ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন

ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন

নার্স ও পুষ্টিবিদ,
বিএসসি ইন নার্সিং (চবি), এমপিএইচ ইন নিউট্রিশন (ইবি)।


০৫ অক্টোবর, ২০২২ ০৪:১৫ পিএম

স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে নার্সিং পেশার মান্নোয়ন প্রয়োজন

স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে নার্সিং পেশার মান্নোয়ন প্রয়োজন
যদি নার্সদের পদ বিন্যাস সৃজন করা যায়, তাহলে এসডিজি অর্জন সহজতর হবে এবং আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যাবো।

একটি দেশের স্বাস্থ্য সেবার মানদণ্ড ৮০ শতাংশ নার্সিং সেবার মানের উপর নির্ভরশীল। পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সিঙ্গাপুর, ভারত, ইংলান্ড আমেরিকাসহ যেসব দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত, ওইসব দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির পেছনে নার্সদের সেবা প্রদানের ভূমিকা রয়েছে। পাশের দেশ ভারত, মায়ানমার, সিঙ্গাপুরসহ যেসব দেশগুলোতে আমরা দেখি স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত, তারা তাদের নার্সিং পেশাকে উন্নতি করে সম্ভব করেছে। এ জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে নার্সদের উন্নতিকল্পে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেওয়ার জন্য গুরুত্বারোপ করেছিলেন।

স্বাস্থ্য সেবায় নার্সিং খাতের অবদান 

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সেবায় যুগ যুগ ধরে নার্সিং খাত অবদান রেখে চলেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সকল অর্জন যেমন মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমানো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভ্যাকসিন হিরো পুরস্কারসহ সর্বশেষ করোনা মোকাবিলায় নার্সদের আত্মত্যাগ ও নিবেদিত প্রাণ কর্মতৎপরতা দেশ ও জাতির কল্যাণে তাদের যে দায়িত্ববোধ তাই প্রমাণ করে। একটি দেশের স্বাস্থ্য সেবার মানদণ্ড ৮০ শতাংশ নার্সিং সেবার মানের উপর নির্ভরশীল।

স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির পেছনে নার্সদের গুরুত্ব

পর্যালোচনা করে দেখা যায় সিঙ্গাপুর,ভারত, ইংলান্ড আমেরিকাসহ যেসব দেশের স্বাস্থ্য সেবসর মান উন্নত ওইসব দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির পেছনে নার্সদের সেবা প্রদানটা দায়ী। পাশের দেশ ভারত, মায়ানমার, সিঙ্গাপুর সহ যেসব দেশগুলোতে আমরা দেখি স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত তারা তাদের  নার্সিং পেশাকে উন্নতি করে সম্ভব করেছে। এজন্য বঙ্গবন্ধু তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে নার্সদের উন্নতিকল্পে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেওয়ার জন্য গুরুত্বারোপ করেছিলেন।

বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া। এজন্য প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্য সেবাকে গ্রামের মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে স্বাস্থ্য সেবার মান ও সুবিধা বৃদ্ধি করেছেন তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের আমলে প্রায় ৩২ হাজার নার্স ও আড়াই হাজার মিডওয়াইফ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৭ হাজার নার্স সরকারিভাবে কর্মরত।

নার্সিং পেশার মান্নোয়ন প্রয়োজন

২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে দুই লাখ ৫০ হাজার নার্সের প্রয়োজন হবে। কারণ তখন আমাদের ষাটোর্ধ মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য জেরিয়াট্রিক সেবা কেন্দ্র দরকার। সেবার মান বেড়েছে যেভাবে সে অনুপাতে বেড়েছে জনবল নার্সিং খাতে। তাই এ বিশাল জনবলকে সুষ্ঠুভাবে মনিটরিং দরকার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মিশন ভিশন গ্রাম হবে শহর, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার যে প্রয়াস তা সঠিকভাবে পালন করতে হলে অপার সম্ভাবনাময়ী এ নার্সিং পেশায় পদ বিন্যাস প্রয়োজন। জনগণের সেবা প্রাপ্তি সহজীকরণ ও নার্সদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (অটোমেশন) সময়োপযোগী দক্ষ ও আধুনিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে, এ পেশায় প্রশাসনিক সক্ষমতা ও পদবিন্যাস বা  উচ্চতর গ্রেডের নতুন পদ সৃজন অনেকটা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাশের দেশ ভারত, মায়ানমার, সিঙ্গাপুরসহ যেসব দেশগুলোতে আমরা দেখি স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত তাদের নার্সিং পেশাকে উন্নতি করে সম্ভব হয়েছে।

সুতরাং বলা চলে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন করতে হলে, নার্সিং পেশার মান্নোয়নে প্রয়োজন। নার্সদের সুষ্ঠু জনবল কাঠামো বা পদসোপান তৈরির মাধ্যমে নার্সিং পেশার মান্নোয়ন সর্বোপরি স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।

স্বাস্থ্য সেবার ৮০ শতাংশ কাজ করেন নার্সরা

রোগীর পথ্যসেবন থেকে শুরু করে বেডসাইড নার্সিং কেয়ারসহ রোগীর স্বাস্থ্য সেবার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ করেন নার্সরা। রোগীকে নার্সিং সেবা প্রদানের নিমিত্তে নার্সদের অন্যন্য স্বাস্থ্য কর্মীদের চেয়ে বেশি সময় রোগীর কাছে থাকতে হয়।

বর্তমান সরকারের একটি উদ্যোগ হচ্ছে বিশেষায়িত নার্স তৈরি করা। বিশ্বের অন্যন্য দেশের ন্যায় বিশেষায়িত নার্স তৈরি হলে, এ দেশের স্বাস্থ্য সেবা অভুতপুর্ব পরিবর্তন আসবে। এজন্য নার্স কনসালটেন্ট পদ সৃজন করা প্রয়োজন।

সেবা সহজীকরণ অবাধ তথ্য প্রবাহ বর্তমান সরকারের একটি যুগপৎ সিদ্ধান্ত। নার্সিং পেশায় ও এ ধারাবাহিকতা প্রয়োজন এজন্য জেলার সেবাগুলো যেন জেলা সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হতে একটা সুবিন্যস্ত প্রশাসনিক কাঠামো প্রয়োজন। অনেক সময় দেখা যায়, আলাদাভাবে বণ্টিত পদ সৃজন না হওয়ার কারণে সেবা সহজলভ্যতা থাকে না এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

নার্সিং খাতের আরেকটি সহযোগী খাত হচ্ছে মিডওয়াইফারি খাত। নার্সিং বিদ্যমান প্রশাসনিক জনবল কাঠামো দিয়ে মিডওয়াইফারিকে দেখভাল করা হচ্ছে। বর্তমানে মিডওয়াইফ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। ফলে এটিও বর্তমান নার্সিং প্রশাসনিক কাঠামোর উপর নতুন করে চাপ তৈরি করছে। এজন্য নতুন প্রস্তাবিত পদ বিন্যাস বহুলাংশে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

টেকসই উন্নয়নে নার্সদের ভূমিকা অপরিহার্য

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নার্সদের ভূমিকা অপরিহার্য। যদি নার্সদের পদ বিন্যাস সৃজন করা যায়, তাহলে এসডিজি অর্জন সহজতর হবে এবং আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যাবো।

বিকেন্দ্রীকরণ ও সেবার সহজলভ্যতা করতে এবং  স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভুত সমস্যা গুলো দ্রুত সমাধান ও সেবা গ্রহীতাদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে হলে প্রস্তাবিত পদবিন্যাস বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

মোটা দাগে বলতে হয় বর্তমানে স্বাস্থ্যখাতে চলমান ধারাকে অব্যাহত রাখতে, জাতির জনকের স্বপ্ন জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া, নার্সিং পেশায় কলেবর বৃদ্ধি পাওয়ায় এর মনিটরিং নিশ্চিতকল্পে, এসডিজি অর্জন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও দক্ষ বিশেষায়িত নার্স তৈরিসহ জনগণের সন্তুষ্টি অর্জনে প্রস্তাবিত গ্রেড ও পদ বিন্যাস বাস্তবায়নই একমাত্র সমাধান।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত