা বিচ্ছিন্ন বিষয় যেমন Robbins থেকে পড়া Tumor Marker চার্ট , Rx of TB in special cases ইত্যাদি ।

কিছু কিছু চার্ট একটির সাথে আরেকটি তুলনা করে পড়বেন । যেমন Davidsons Principles and Practice of Medicine, 22nd edition,বইটির কথা ধরা যাক। এখানে উদাহরণস্বরূপ hyponatraemia আর hypernatraemia এর কারন সমূহ পড়ার জন্য box 16.12 এবং box 16.15 একটার সাথে আরেকটা তুলনা করে পড়বেন । ঠিক তেমনি
1. alcoholic liver disease Vs alcohol misuse and dependence (page253) 
2. polycythemia rubra vera Vs haemochromatosis 
3. DD of hepatic encephalopathy Vs DD of stroke 
4. complications of acute liver failure (box23.13) Vs complications of acute viral hepatitis (box23.39) 
5. emergency Mx of acute non- variceal upper GI haemorrhage (box22.17) Vs emergency Mx of bleeding (variceal) (box23.35) ইত্যাদি একসাথে পড়বেন ।

পড়বেন আবার ভুলবেন, আবার পড়বেন, এভাবেই মুখস্থ করবেন। এটাই বাস্তবতা । সহজে মনে রাখার জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। যেমন CURB-65 -এর ক্ষেত্রে মাঝেরটা অর্থাৎ মোট স্কোর ২ হলে hospital supervised treatment মনে রাখুন , তাহলে আগেরটা আর পরেরটা এমনিতেই বলতে বা লিখতে পারবেন। Management of hepatocellular carcinoma complicating cirrhosis (page-969) মনে রাখা খুব কঠিন। এক্ষেত্রে সহজে মনে রাখার জন্য single lesion এ portal pressure normal হলে Resection; portal pressure increase হলে সেই সাথে associated disease না থাকলে liver transplantation আর associated disease থাকলে RFA/PEI; Intermediate stage হলে TACE; Advance stage হলে sorafenib আর Terminal stage হলে best supportive care । তাও যদি কঠিন মনে হয় তাহলে Rx modality হিসেবে resection, transplantation, RFA, PEI, TACE, sorafenib , best supportive care মনে রাখুন।

এক পাঠ্য বই থেকে সব কিছু পাওয়ার আশা করা যায় না। যেমন , একজন রোগীকে warfarin দেয়ার পর তার INR বেড়ে গেলে management কি করবেন সেটা Harrisons এর বই এ ভালো আছে। অন্যদিকে atrial fibrillation এর রোগীর left atrial thrombus formation হলে বা সম্ভাবনা থাকলে তার management এবং adrenaline, noradrenaline, dopamine এর IV dose ইত্যাদি CMDT তে ভালো লেখা আছে।

Medicine and Allied রেসিডেন্সি ফেজ 'এ' তে অধিকাংশ ব্লক ফাইনালগুলোর clinical এবং OSPE পরীক্ষা Internal Medicine এর মতো হয়েছে । ফাইনাল পরীক্ষায় লগ বই বা পোর্টফোলিও প্রয়োজন হয়নি কিন্তু ব্লক ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ। ব্লক ফাইনাল্গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

Medical ethics, Poisoning , Psychiatry এগুলো থেকে মূলত লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। তাই লিখিত পরীক্ষার জন্য এগুলোর প্রতি আলাদা নজর দিতে হবে। যেকোনো ক্ষেত্রেই সবার আগে প্রশ্ন ভালো করে বুঝে নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষাতে প্রশ্ন এসেছে write the pathophysiology of anaemia of chronic kidney disease । কিন্তু এ ক্ষেত্রে খেয়ালের ভুলে anaemia of chronic disease লিখে আসার ঘটনা ঘটেছে। ফেজ ফাইনালে এই রকম ভুলের যন্ত্রণা , এই আফসোস শুধু ভুক্তভূগীই বুঝতে পারে! লিখিত পরীক্ষাতে প্রথম পত্রে প্রশ্নটা কখনো কখনো একটু পানসে হতে পারে। পরীক্ষার অন্তত ৬ মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করতে পারলে ভালো । অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অকৃতকার্যতার কারন হয় লিখিত পরীক্ষা ।

সব ধরনের পরীক্ষার জন্য সহায়ক বই পাওয়া যায় । সেগুলো আগে আগে কিনতে পারলেই ভালো । সেখানে বিগত বছরের প্রশ্ন গুলো দেখলেই আপনার লিখিত এবং অস পি পরীক্ষা সম্পরকে ধারনা হয়ে যাবে। এগুলো একাধিক বার সমাধান করতে চেষ্টা করুন। অসপি বইতে Haemoglobin Electrophoresis, Plasma Protein Electrophoresis, Pedigree, Spirometry, ABG বিষয় গুলো ব্যাখ্যা করা আছে।

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাতে long case এ পরীক্ষকের খুব প্রিয় একটি বিষয় হচ্ছে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রোগীর clinical feature of failure আছে কি না, যেমনঃ flapping tremor, bilateral plantar extensor বা liver failure এর ক্ষেত্র অতিরিক্ত হিসেবে constructional apraxia আছে কি না, পরীক্ষার্থী সেটা দেখেছে কি না?

ক্লিনিক্যাল পরিক্ষাতে কোন প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে তাৎক্ষনিক আত্মসমর্পণ করাই ভালো অথবা বলতে হবে এ মুহূর্তে মনে পরতেছে না বা এটা আমার ভালো জানা নেই। এতে করে সময় নষ্ট হবে না। long case যে খাতাটি দেয়া হয় , সেটি প্রকৃত পক্ষে কখনোই পরীক্ষক দেখেন না। সেটা আপনি রোগীর নাম এবং বেক্তিগত তথ্যগুলো সংক্ষেপে লিখে রাখলে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর মনে মনে রোগীর History সাজাতে কাজে লাগাবেন। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় দু'জন পরীক্ষক আগে থেকেই কোনো একটি বিষয় ঠিক করে রাখেন যেটা আপনার ক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকলে আপনাকে পাস নাম্বার দেয়া হবে না। উদাহরন স্বরূপ, আপনি যদি কোন রোগীর Nephrotic Syndrome suspect করেন আর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোগীকে heat coagulation test করার জন্য না বলেন বা ব্যবস্থা না করেন , সে ক্ষেত্রে আপনি পাস নাম্বার না পাওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট । এ ক্ষেত্রে সময় যথেষ্ট থাকে না বিধায় প্রথমে পাঁচ - সাত মিনিটের মধ্যে সংক্ষেপে History নিয়ে দ্রুত clinical exam ( generel and related systemic) শুরু করে দিন। History এর বাকি অংশ clinical exam এর সাথে সাথে নিবেন।

Short Case এ আপনাকে যে পরীক্ষা করতে বলা হবে সেটার কোনো পয়েন্ট বাদ রাখবেন না । আপনার examination method ঠিক থাকলে, আর কোন পয়েন্ট বাদ না পরলে আপনি সহজেই পাস করার আসা করতে পারেন। liver palpation করতে গেলে palpable হোক আর না হোক আপনি অবশ্যই upper border of liver dullness দেখবেন। abdomen examination করতে দিলে testicles দেখতে ভুলবেন না। lower limb neurological examination করতে দিলে vertibral column palpation/percussion করতে ভুলবেন না। Fundoscopy করতে দিলে red reflex এর কথা বলতে ভুলবেন না । respiratory exam from back করতে দিলে শেষ দিকে সামনে এসে position of trachea দেখতে ভুলবেন না। তেমনি precordium দেখতে দিলে শেষে প্রয়োজন বোধে base of lung দেখতে ভুলবেন না। কোন রোগীকে hypothyroid সন্দেহ করলে তার delayed relaxation of ankle jerk দেখতে এবং পরীক্ষকের সামনে বলতে ভুলবেন না। lymph node exam করার ক্ষেত্রে site, size, number, consistency, fixation, tenderness, discharging sinus ইত্যাদি সব উল্লেখ করতে হবে। পরীক্ষক কি কি investigation করবেন জানতে চাইলে, investigation বলার সাথে সাথে সেটার প্রত্যাশিত result নিজে থেকেই বলে দিতে চেষ্টা করবেন।

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাতে আপনাকে বুদ্ধিমত্তার সাথে/ উপযুক্ত ক্ষেত্রে less likely, more likely, point in favour , point against, it is common/ uncommon in our country ইত্যাদি শব্দগুলোর ব্যাবহার শিখতে হবে। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাতে আগে থেকে case জানার চেস্টা করলে বরং অকৃতকার্য হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে ।

পরীক্ষার হলে বয়োকনিষ্ঠ রোগীকে আদর করে 'তুমি' বলতে যাবেন না। এটা আপনার বিরুদ্ধে যেতে পারে। সব রোগীকে 'আপনি' করে বলুন।

রোগীকে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করার মুহূর্তে আপনার এবং রোগীর উভয়ের comfortable position অত্যাবশ্যকীয় । introduction, greeting, consent, right side, proper exposure, female attendent (if needed), adequet day light, temperature of your hand (specially in cold season) ইত্যাদির ব্যাপারে ভুলবেন না । পরীক্ষার আগে রোগী দেখার জন্য NICVD, NIDCH, NINS যাওয়া উচিত। সেখানে একসাথে বিভিন্ন রোগীর বিভিন্ন findings গুলো তুলনা করে সহজে শেখা যায় । ওয়ার্ডে রোগী দেখার সময় DD, confirmatory test, Rx, prognosis, poor or good prognostic factors, complications, sequele, indication of surgery (eg in ulcerative colitis, liver abscess), contra indication of surgery (eg bronchogenic carcinoma) , what to do if surgery contraindicated (eg in ca head of pancreas) আলোচনা করে নিতে চেষ্টা করবেন।

 

ওয়ার্ডে আপনি রোগীর সঠিক চিকিৎসার প্রতি নিজের মন থেকে যত বেশি গুরুত্ব দিবেন , আপনি তত বেশি দক্ষ হতে পারবেন। academic corner এর programme গুলিতে নিয়মিত অংশগ্রহন করবেন।

বার বার রোগী দেখুন। গাইতে গাইতে গায়েন । সাফল্যের সংক্ষিপ্ত কোন পথ নেই। তিলে তিলেই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। মনে রাখবেন, পরিশ্রম করার পর দুর্ভাগ্যের আশংকা করা যায়, কিন্তু পরিশ্রম না করে সৌভাগ্যের আশা করাটা বোকামি এবং অন্যায়।

কেউ কেউ জানতে চান রেসিডেন্সি কোর্স না কি আরো কঠিন করা হচ্ছে ? যে কোনো কোর্স সময়ের সাথে আপডেট করাটাই স্বাভাবিক । সে নিয়ে চিন্তা করলে হবে কিভাবে? যত গর্জে তত বর্ষে না। আপনি নিজে পরিশ্রম করতে থাকুন। সাফল্য আপনার পায়ে এসে ধরা দিবে।

কদাচিৎ কেউ কেউ আলোচনা করে, আমরা এই মেডিক্যালের পরীক্ষার্থীরা ওই মেডিক্যালে পরীক্ষা দিতে গেলে ওখানকার পরীক্ষকেরা আমাদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরন করবে না তো ? মূলত এ ধরনের আশংকা অযৌক্তিক। বরং একজন পরীক্ষার্থীর উচিত নিজেকে দক্ষ করে প্রস্তুত করা। নিজের optimum knowledge, skill, attitude থাকলে মঙ্গল গ্রহে গিয়ে পরীক্ষা দিলে এবং সেখানে পরিচিত কোন শিক্ষক কেউ না থাকলেও পরীক্ষার্থী পাস করবেন।

কেউ যদি বিদেশে post graduation করতে চান, তাহলে এমবিবিএস পাস করা মাত্র সে ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করুন। যতদূর জানা গেছে , এমবিবিএস পাসের পর একটা নির্দিষ্ট সময় পার (কয়েক বছর) হয়ে গেলে USA, UK তে এ ব্যাপারে আর সুযোগ থাকে না। এ ব্যাপারে সময়মতো নিশ্চিত তথ্য নিজ দায়িত্বে জেনে নিন।

 

যে কোনো প্রয়োজনে পরিচিত সিনিয়র ভাই/ আপুর পরামর্শ নিন। আপনার নিজের ব্যাপারে আপনার নিজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত । মত পার্থক্য থাকতে পারে। সব কিছুতেই ব্যতিক্রম আছে। ব্যতিক্রম কখনোই উদাহরন নয়।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত