ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

মেডিকেল অফিসার, রেডিওলোজি এন্ড ইমেজিং ডিপার্টমেন্ট,

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।


১৭ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০২:৪২ পিএম

আমার যত ভাল না লাগারা

আমার যত ভাল না লাগারা

যখন দেখি আমার মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে গড়ে তোলা হয় আই এইচ টি স্থাপনা।

যখন আমার কলেজ ক্যাম্পাসে আই এইচ টি স্টুডেন্টরা সাদা এপ্রন পরে চটি পায়ে একে অন্যের গায়ে ঢলে পরতে পরতে হাঁটে।

বরিশালের আঞ্চলিক টোনে কথা বলতে বলতে ক্লাস টাইমে মেডিকেলের কাছের পার্কে বসে থাকে আর লোকজন ঘুরে তাকায় -মেডিকেল স্টুডেন্ট ?

আমার ভাল লাগে না।।

 

যখন আই এইচ টি থেকে স্টুডেন্টরা এসে রেডিওলোজি/প্যাথলজিতে ইন্টার্নী করে।

ওদের দিয়ে কাজ করান আর ফাঁকিবাজি করেন তৃতীয় শ্রেনীর হাসপাতাল কর্মচারী বৃন্দ- আমার ভাল লাগে না।

 

# যখন হাসপাতালে টেকনিশিয়ানের অভাব - রুগীর সেবা দিতে ডাক্তার হিমসিম খায়।

টেকনিশিয়ান না থাকার জবাবদিহি তাকে করতে হয়।

আর ওরা শিক্ষক হয়ে আই এইচ টি তে ক্লাস নেয়।

নিজেদের মেডিকেলের শিক্ষক বলে পরিচয় দেয়।

আমার ভাল লাগে না।

 

# যখন বেসরকারী আই এইচ টি থেকে পাস করে এসে অনায়াসে ইন্টার্ন করার সুযোগ পায় সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

অবশেষে ঐ মেডিকেলের নাম লিখে বায়োডাটা তৈরী করে।

আমার ভাল লাগে না।

 

# যখন লাষ্ট এমবিবিএস পাস করা তিন চারটে ব্যাচ থেকে মিনিমাম চিকিৎসক সরকারী চাকরী পাচ্ছে।

বাকীরা বেকার।যারা পাচ্ছে তাদের বাধ্যতামূলক গ্রামে পোষ্টিং।

কোন রকম সুযোগ সুবিধা ছাড়াই বিসিএস, এমবিবিএস ডাক্তার উপজেলাতে যান পদে পদে অপদস্ত হতে।

আর দশ হাজার চাকুরী প্রার্থীর মাঝে সাড়ে নয় হাজার নার্স চাকরী পেল।

তিনশ চারশ জন একদিনে জয়েন করছেন সরাসরি মেডিকেল কলেজে। গ্রামে নার্স দরকার নেই?

আমার এটা ভাল লাগে না।

 

# যখন আমার মেডিকেল কলেজে কোন রকম ইনফ্রাস্ট্রাকচার আর শিক্ষক সুবিধা ছাড়াই ভর্তি নেয়া হলো বিডিএস স্টুডেন্টদের।

একটি ব্যাচ ডেন্টাল সার্জন হয়ে বের হয়েছে।

আজ ও সিট সংকটের কারনে ছাত্রীরা হলে জায়গা পায়নি।

ঐ মেডিকেল ক্যাম্পাসে নার্সিং স্টুডেন্টদের হোস্টেল আছে।

চতুর্থ শ্রেনীর থাকার জায়গা আছে।

বিডিএস স্টুডেন্টদের হোস্টেল নেই।

এটাও আমার ভাল লাগে না।

 

# নার্সদের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।

বাড়ছে না নার্সিং সেবার মান।

তাদের সেকেন্ড ক্লাস করা হয়েছে।

তারা তাদের বেতন, বোনাস, গ্রেড নিয়ে ব্যস্ত।

ডাক্তারদের রুগীর প্রয়োজনে নেয়া ডিসিশনের ওর্ডার ফলো করার দায়িত্বে থাকা নার্সরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ডাক্তারদের অবমাননা করেন।

সংখ্যা বাড়ছে।

দলে ভারী হচ্ছে।মিটিং মিছিল আন্দোলনে ব্যস্ত থাকছে।

আরো ব্যস্ত থাকছে দখলদারীতে।রুম চাই।

ক্যান্টিন চাই।এটা চাই। সেটা চাই।

আর এই অবহেলার দ্বায়ভার ডাক্তারদের ঘাড়ে পরে।

আমার ভাল লাগে না।

 

# আজ সকালে কলেজ অডিটোরিয়ামের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়ার সময় কিছু সিনিয়র নার্স আর ব্রাদার এসে কিছু ছাত্র ছাত্রীকে পরিচয় করিয়ে দিল।

নার্সিং ছাত্রলীগ গঠিত হয়েছে। নার্সদের অনৈতিক চাহিদা পূরনে ক্যাডার হিসেবে ব্যবহার করা হবে এই স্টুডেন্ট নার্স ব্রাদারদের !!

এই দৃশ্য আমার ভাল লাগেনি।

 

# একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট রাজনৈতিক চেতনা সম্পন্ন হলে ছাত্র জীবনে তার রাজনীতির ধারার সাথে তার ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পেশা সম্পর্কিত থাকে না।

মূল ধারার কিছু লোভী রাজনীতিবিদ চেতনা সম্পন্ন চিকিৎসকদের নীতি নির্ধারনের পোষ্ট থেকে দূরে রাখেন।

বন্ধুত্ব রাখেন নির্বাচনের খরচ উঠাতে ডাক্তারের প্রাকটিসের টাকার একাংশ পেতে।

আমার ভাল লাগে না।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত