২৭ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০৯:৪২ এএম

টিউমার ও জন হান্টার

টিউমার ও জন হান্টার

কমপক্ষে ২০০ বছর আগে জন হান্টার নামের একজন শল্যচিকিৎসক ১৭৮৬ সালে একজন রোগীর শরীরে ‘হাড়ের মতো শক্ত একটি টিউমার’ চিহ্নিত করেছিলেন।রয়েল মার্সডেন হসপিটালের একদল ক্যানসার চিকিৎসক ওই রোগীকে বিশ্লেষণ করেন এবং লন্ডনে অবস্থিত হান্টারিয়ান নামের জাদুঘরে তা সংরক্ষিত রাখা হয়।

টিউমার দেখে রোগনির্ণয়ে হান্টারের সাফল্যের ব্যাপারে গবেষক দল যেমন নিশ্চিত হয়েছেন, তেমনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসারের ক্রমপরিবর্তন সম্পর্কেও ইঙ্গিত পেয়েছেন। গবেষক ক্রিস্টিনা মেসিউ বলেন, তাঁরা আনন্দের মাধ্যমেই কাজটা করেছিলেন। কিন্তু জন হান্টারের অন্তর্দৃষ্টি দেখে অভিভূত হন।

জন হান্টার ১৭৭৬ সালে রাজা তৃতীয় জর্জের চিকিৎসক পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। চিকিৎসাবিদ্যাকে কাটা-ছেঁড়ার গণ্ডি থেকে বিজ্ঞানের পর্যায়ে উন্নীত করতে তিনি শ্রম ব্যয় করেন। জানা যায়, তিনি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে একটি বই লেখার আকাংক্ষা করেই গনোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

চিকিৎসাবিদ্যায় হান্টারের বিশাল কাজের তথ্যপ্রমাণ রয়েল কলেজ অব সার্জনসের হান্টারিয়ান মিউজিয়ামে রাখা হয়েছে। এতে ১৭৮৬ সালে সেন্ট জর্জস হাসপাতালে আসা এক ব্যক্তির বর্ণনায় হান্টারের রঙিন কালিতে লেখা নোট অনুযায়ী, লোকটির ঊরুর নিচের অংশে শক্ত কিছু ছিল।

তিনি লিখেছেন, এটাকে ঘন হাড়ের মতো মনে হচ্ছিল। দ্রুত বাড়ছিল তাই আক্রান্ত অংশ পরীক্ষা করে দেখা যায়, টিউমারের মতো। মনে হচ্ছে এটা হাড় থেকেই তৈরি হয়েছে।

জন হান্টার ওই ব্যক্তির পায়ে অস্ত্রোপচার করেছিলেন। সপ্তাহ চারেক পরই লোকটি সেরে উঠেছিল। সাত সপ্তাহ পর ওই রোগীর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে দেখা যায়, তার ফুসফুসেও হাড়ের মতো টিউমার ছড়িয়ে পড়েছিল।

ঘটনাটির প্রায় ২০০ বছর গরিয়েছে সেই অস্ত্রোপচারের তথ্য ঘেঁটে ক্রিস্টিনা মেসিউ বলেছেন, টিউমারের বৈশিষ্ট্যগুলো হান্টার ঠিকঠাক চিনতে পেরেছিলেন। আধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁরা দেখেছেন, ওই রোগনির্ণয় সঠিক ছিল।

এখন হান্টারের ঐতিহাসিক নমুনা এবং সমসাময়িক টিউমারের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করার সুযোগ এসেছে। এতে বোঝা যাবে, ক্যানসার রোগটি ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল-এ প্রকাশিত হয়েছে।

 

সূত্রঃ বিবিসি

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত