০৫ জানুয়ারী, ২০২৩ ১০:৩১ পিএম

ঠান্ডাজনিত রোগে মৃত্যু ৬৪, অতিরিক্ত রোগীর চাপ হাসপাতালে

ঠান্ডাজনিত রোগে মৃত্যু ৬৪, অতিরিক্ত রোগীর চাপ হাসপাতালে
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ৫০৮ জন।

সাখাওয়াত আল হোসাইন: সারাদেশে বেড়েছে শীতের প্রকোপ। কয়েক দিন ধরে কনকনে শীত পড়ছে। সকাল ও সন্ধ্যার পর ঠান্ডা বাড়ছে। কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা পাওয়াই দুস্কর। আর ঠান্ডার কারণে বাড়ছে রোগের প্রকোপ। ঠান্ডা-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ভাইরাল ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন নবজাতক, শিশু ও বৃদ্ধরা। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার শীতের কারণে হাসপাতাল রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। গত বছরের ১৪ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ঠান্ডাজনিত রোগে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৪ জনের। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ৫০৮ জন। এর বেশির ভাগ ভুক্তভোগী শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। শীতে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পেতে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঠান্ডাজনিত রোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় রোগটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২৪জন। গত বছরের ১৪ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ঠান্ডাজনিত রোগে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৪ জনের। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ৫০৮ জন।

অধিদপ্তর আরও বলছে, এখন পর্যন্ত শীতে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। বিভাগটিতে মোট মৃত্যু সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪৫ জনে। শুধু কক্সবাজার জেলাতে মারা গেছে ৩১ জন। হাসপাতালে ভর্তির দিকে দিয়েও শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। মোট ১৭ হাজার ৬৭ জন ভর্তি হয়েছেন।

কেন বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শীতের প্রকোপ বেশি। অনেকেই ঠান্ডায় শরীরের সাথে সহনশীল পোশাক পরিধান করছেন না। এতেই শরীরে বাসা বাধে সর্দি, কাশিসহ ঠান্ডাজনিত রোগ।

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শিশু বিভাগের রেসপিরেটরি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ বলেন, ‘সারাদেশে এখন প্রচণ্ড শীত পড়ছে। এই সময়ে ভাইরাস জনিত রোগগুলো সক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় মানুষ একসাথে বসে আড্ডা দেয়, গাদাগাদি করে বসে থাকে। গরমকালে মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, কিন্তু শীতকালে একসঙ্গে থাকে বেশি। জ্বর-সর্দি, কাশি শুধু ঠান্ডার কারণে হয় না। এসব রোগ একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়ায়।’ 

তিনি বলেন, ‘শীতের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান বেশি হয়। যেমন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিয়ে ইত্যাদি। এখানে মানুষের প্রচুর সমাগম হয়, এতে ভাইরাসজনিত রোগগুলো বেশি ছড়ায়।’

বিএসএমএমইউর শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. সেলিনা খানম বলেন, ‘বর্তমানে ঠান্ডার মাত্রাটা বেশি। এর আগে কখনও এমন শীত দেখা যায়নি। হঠাৎ করে গরম, হঠাৎ ঠান্ডা; তাতে বাচ্চাদের এলার্জিটা বেশি দেখা দেয়। এতে বাচ্চারা ভাইরাসেও আক্রান্ত হয়। শীত এমনিতেই শুষ্ক আবহাওয়া। এজন্য রাস্তা-ঘাটে ধুলাবালি বেশি থাকে।’

তিনি বলেন, ‘শীত আসার আগেই শিশুদের প্রস্তুতি নিতে হয়। শিশুদের শরীর গরম রাখতে কান টুপি, হাত মোজা ইত্যাদি কিনে রাখতে হয়। ঠান্ডাতে শিশুদেরকে বাতাসে নিয়ে যাওয়া যাবে না। ঠান্ডার মধ্যে সকালে, সন্ধ্যা, রাতে শিশুদেরকে ভ্রমণ করা যাবে না, তাতে বক্ষব্যাধি সংক্রান্ত ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।’

শরীরে কাপুনি রোগ বেড়েছে

শীতের মধ্যে বেড়ে গেছে কাপুনি রোগ, এ নিয়ে অনেকেই আতংকিত। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ঠান্ডা যাতে না লাগে সেজন্য শরীর গরম রাখতে হবে এবং ঘরের মধ্যে থাকতে হবে। শরীরে তেল দিলেও অনেক সময় কাপুনি চলে যায়।  আবার লেপ বা কাথা মুড়িয়ে শুয়ে থাকলে এই কাপুনি চলে যায়।

স্কিনে সমস্যা

ঠান্ডার কারণে ইদানিং শিশুসহ বিভিন্ন বয়স্করা স্কিনের সমস্যায় ভুগছেন, হাসপাতালেও বেড়েছে এ রোগীদের সংখ্যা। জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. সেলিনা বলেন, শীতকালে ধুলাবালির কারণে শিশুসহ সবার স্কিনে বেশি সমস্যা দেখা যাচ্ছে। স্কিন থেকেই স্কিন এলার্জি হয়ে থাকে। স্কিন পরিস্কার রাখতে হবে। সেই সঙ্গে শরীরে লোশান, তেল, মেরিল ইত্যাদি দিতে হবে।

উত্তরণের উপায়

ডা. শামীম আহমেদ বলেন, শরীরের সাথে সহনশীল গরম পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। বিরুপ আবহাওয়ায় বাহিরে না যাওয়াই ভালো। এতে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। এই শীতের মধ্যে শিশুদের বিশেষ যত্ম নিতে হবে। শিশুর গায়ে তেল মেখে রোদে দেওয়া যেতে পারে। শিশুদের তরল খাবার বেশি খাওয়াতে হবে। গরম দুধ ও মধু ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। শিশুদেরকে খাবারের বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। ভিটামিন ‘সি’ সহ বিভিন্ন ধরনের ফল-মূল খাওয়াতে হবে। সেই সঙ্গে সবজি জাতীয় খাবারও খাওয়াতে হবে।

অভিভাবকের করণীয়

ডা. সেলিনা বলেন, অভিভাবকদের প্রথম করণীয় বাচ্চাদেরকে গরমে রাখতে হবে। ঠান্ডা কোনোভাবেই প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। ঠান্ডা পানিতে শিশুকে গোসল করানো যাবে না, শীত ও কুয়াশায় মাটিতে বসিয়ে রাখা যাবে না। বাচ্চাদেরকে নিয়ে অযথা বাহিরে হাটাহাটি ও ঘুরাঘুরি করা যাবে না। শিশুকে ঘরের মধ্যে গরম রাখতে হবে।

ভ্যাকসিন

ডা. শামীম বলেন, শীতের আগেই শিশুদের নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগের ভ্যাকসিন নিয়ে নেওয়া উচিত। এতে শিশুর শরীর সুরক্ষিত থাকে।

এএইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক