০৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:৩৯ পিএম

দোকানদারের ছুরিকাঘাত: বাঁচানো গেল না মেডিকেল শিক্ষার্থী ফাহিমকে

দোকানদারের ছুরিকাঘাত: বাঁচানো গেল না মেডিকেল শিক্ষার্থী ফাহিমকে
ফাহিম রহমান।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দোকানদারের ছুরিকাঘাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিম রহমান। আজ রোববার (৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের লাইফসাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বিষয়টি মেডিভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন একাধিক মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক

ফাহিমের একাধিক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে মেডিকেল গেইটের পাশে থাকা দোকানে নাস্তা করার জন্য যান ফাহিম। দোকানদার তাঁকে পচা-বাঁশি খাবার দেন, এতে রাগান্বিত হয়ে যান তিনি। কথার এক পর্যায়ে দোকানদার ফাহিমের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন এবং ফাহিমের গায়ে হাত দেন। এতে ফাহিমও দোকানদারের গায়ে তুলতে গেলে পাশে থাকা দোকানদারের ছেলে ছুরি নিয়ে এসে ফাহিমের পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দেন। এতে ফাহিমের নাড়ি ভুড়ি বের হয়ে যায়।

পরে পাশে থাকা লোকজন সাথে সাথে ফাহিমকে বগুড়া মেডিকেলের জরুরি বিভাগের ভর্তি করান। কয়েকদিন পরে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। অপরিচ্ছন্ন ছুরি দিয়ে আঘাত করার কারণে ইনফেকশন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

অবস্থার অবনতি হওয়ায় হেলিকপ্টার যোগে তাৎক্ষণিক ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ফাহিমকে। সেখানে আরেকটি অস্ত্রোপচার করা হয়। তাতেও ফাহিমের অবস্থার উন্নতি হয়নি। পাঁচদিন আগে ‘ক্লিনিক্যাল ডেথ’ মৃত্যুরবণ করেন। বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের অনুরোধে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে ফাহিমকে হাসপাতালে রাখা হয়। অবশেষে আজ সকাল নয়টার দিকে বন্ধুদের অশ্রুজলে বিদায় নেন ফাহিম।

জানতে চাইলে বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক রাসেল আহমেদ মেডিভয়েসকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে একটি মামলা হয়েছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম জানান, এ ঘটনার প্রধান দুই আসামি বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিরা জেলহাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা হত্যা মামলায় পরিবর্তিত হবে।

ফাহিম ছিলেন বগুড়া মেডিকেলের ২৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মৃত্যুকালে ফাহিমের বয়স হয়েছিল ২৬ বছর। এ ঘটনার পর থেকে শোকে স্তব্ধ পুরো মেডিকেল ক্যাম্পাস। তাঁর অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে চিকিৎসক সমাজ।

স্মৃতিচারণ করে ফাহিমের বন্ধু ডা. মো. সায়েম চৌধুরী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ফাহিম আমাদের একজন ভালো বন্ধু ছিল। দুই সপ্তাহ আগেও আমাদের খেলাধুলা করেছিল। সবখানে ফাহিমকে পাওয়া যেত। ফাহিমকে বাঁচানোর জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। আল্লাহ তাকে দুনিয়া থেকে নিয়ে গেছেন।’

ফাহিমের বন্ধু মঈনুল হাসান হিমেল বলেন, ফাহিমের আমার বিপরীত পাশের রুমে থাকতো। সবসময় একসাথে আড্ডা দিতাম। সবসময় একসাথে থাকতাম। এত বড় একটা ঘটনা ঘটলো, এখন দুঃখ প্রকাশ করার মতো কোনো ভাষা নেই, আমরা শোকে স্তব্ধ। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : মেডিকেল শিক্ষার্থীর মৃত্যু
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি