ডা. নাজমুল হাসান নাঈম

ডা. নাজমুল হাসান নাঈম

মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ
এমআরসিপি (ইউকে), এমসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (কার্ডিওলজি)।


০৩ অক্টোবর, ২০২২ ০৫:০৭ পিএম

হার্ট অ্যাটাক: দেরিতে চিকিৎসায় বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি

হার্ট অ্যাটাক: দেরিতে চিকিৎসায় বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি
হার্ট অ্যাটাক নিয়ে কোনো রোগী চিকিৎসকের কাছে গেলে পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা দেন। পরিপূর্ণ চিকিৎসা বলতে বোঝায় রিং লাগানো অথবা বাইপাস সার্জারি।

সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সরবরাহ করে হার্ট। হার্টের রক্তনালী ব্লক হলে বা চিকন হলে যে রোগ হয়, সেটিকে বলা হয় ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ বা হৃদরোগ। এই হৃদরোগে সবচেয়ে বেশি মানুষ মৃত্যবরণ করেন। 

হার্টের একটি পাম্পিং ক্ষমতা রয়েছে। কোনো কারণে হার্টের এ ক্ষমতা কমে গিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয় তাকে বলে হার্ট ফেইলিওর। 

আগে একটি নির্দিষ্ট বয়সে নারী ও পুরুষের হৃদরোগে আক্রান্ত হলেও সম্প্রতি উঠতি বয়স তথা কিশোর ছেলে-মেয়েদেরও হৃদরোগ হয়ে থাকে। এজন্য জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আগে থেকেই হৃদরোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধে করণীয় জানা জরুরি। 

আর হার্ট অ্যাটাকের বেলায় সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম, তাই কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে তা জানা খুবই জরুরি। 

হৃদরোগ

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মৃত্যবরণ করেন হৃদরোগে। হার্ট দেহের একটি অঙ্গ, যা সারাদেহে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সরবরাহ করে। হার্টের যে রক্তনালী রয়েছে, সেই রক্তনালী যদি ব্লক হয় বা চিকন হয়ে যায়, তখন যে রোগ হয়, সেটিকে বলা হয় ইসকেমিক হৃদরোগ বা হার্ট অ্যটাক। হার্ট তার পাম্পিংয়ের মাধ্যমে সারাদেহে রক্ত সঞ্চালন করে। হার্টের একটি পাম্পিং সক্ষমতা রয়েছে। কোনো কারণে হার্টের পাম্পিং ক্যাপাসিটি কমে গেলে হার্ট ফেইলিওর হয়। 

অনেক সময় দেখা যায়, হার্টের একটি ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যাকটিভিটি থাকে, যাকে হার্ট ইলেক্ট্রিক্যাল অঙ্গ বলা হয়। হার্টের ইলেক্ট্রিক্যাল সমস্যার কারণে যে সমস্যাগুলো হয়, এটিকে বলা হয় অ্যারিথমিয়া। এই অ্যারিথমিয়া আক্রান্ত রোগীদের অনেক সময় বুক বুক ধড়ফড় ও অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া হার্টে কিছু ইনফেকশন হয়। হার্টের যে আবরণ থাকে, সেটাকে বলা হয় পেরিকার্ডিয়াম, সেখানে ইনফেকশন হলে এটিকে বলে পেরিকার্ডাইটিস। অনেক সময় হার্টের মাংশপেশিতে ইনফেকশন হয়, যেটাকে মায়োকার্ডিয়াম ইনফাকশন; অর্থাৎ এটিকে বলা হয় হৃৎপেশীর রক্তাভাবজনিত মৃত্যু বা হৃদাঘাত হলো হৃৎপিণ্ডের ধমনীর রক্তপ্রবাহে বিভিন্ন কারণে অবরোধ হয়ে হৃৎপিণ্ডের দেওয়ালের কোনো অংশের টিস্যুর মৃত্যু ঘটে। অনেক সময় এটিকে এন্ডোকার্ডাইটিস বলা হয়ে থাকে। 

কখনো যদি হার্টের ভালভে ইনফেকশন হয়। চূড়ান্তভাবে হার্টের ভালভগুলো চিকন হয়ে যায়, সেই সমস্যাগুলোকে বলা হয় ভালভুলার হৃদরোগে। এটির কারণে হার্টের ভালভগুলো চিকন হয়ে যায় অথবা ভালভগুলোকে লিকেজ ডেভেলপ করে। হৃদরোগে বাদে হার্টের অন্যান্য উপাদান রয়েছে। যেগুলোকে প্রকৃত পক্ষে হৃদরোগ বলা হয়। এগুলো হার্টে সমস্যা তৈরিতে উপাদান হিসেবে কাজ করে। যেমন: উচ্চরক্তচাপ, হাইকোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসকে।

হৃদরোগের সময়সীমা

মূলত হৃদরোগের সমস্যাগুলোর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য কারণ রয়েছে। পঞ্চাষোর্ধ্ব মানুষের হৃদরোগ বেশি হয়। অল্প বয়সী মহিলাদের হৃদরোগ কম হয়। কিন্তু চূড়ান্তভাবে ৪০-৫০ বছরে বয়সে নারী ও পুরুষের সমানভাবে হৃদরোগ হয়ে যায়। আগে ইশকেমিক হৃদরোগগুলো বেশি বয়সে পাওয়া গেলেও সম্প্রতি জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হওয়ার কারণে টিনএজারদেরও হৃদরোগে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে।

হৃদরোগের কারণ 

দেখা যাচ্ছে, অনেক রোগী হঠাৎ করে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গের পূর্বে হৃদরোগের ঝুঁকির কারণসমূহ জানতে হবে। কিছু ঝুঁকি চিকিৎসকরা পরিবর্তন করতে পারেন না, তবে কিছু কিছু পরিবর্তন সম্ভব। এর মধ্যে যা পরিবর্তন সম্ভব না, যেমন- বয়স অর্থাৎ পঞ্চাশোর্ধ), সেক্স যেমন নারীদের তুলনায় পুরুষ বেশি আক্রান্ত হন। কারও পরিবারের আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে, সেটা পরিবর্তন করা যায় না। ফ্যামিলি হিস্ট্রি বলতে বুঝায়-অনেকের মধ্যে হার্টের কিছু গঠনগত সমস্যা থাকে। এটা কিন্তু বোঝা যায় না। দেখা যায়, কোনো রোগী বাহ্যিকভাবে মোটা নয়, উচ্চরক্তচাপ, হাইকোলেস্টেরলসহ অন্যান্য সমস্যা নেই। কিন্তু চূড়ান্তভাবে একটি রোগী হঠাৎ করে তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ করে মৃত্যুবরণ করতে পারে। সাধারণত এশিয়ান অঞ্চলে হৃদরোগে আক্রান্ত হার বেশি হয়। এগুলো পরিবর্তনযোগ্য নয়। কিছু পরিবর্তনযোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টর থাকে। যেমন- হাইপারটেনশন, হাইকোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ধূমপান, মদ্যপান। এ ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ হৃদরোগের অন্যতম কারণ।

লক্ষণ

হৃদরোগের অনেকগুলো লক্ষণ থাকে। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে বুকে ব্যথা। অনেক সময় বিশ্রাম নেওয়া অবস্থায় শ্বাস কষ্ট হয়। হাঁটতে গেলে বা ভারি কাজ করার সময়ও হয়। অনেক সময় বুক ধড়ফর নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। এটিকে পালপিটেশন বলে। পাশাপাশি অনেক সময় পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া কোনো রোগী দুর্বলতা নিয়ে আসতে পারে। হার্ট ফেইলিওরের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হচ্ছে শারীরিক দুর্বলতা বা ফ্যাটিক। মাঝে মধ্যে পা ফুলে যাওয়া রোগী দেখা যায়। অনেক সময় দুই পা ফুলে গেলে হার্ট ফেইলিওরের লক্ষণ বলা হয়ে থাকে।

হার্টের রোগ সনাক্তকরণ

বুকের ব্যথার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। বুকের ব্যথা গ্যাস্ট্রিকের কারণে হতে পারে। অনেক সময় এটি অ্যানজাইটিক থেকে হতে পারে। আবার বুকে ব্যথা কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণও। সুতরাং বুকের ব্যথা হার্টের নাকি অন্য কারণে ব্যথা হয়? হার্টের কারণ বিশেষভাবে বুঝা যায় ইসকেমিক হৃদরোগের কারণে বুকে ব্যথা কিনা? প্রথমে বুকে ব্যথার সাইডটা কোন স্থানে সেটা লক্ষ করা হয়। হার্টের ব্যথা বুকের ঠিক মাঝখানে অনুভূত হয়। অন্যান্য ব্যথাগুলো ঠিক বুকের মাঝখানে হয় না, এটা বুকের ডানে-বামে বা অন্য কোনো স্থানে হয়। 

হার্টের বুকের ব্যথার লক্ষণগুলো হলো- অনেক সময় বুকের ব্যথাটা চেপে আসছে মনে হবে। ব্যথাটা বুক থেকে কিছু জায়গায় রেডিয়েশন হয়। যেমন-বাম বাহুতে, বাম হাতে, চোয়ালে ও গলায়। অন কোনো কারণে বুকের ব্যথায় এ রকম রেডিয়েশন হয় না। হার্ট অ্যাটাকের মাত্রা থাকে তীব্র। হার্ট অ্যাটাকের রোগীরা যে ব্যথা অনুভব করেন অন্যান্য রোগীরা তা করেন না। হার্ট অ্যাটাকের রোগীরা বুকে ব্যথা নিয়ে আসেন, তাদের ব্যথার সময় অনেক সময় ঘাম দেয়, বমিও হতে পারে বা বমি বমি ভাব হয়। গ্যাস্টিকের ব্যথা পানি বা অ্যান্টাসিড খেলে কমে যায়। হার্টের ব্যথা পানি ও অ্যান্টাসিডে কমবে না। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে সহজে বোঝা যায় যে, ব্যথাটি হার্ট অ্যাটাকের নাকি গ্যাস্ট্রিকের।

চিকিৎসার ধাপ

বুকে ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে হার্টের ব্যথা অন্যতম। অন্যান্য কারণে রোগী অবস্থা তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে যায় না। বরং হার্ট অ্যাটাকের কারণে রোগী অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। সুতরাং এই ধরনের রোগী যখন প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, তখন চিকিৎসক প্রথমে ভালো একটি হিস্ট্রি নেওয়ার চেষ্টা করেন। এটা কি হার্ট অ্যাটাক নাকি অন্যান্য রোগের বৈশিষ্ট্যর মধ্যে পড়ে, এটা জানার চেষ্টা করবেন। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা ঢাকার যে কোনো হাসপাতালে এই রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ব্লাড প্রেশারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা। পরে ইসিজি করা হয়, যার মাধ্যমে বোঝা যায় এটা হার্ট অ্যাটাক কিনা। ইসিজি স্বাভাবিক হলে বুঝতে হবে এটা হার্ট অ্যাটাক নয়। তারপর কিছু প্রাথমিক রক্ত পরীক্ষা করা হয়, যদি চিকিৎসক মনে করেন, এটা হার্ট অ্যাটাকের মতো মনে হচ্ছে, এক্ষেত্রে প্রথমে রোগীকে কিছু ওষুধ খেতে দেওয়া হয়, যা তার মৃত্যুঝুঁকি কমায়। এক্ষেত্রে কিছু অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়। হার্ট অ্যাটাক মনে হলে দ্রুত প্রাথমিক ওষুধগুলো দিয়ে দেওয়া হয়, যে হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) অথবা এনজিওগ্রাম করার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তাদেরকে দ্রুততম সময়ে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যেন রোগী প্রকৃত চিকিৎসা সেবা পান।

হার্ট অ্যাটাক হলে সময়ের গুরুত্ব

হার্ট অ্যাটাকের পরের সময়টা একজন রোগীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়- জীবনের সমান সময়। আশ্চর্যের বিষয়, হার্ট অ্যাটাকের শতকরা ২৫ ভাগ মানুষ চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন। আরও ২৫ ভাগ মানুষ চিকিৎসা পাওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুবরণ করেন। লক্ষ্য করা গেছে, ব্যাপক সংখ্যক মানুষ মৃত্যুবরণ করছেন বিলম্বে চিকিৎসার শুরুর কারণে। এক্ষেত্রে যতটুকু সময় বিলম্ব করবেন, জীবন থেকে ততটুকু সময় চলে যাবে। সুতরাং সময়ের বিবেচনায় হার্ট অ্যাটাককে বলা হয় অ্যাস্টিলিভেটেড এমআই। বুকে ব্যথা শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টা অর্থাৎ ১২০ মিনিটের মধ্যে একটি সিসিইউ অথবা এনজিওগ্রাম পরীক্ষা করাতে হবে। এতে যদি রক্তনালী ব্লক ধরা পড়ে এবং সেই ব্লক যদি দূর করা যায়, তাহলে হার্টের পেশী পঁচে যাওয়া বা অকার্যকর হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব। চূড়ান্তভাবে রোগীর অসুস্থতা বা মৃত্যুহার কমানোর সুযোগ রয়েছে।

সুস্থ হওয়ার পর স্বাস্থ্যঝুঁকি

একজন রোগী যখন মায়োকার্ডিয়াম ইনফাকশনে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, তখন চিকিৎসকের সেবা দেওয়ার যেসব লক্ষ্য থাকে, সেগুলো হলো: যথা- ১. হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা দেওয়া, ২. আবার যেন তার হার্ট অ্যাটাক না হয় অর্থাৎ চিকিৎসক বুঝতে পারেন রোগীর হার্ট অ্যাটাক পরবর্তী কিছু ঝুঁকি রয়েছে। ৩. রোগীর হার্ট অ্যাটাকজনিত জটিলতা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া। এই উদ্দেশ্যগুলোকে মাথায় রেখে চিকিৎসক একজন রোগীকে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বাড়িতে পাঠান।

হার্ট অ্যাটাকে জীবনযাত্রা 

হার্ট অ্যাটাক নিয়ে কোনো রোগী চিকিৎসকের কাছে গেলে পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা দেন। পরিপূর্ণ চিকিৎসা বলতে বোঝায় রিং লাগানো অথবা বাইপাস সার্জারি। স্পেশাল বাইপাসকে বলা হয় পরিপূর্ণ চিকিৎসা। এই রোগীকে সহজে বলা যায় না যে, আপনি হার্ট অ্যটাক নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। আপনার অসুখ নির্মূল করে দিচ্ছি। এটা হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী রোগ। এটাকে নিরাময় করা যায় না, কিন্তু প্রতিরোধ করা যায়। এই রোগীদের জন্য মূলত তিন ধরনের চিকিৎসা রয়েছে, যথা-

১. প্রথমত রোগীদের ওষুধ প্রদান করা হয়, যেগুলো রোগীদের নিয়মিত খেতে হবে। ওষুধগুলো কোনো কোনো রোগীর সারাজীবন খেতে হয়। অনেক রোগী ২-৩ মাস খাওয়ার পর ওষুধগুলো বন্ধ করে দেন। তাদের পুনরায় হার্ট অ্যাটাক নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। 

২. খাদ্য-প্রণালী (ডায়েট)। এ বিষয়ে রোগীদের বলা হয়ে থাকে, লাল মাংশ তথা- গরুর মাংশ, খাসির মাংশ এই জাতীয় খাবার কম খেতে হবে। বেশি বেশি সতেজ শাক-সবজি খেতে হবে। 

৩. যে সমস্ত রোগী ধূমপান বা মদ্য পান করেন, তাদেরকে এগুলো বন্ধ করতে হবে। যারা কায়িক পরিশ্রম কম করেন, তাদেরকে অল্প দূরত্বে হাঁটতে হবে এবং রোগী লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি ব্যবহার করবেন। 

দেশে-বিদেশে চিকিৎসার পার্থক্য

হার্টের রোগীদের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেশে ও বিদেশে একই রকম। বাংলাদেশে যে নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রেও একই রকম নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়। ইউরোপীয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি, আমেরিকা হার্ট অ্যাসোসিয়েশন গাইডলাইনগুলো অনুসরণ করা হয়। বিদেশে মূল পার্থক্য হচ্ছে সিস্টেমের। যেমন: বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ আর যুক্তরাষ্ট্র একটি উন্নত দেশ। মূলত স্বাস্থ্যসেবার পদ্ধতি ও সুযোগ-সুবিধার দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে। দেশে গ্রামের একজন রোগীর হার্ট অ্যাটাক হলে প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়, পরে জেলা হাসপাতালে অথবা ঢাকার একটি হাসপাতালে। এ ছাড়া দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ), বা এনজিওগ্রাম পর্যাপ্ত নেই। এক্ষেত্রে রোগীদের দায়িত্বে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে একজন রোগীর হার্ট অ্যাটাক হলে ৯৯ কল দিলে অ্যাম্বুলেন্স চলে আসে। তাদের দেশের অ্যাম্বুলেন্সে প্যারামেডিক্স রয়েছে, যারা ইসিজি পরীক্ষাসহ জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে পারে। চূড়ান্তভাবে তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বাংলাদেশের চেয়ে ভালো। স্বাস্থ্য সেবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সরকার করে, যেটা দেশে সম্ভব নয়। ইদানিং দেশে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কিছু জেলা হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ), এনজিওগ্রাম সুযোগ-সুবিধা গড়ে উঠছে।

এআইই

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে