২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১২:১১ পিএম

নকল দুধ!

নকল দুধ!

গরুর দুধ এক প্রকার তরল পুষ্টিকর উপাদান। যা মানবদেহে বিভিন্ন ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। গরুর দুধে পানি মিশিয়ে মানুষকে বোকা বানানোর গল্পটি অনেক পুরনো। কিন্তু সয়াবিন তেল আর রাসায়নিক মিশিয়ে গরুর খাঁটি দুধ তৈরি করা যায় এরুপ ঘটনা এই প্রথম।

বগুড়ায় সন্ধান পাওয়া গেছে সে রকমই একটি কারখানার। দুই বছর ধরে এই ‘ভয়ংকর দুধ’ বাজারজাতও করা হচ্ছে। অসাধু এই চক্রের অন্যতম ক্রেতা হলো ব্র্যাক দুগ্ধ সেন্টার। এ ছাড়া বিভিন্ন হাটবাজার ও বাসাবাড়িতে দুই বছরে প্রায় তিন লাখ ৬০ হাজার লিটার ক্ষতিকর এই নকল দুধ বিক্রি করা হয়েছে।

রবিবার বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশ সোনাতলা উপজেলায় গরুর নকল দুধ তৈরির কারখানায় অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় গরুর নকল দুধ তৈরির তিন কারিগরকে। অভিযানকালে সেখানে পাওয়া যায় গরুর ১০০ লিটার নকল দুধ এবং আড়াই হাজার লিটার দুধ তৈরি করার মতো সমপরিমাণ রাসায়নিক ও বিভিন্ন সরঞ্জাম। বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশের একটি দল রবিবার সোনাতলার শিহিপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আলহাজ আব্দুল মান্নানের বাড়িতে অভিযান চালায়। ওই বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় পাবনার বেড়ার নাকালিয়া গ্রামের সরজিত ঘোষ, পাটুরিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুল হান্নান ও সোনাতলার পাকুল্লা ঘোষপাড়ার সজিব কুমার ঘোষকে। তারা ওই বাড়ি ভাড়া নিয়ে গরুর নকল দুধ তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছিল।

গোয়েন্দা পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ১০০ লিটার নকল দুধ, ১০ কেজি পার অক্সাইড, ২৫ কেজি হোয়াইট পাউডার, ১০ কেজি গ্লুকোজ পাউডার, পাঁচটি ব্লেন্ডার মেশিন, ২০ লিটার সয়াবিন তেল, চারটি বড় সাইজের অ্যালুমিনিয়ামের পাতিল ছাড়াও বিভিন্ন সরঞ্জাম আটক করে। দুই বছর ধরে প্রতিদিন ৫০০ লিটার করে দুধ তারা সরবরাহ করছিল।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, তারা অল্প পরিমাণ খাঁটি দুধের সঙ্গে পানি, সয়াবিন তেল, পার অক্সাইড ও হোয়াইট পাউডার ব্লেন্ডার মেশিনে মিশ্রিত করে দুধের ফ্লেভার ও রং তৈরি করছিল। এরপর নকল ওই দুধ গরুর খাঁটি দুধ হিসেবে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা ছাড়াও ব্র্যাকের দুধ ক্রয় কেন্দ্রে দুই বছর ধরে সরবরাহ করছিল।

সোনাতলা এলাকার দুধ ব্যবসায়ী দিজেন্দ্র নাথ ঘোষ দাবি করেন, নকল দুধে বাজার ভরা। তবে কোনো ঘোষই নকল দুধ তৈরি করে না। তাঁর দাবি, দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের লোকেরা নকল দুধ তৈরি করে।

প্রান্তিক গো-খামারি আবুল হোসেন বলেন, ‘নকলবাজদের কারণে আমরা বিপাকে পড়েছি। আগে বাসাবাড়িতে প্রতিদিন দুধ দিয়ে সপ্তাহ পর টাকা নিয়ে ওই টাকায় গোখাদ্য কিনতাম। এখন প্যাকেট দুধের কারণে সেটিও সম্ভব হয় না। ’

বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. অর্ধেন্দু দেব জানান, রাসায়নিক মিশ্রিত এসব নকল দুধ খেলে মানবদেহে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, কিডনি ও লিভার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সিরাজুল আলম বাপ্পী জানান, এ ধরনের নকল দুধ মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই দুধ নিয়মিত পান করলে শিশুদের কিডনি নষ্ট হওয়া, ব্রেনে রক্তক্ষরণ ছাড়াও মেধা বিকাশে চরম অন্তরায় হবে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা ছাড়াও আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত