ঢাকা      মঙ্গলবার ২০, অগাস্ট ২০১৯ - ৫, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. আরিফ উদ্দিন

বিসিএস (স্বাস্থ্য), অ্যাসিসট্যান্ট সার্জন


এপিডুরাল এনালজেসিয়ার মাধ্যমে ব্যথামুক্ত নরমাল ডেলিভারী সম্ভব

কিছুদিন পরপর পরপর আলোচনার ঝড় উঠে বাংলাদেশে কেন এতো বেশী সিজার হয়। কেন নরমাল ডেলিভারী হাসপাতালে অনেক কম হয় ......
 

এর মধ্যে অনেকের কমেন্ট দেখে হাসিও পায়, কষ্টও লাগে -তাদের বক্তব্য হচ্ছে আজকালকার মায়েরা বেশী আরামপ্রিয় হয়ে গিয়েছে। তারা কষ্ট সহ্য করতে চায়না !

ভাইরে অন্যকে উপদেশ দেয়া অনেক সহজ। বেশী কিছু লাগবে না- নিজের হাতের একটা আঙুল কেটে দেখেন, কেমন লাগে ! আর প্রসব ব্যাথা তো তার চেয়ে বহুগুণ বেশী যন্তণাদায়ক। 

এপিডুরাল (ছবিতে প্রদর্শিত ) এনালজেসিয়ার মাধ্যমে অনেকটা ব্যথামুক্তি নরমাল ডেলিভারী সম্ভব। উন্নত বিশ্ব এমনকি পাশের দেশ ভারতেও একেবারে রুটিনলি এপিডুরাল দিয়ে নরমাল ডেলিভারী হয়। 


এমনকি যে মধ্যপ্রাচ্যের আরবদের নিয়ে আমরা হাসাহাসি করি - সেই দুবাই /সৌদিতেও আজ থেকে ৩০ বছর আগে থেকেই এপিডুরাল ব্যবহৃত হয়। আর আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে এখনো মধ্যযুগে পড়ে আছি !

এমনকি সিজার করলেও সেটা এপিডুরালে করা অনেক অনেক ভালো। সিজার পরবর্তী যে পোস্ট অপারেটিভ পেইন হয় -সেটাও অসহ্য। পেটে এতো বড় করে কাটার পর সেলাই এর জায়গায় যে ব্যথা হয় সেটা যার হয় শুধু সেই বুঝে। দৈনিক ৩/৪ টা পেথিডিন /ডাইক্লোফেনাক সাপোজিটরি দিয়েও সেই ব্যথা কমে না। 

এপিডুরাল ক্যাথেটার দেয়া থাকলে সেখান দিয়ে অপারেশনের পরের ২/৩ দিনও ঔষধ দেয়া যায়। 

রোগীর চেহারা দেখেই যে কেউ বুঝতে পারবে -পার্থক্য কেমন ! যাকে এপিডুরাল দেয়া হয়েছে আর যাকে দেয়া হয়নি দুজনের ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন ই বলে দিবে এপিডুরাল এর ইনডিকেশন! 

মধ্যপ্রাচ্যের একটা গল্প বলি। এক শেখ গিয়েছেন হাসপাতালে তার বৌ এর ডেলিভারী হবে এজন্য। .

তো এপিডুরাল দিয়ে নরমাল ডেলিভারীর উদ্যোগ নেয়া হলো। এনেস্থেশিওলোজিস্ট এপিডুরাল দিচ্ছেন পিঠে। শেখ পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন। 

এপিডুরাল দেয়ার সময় লস অব রেজিস্টেন্স দেখার জন্য একটু পরপর সিরিঞ্জ এর ভেতর দিয়ে বাতাস দিয়ে দেখতে হয় -লিগামেন্ট ক্রস করলো কিনা। এপিডুরাল স্পেসে পৌঁছালে ভেতরে সহজে বাতাস চলে যাবে -এরপর ওখানে ঔষধ দেয়া হয়। 

তো এপিডুরাল দেয়া হচ্ছিল শেখের বৌকে। এরমধ্যে হঠাৎ শেখ ক্ষেপে গেলো। সে এনেস্থেশিওলোজিস্ট কে দৌড়ানি দিলো ! ডাক্তার ও দৌড়ায় -শেখ ও দৌড়ায়! রুমের মধ্যেই ডাক্তার চক্কর দিচ্ছে - পালানোর জায়গা নাই। 

অনেক কষ্টে শেখ কে স্টাফরা থামালো। পরে আরবী অনুবাদক শেখ কে জিজ্ঞেস করলো 
-তোমার সমস্যা কি?

ডাক্তার কে দৌড়ানি দাও কেন? ?


শেখের উত্তর ছিলো -
দৌড়ানি দিবো না? 
He was not giving দাওয়া 
He was giving হাওয়া !

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঈদে ভোজন-পূর্ব যে বিষয়গুলোতে দৃষ্টি রাখবেন

ঈদে ভোজন-পূর্ব যে বিষয়গুলোতে দৃষ্টি রাখবেন

শুরুতেই ঈদ মোবারক। কোরবানী ঈদের সবচেয়ে আনন্দদায়ক, আকর্ষনীয় শেষ পর্ব- মাংস কাটা,…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর