০১ জানুয়ারী, ২০১৭ ০২:৫৬ পিএম

ডাক্তার থেকে কণ্ঠশিল্পী তৌহিদ

ডাক্তার থেকে কণ্ঠশিল্পী তৌহিদ

নওগাঁ জেলার প্রত্যন্ত উপজেলা মহাদেবপুর। এই উপজেলায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ একটি হাসপাতাল রয়েছে।

এখানে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে কাজ করেন তৌহিদুর রহমান। থাকেন নওগাঁ সদরে। প্রতিদিন ২৬ কিলোমিটার পথ বাসে অতিক্রম করে নিজের দায়িত্ব পালন করে যান ডা. তৌহিদ। ডাক্তারি, সংসার আর এর পাশাপাশি টুকটাক শখের বশে গান করা।

এখন সোশাল মিডিয়ার যুগ। আপনি চাইলে দুই লাইন লিখে দুই লাখ মানুষকে পড়াতে না পারলে অন্তত ২০ জনকে অথবা ১০ জনকে পড়াতে পারবেন তো। ঠিক তৌহিদও এভাবে কিছুটা হয়ত চিন্তা করেছিলেন যার ফলে ফেসবুকে টুকটাক নিজের গাওয়া 'র' ভিডিও আপলোড করতেন।  

এভাবেই কণ্ঠশিল্পী লুৎফরের চোখে পড়ে তৌহিদের গাওয়া গান। তিনি দেখলেন ছেলেটা তো ভালোই গায়। লুৎফর উৎসাহ দিলেন, এও বললেন কোনোদিন গানের বিষয়ে কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন পড়লে বলতে। তৌহিদের তো মনের ভেতরে গান বাসা বেঁধে আছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও গানের প্রতি দারুণ মোহ কাজ করে এই তরুণের।

তৌহিদ বলেন, ফাইনালি আমি লুৎফর ভাইকে বললাম আমি একটি গান করতে চাই। তিনি একটা গান দিয়ে বললেন এটা আপনার কণ্ঠে যায়। আপনার গায়কীতে ভালো হবে। এভাবেই 'ব্যর্থ মাঝি' গানটাতে আমি কণ্ঠ দিই। গানটা গেয়ে আমি তৃপ্তি পেয়েছি। এত উঁচু মানের কথা এ সময়ে সহজে কেউ লেখে না। আমার ভালো লেগেছে। গতকাল থেকে বেশকিছু ফোন পেয়েছি, এটাইতো আমার পাওয়া।

কণ্ঠশিল্পী লুৎফর শনিবার ফেসবুকে বলেন, গানটা আমার নিজের। গত ১৫ বছরে কত জায়গায় গেয়েছি। আমার লেখা ও সুরের গানগুলোর গাইড ভয়েস দিচ্ছিলাম আমজাদ ভাইয়ের ওখানে। তিনি ওগুলোর মিউজিক করছেন। তৌহিদুর রহমান তৌহিদ ভাই প্রিয় মানুষ। সরকারি ডাক্তার। গানপাগল মানুষ। তার শখ, আমার গান গাইবেন। গাইলেন আমার প্রিয় গান 'আমি ব্যর্থ মাঝি, পাল চিনি না..'।

তৌহিদ পড়েছেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঢাকাতেই ছিলেন। ৩৩তম বিসিএসে অংশ নিয়ে সরকারি ডাক্তার হয়ে গেলেন। চলে গেলেন নওগাঁ। কে জানতো, মফস্বল থেকে তৌহিদের কণ্ঠ ফের ঢাকায় ছুটে আসবে! ডাক্তার থেকে গায়ক হয়ে তৌহিদের কণ্ঠ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।  

 

সৌজন্যে : কালের কণ্ঠ। 

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত