২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১০:৪০ এএম

‘ক্যারিঅন বাতিলের ক্ষেত্রে আরও আলোচনার সুযোগ রয়েছে’

‘ক্যারিঅন বাতিলের ক্ষেত্রে আরও আলোচনার সুযোগ রয়েছে’
ঢাবির মেডিকেল কলেজগুলোর মে-২০২২ এর দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় প্রথম সাফওয়ান রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর মে-২০২২ এর দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মুগদা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী সাফওয়ান রহমান।

২০১৮-১৯ সেশনের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় তাঁর অবস্থান ছিল ৯৯২। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় বায়োক্যামিস্ট্রিতে অনার্স নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হন। তবে এসব ছাপিয়ে দ্বিতীয় পেশাগত পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেন চিকিৎসক দম্পতির সন্তান সাফওয়ান।

চমৎকার ফলাফলের রহস্য জানতে তুখোড় এই বিতার্কিককে মেডিভয়েস স্টুডিওতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার অনুষ্ঠানে কথা হয় তাঁর পড়াশোনার ধরন, সহপাঠ্যক্রমে সদর্প বিচরণ ও ভবিষ্যত পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে। মেডিভয়েস পাঠকদের জন্য কথোপকথনের পুরো অংশটি তুলে ধরা হলো।

মেডিভয়েস: প্রফে প্রথম হয়েছেন, আপনার অনুভূতি ও পড়াশোনার কৌশল জানতে চাই।

সাফওয়ান রহমান: আমার কাছে এ এক অবিশ্বাস্য রকমের অনুভূতি। আমি কল্পনাও করতে পারিনি, প্রফেশনাল পরীক্ষার মতো এতা বড় একটি চ্যালেঞ্জিং পরীক্ষায় আমি প্রথম স্থান অধিকার করবো। এজন্য আমি প্রথমেই মহান আল্লাহ পাকের কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। আমরা জানি, মেডিকেল জীবনে প্রফ সময়সাপেক্ষ একটি বিষয় এবং প্রচণ্ড চাপের। একই সঙ্গে বিশাল সিলেবাস শেষ করার একটি  চ্যালেঞ্জ থাকে, এ সময়ের মধ্যে। তারপর ভাইভা-রিটেনসহ বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা হয়। পুরো সময়টা ধরে আল্লাহ রব্বুল আলামীন সঙ্গে না থাকলে এই সময়টি পার করা সম্ভব হতো না। দ্বিতীয়ত আমার শিক্ষকদের কথা বলতে হয়। তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। তৃতীয়ত হচ্ছে আমার মা-বাবা, ব্যাচের বন্ধু-বান্ধব, তাদের কথাও অবশ্যই বলতে হয়। কারণ এটি একটি দীর্ঘ পরিক্রমা। আমরা জানি, মেডিকেলের প্রতিটি বছর দুই তিনটি সাবজেক্ট নিয়ে চলতে হয়। এই পথচলায় আম্মু-আব্বুর পাশাপাশি বন্ধুদের যথেষ্ট সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছি। সবার সহযোগিতায় আজকের এই ফলাফল।

মেডিভয়েস: আপনার পড়ার কৌশল কেমন ছিল?

সাফওয়ান রহমান: প্রফেশনাল পরীক্ষাটি হয় দুটি বিষয়ের উপর। একটি ফরেনসিক মেডিসিন, অন্যটি কমিউনিটি মেডিসিন, যেটি আমরা মেডিকেলে তৃতীয় বর্ষে পড়ে থাকি। আসলে পড়ার কৌশল বলতে, ফরেনসিক মেডিসিন বিষয়টি বিভিন্ন মেডিকোলিগাল বিষয় নিয়ে কাজ করে। যেমন: মেডিকেল এথিক্স, সুসাইড ও ক্রাইম—এই বিষয়গুলোর সঙ্গে মেডিকেলের যে ধারণা দেয়, সেগুলোর মধ্যে কতটুকু কো রিলেশন আছে, সেটি আমরা ফরেনসিক মেডিসিনে পড়ি।

একই সঙ্গে অটোপসি (ময়নাতদন্ত) ফরেনসিক মেডিসিনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অটোপসি যেহেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তৃতীয় বর্ষে আমাদেরকে বেশ কিছু অটোপসি দেখতেও হয়। কীভাবে অটোপসি করা হয়, এরপর আমরা কীভাবে স্পেসিমিনগুলো সংগ্রহ করি। এরপর এগুলো কোথায় পাঠাতে হয় এবং এর কিছু সংবিধিবদ্ধ নিয়ম আছে। এই নিয়মগুলো জানতে হয়।

তো আমার পড়ার কৌশল ছিল, যখন অটোপসি ক্লাস বা লেকচার যেসব বিষয় নিজ চোখে দেখেছি, সেটি আমি মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। এ কারণে এ ধারণাগুলো মাথায় পোক্ত হয়েছে। আর কমিউনিটি মেডিসিন, যেটিকে আমরা ব্যবহারিক জীবনে পাবলিক হেলথ বলে থাকি, কোভিড ১৯ মহামারির পর থেকে বিষয়টির গুরুত্ব বেড়ে গেছে। কীভাবে আমরা একটা রোগ নিয়ন্ত্রণ করবো এবং এই সংক্রান্ত কী কী গবেষণা করা দরকার বা একটা রোগ সম্পর্কে কোন কোন তথ্য আমাদের জানা দরকার, যা এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। এই তথ্য নিয়ে কমিউনিটি মেডিসিনে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে আমাদের কমিউনিটি মেডিসিনে আরএফএসটিতে যেতে হয়, রিসার্চ করতে হয়, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স ভিজিটে যেতে হয়।

এর আলোকে পড়াশোনার কৌশলের মধ্যে ছিল, এই ভিজিটগুলো করার সময় আমি খুব ভালো করে দেখার চেষ্টা করেছি, আমি কি কি দেখছি। যেমন, আমরা কমিউনিটি মেডিসিন ডিপার্টমেন্ট থেকে ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথে যাই। আমাদের ডে ভিজিটগুলো হতো বিভিন্ন রোগ স্পেসিফিক হাসপাতালগুলোতে, যেমন- আমরা আমাদের মেডিকেল কলেজ থেকে কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউটে গিয়েছিলাম। আমি যখন ক্যান্সার বা কুষ্ঠ রোগী দেখেছি, তখন ভালো করে লক্ষ করতাম, তাদের কি কি ধরনের প্রেজেন্টেশন আছে বা এ রোগ নিয়ে তাদের কি কি অভিজ্ঞতা বা তারা কি কি সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয় খুব ভালো করে নোট করে রেখেছি। কারণ এই জিনিসগুলোই পরবর্তীতে ভাইভায় জিজ্ঞাসা করা হয়। বলা হয়, তুমি কি কি দেখেছো এবং সেই দেখার পরিপ্রেক্ষিতে তুমি এখান থেকে কি কি জানতে পারলে? ওখান থেকে আমাদের ভাইভাটা শুরু হয়। সুতরাং আমি যখন ভিজিটে গিয়েছি তখন থেকেই আমার পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাই এই জিনিসিগুলো আমার মাথায় রাখতে হবে। কারণ প্রফের ভাইভা টেবিল কিংবা লিখিত পরীক্ষায় এখান থেকে প্রশ্ন আসবে। সর্বোপরি আমার কৌশলগুলো এই রকমেরি ছিলো।

মেডিভয়েস: প্রথম হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে নবীন শিক্ষার্থীদের কি কি পরামর্শ দিবেন?

সাফওয়ান রহমান: নবীনদের জন্য বলবো, বিশেষত যারা মেডিকেলে মাত্র ঢুকেছে, তাদের জন্য এক নম্বর পরামর্শ হলো, লেগে থাকতে হবে। আমরা জানি, প্রথম বর্ষে কারিকুলামে রয়েছে অ্যানাটমি, ফিজিওলজি এবং বায়োক্যামিস্ট্রি। এই বিষয়গুলোতে লেকচার হয়, টিউটোরিয়াল হয়। এখানে প্রথমত প্রচুর আইটেমের চাপ থাকে। কিন্তু আইটেমে আমাদের নিয়মিত থাকতে হবে, এটি এক নম্বর বিষয়। দ্বিতীয়ত, অনেক সময় আইটেমগুলো মৌখিক হয়। তাই আইটেমের পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিটা নিয়ে নিলে আমরা অনেক এগিয়ে যাবো। আরেকটি কথা না বললেই নয়, সেটি হলো ফিজিওলজি কিংবা বায়োক্যামিস্ট্রি সাবজেক্টগুলোতে প্রচুর প্র্যাক্টিকেল থাকে। ফিজিওলজির প্র্যাক্টিকেলগুলো যখন ক্লাসে করানো হবে, সে দিন যদি কোনো ক্লাসের ফাঁকে বা ছুটির পরে প্র্যাক্টিকেলগুলো প্রাক্টিস করে রাখা যায়, তাহলে লিখিত, ভাইভা ও থিওরির সাথে প্র্যাক্টিকেলেও এগিয়ে যাবো। আমাদের প্রচুর অধ্যাবসায়ে থাকতে হবে, কোনোভাবে একঘেয়েমি যাতে না পেয়ে বসে, সেজন্য আনন্দও করতে হবে। সব সময় পড়তেই হবে এমন না। একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন-যাপন করতে হবে। আমার নিজের একটা ভাষ্য হলো, স্টাডি ইট এ্যান্ড চিল, অর্থাৎ পড়ো, মজার কিছু খাবার খাও, আবার একটু মজা করো, এবং পড়ো। এই চক্রের মধ্যে দিয়ে গেলে ইনশাল্লাহ মেডিকেল জীবন একঘেয়ে লাগবে না।

মেডিভয়েস: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় আপনার অবস্থান, প্রথম প্রফের ফলাফল কেমন ছিল?

সাফওয়ান রহমান: যারা মেডিকেলে আসতে চায়, তাদের জন্য কথা হলো: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা প্রচণ্ড রকমের আরাধ্য বিষয়। আমার মেডিকেল পরীক্ষা হয়েছিল ২০১৮ সালে। মেডিকেলে চান্স পেয়ে আমার ফোর্থ চয়েজ ছিল মুগদা মেডিকেল কলেজ। আমার অবস্থান ছিল ৯৯২। সত্যি কথা বলতে কি, ভর্তির পর থেকে পেছনে ফিরে তাকানোর সময় নেই। কারণ ফার্স্ট ইয়ার থেকে আমাদের প্রচুর জ্ঞানার্জন করতে হয়। ফার্স্ট ইয়ারে দেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হয়। সুতরাং মেডিকেলের প্রথম জীবনেই এতো ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায় যে, পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগও নেই। দেখতে দেখতে প্রথম দেড় বছরের মধ্যে প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষা চলে আসে। আমার প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় এবারের মতো ফলাফল না থাকলেও আমার বায়োক্যামিস্ট্রিতে অনার্স নম্বর ছিল। বায়োক্যামিস্ট্রি বিষয়ের ওপর আমার আলাদা একটি ভালো লাগা কাজ করে, কারণ এই বিষয়ের একটা ক্লিনিক্যাল গুরুত্ব রয়েছে। ফার্স্ট প্রফেশনাল পরীক্ষা পাস করার পর আমরা যখন তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে উঠি, তখন আমাদের ওয়ার্ডে ক্লাস শুরু হয়ে যায়। সেই ওয়ার্ড ক্লাসকে আমরা বলি বেড সাইট টিচিং। অর্থাৎ রোগী হাসপাতালের বেডে আছে, তার পাশে দাঁড়িয়ে আমরা শিখি যে, এই রোগীর কী কী অভিযোগ আছে, কী সাইন-সিম্পটম আছে বা রোগী কি কি সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন বা তার কী সমস্যা আছে? এগুলো জানার সুযোগ পাই। এই জায়গায় বায়োক্যামিস্ট্রির জ্ঞান বা অভিজ্ঞতাটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং আমি নবীনদের বলবো প্রথম ফেইজে পড়াশোনার গুরুত্ব অনেক। আর এটাকে ভিত্তি ধরে পরবর্তীতে কিনিক্যাল ক্লাসগুলো করলে আরো সহজ হবে এবং পড়া উপভোগ করতে পারবে।

মেডিভয়েস: মেডিকেল পড়া অনেকটাই ভিন্ন ধাঁচের, ফলে অনেকেই মানিয়ে নিতে পারেন না, তাদের জন্য কোনো পরামর্শ, বিশেষ যারা প্রফে অকৃতকার্য হয়েছেন?

সাফওয়ান রহমান: যারা স্কুল-কলেজে ভালো করে আসেন, তাদের প্রতি আমার একটাই নির্দেশনা থাকবে, তুমি আসলে মেডিকেলে আসতে চাও কিনা, বায়োলজি পছন্দ কনো কিনা? মাইক্রোবায়োলজি পছন্দ করো কিনা, তোমার মানব দেহ পড়তে ভালা লাগে কী না? নিজেকে প্রথমে এসব প্রশ্ন করো। উত্তর হ্যাঁ হলে বলবো, তুমি মেডিকেলে আসো। অনলাইনে এ সংক্রান্ত নানা ভিডিও আছে, সেগুলো থেকে তুমি জানতে পারবে, মেডিকেলে ঢুকলে তোমার কী রকম পড়াশোনা হবে। কী কী পড়তে হবে, কীভাবে প্রেজেন্ট করতে হবে। কী কী বিষয়ের মুখোমুখি হতে হয়। রোগী কিভাবে দেখতে হয় বা ক্লিনিক্যাল ক্লাসগুলো কিভাবে হয়। মেডিকেলে ঢোকার আগেই এ সংক্রান্ত ধারণা পাওয়া যায়। নটরডেম কলেজে পড়ার সময় আমার আগ্রহের জায়গা ছিল বায়োলজি। এ কলেজের বায়োলজি বিভাগ অসাধারণ একটি বিভাগ। মেডিকেল জীবনে এক ধরনে পরীক্ষা সিস্টেম আছে, সেটাকে বলে অসপি পরীক্ষা। প্রতিটি প্রফ এবং টার্মে আমাদের এই অসপি পরীক্ষা দিতে হয়। বলা বাহুল্য, আমার জীবনে প্রথম অসপি পরীক্ষা মেডিকেলে নয়, দিয়েছি নটরডেম কলেজে। এজন্য আমি আমার কলেজের প্রতি অসম্ভব রকমের কৃতজ্ঞ। সুতরাং কলেজে বসেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, এগুলো তুমি পছন্দ করো কি না। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মেডিকেল প্রফেশনটা রোগী বা মানুষকেন্দ্রিক। মানুষের সঙ্গে থাকতে বা মানুষ পছন্দ করি কি-না, মানুষকে সময় দিতে পছন্দ করি কি-না। এই জায়গাগুলোয় যদি কারও কাছে পরিষ্কার ধারণা থাকে, তাহলে অবশ্যই সে মেডিকেলে এসে পিছিয়ে পড়বে না।

আর যারা প্রফে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের জন্য বলবো, আপনারা যেটি চেষ্টা করবেন সেটি হচ্ছে ডে ভিজিট, আরএফএসটি কিংবা স্টাডি ট্যুর, যা কমিউনিটি মেডিসিনে হয়, সেটির উপর ভিত্তি করে প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করা। আমরা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়েছিলাম, সেখানে সংক্রামক ব্যাধিগ্রস্ত রোগী দেখেছি। এইডস, ধনুস্টংকার (টিটেনাস) রোগী দেখেছিলাম। ভাইভাতে এসব রোগীর সমস্যা, লক্ষণসহ বিভিন্ন দিক জানতে চাওয়া হবে। তো এসব বিষয় গভীরভাবে জানতে হবে। এ বিষয়গুলো জানতে পারলে প্রফের যে মানসিক চাপ ও বিশাল সিলেবাসের চ্যালেঞ্জ তা সহজে উৎরে যেতে পারবেন ইনশাল্লাহ।

মেডিভয়েস: স্বপ্নের মেডিকেল পড়া কেমন উপভোগ করছেন? কোনো বিষয় চ্যালেঞ্জিং মনে হয়? কোন কৌশলে টপকে যান?

সাফওয়ান রহমান: মেডিকেল জীবনের উদাহরণ হলো, বাংলায় একটা বিশেষণ আছে অম্লমধুর। এখানে ভালো অভিজ্ঞতা আছে, একইভাবে অনেক চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতাও আছে। সব মিলিয়ে এটা একটা কমপ্লিট প্যাকেজ। এখানে যথেষ্ট উপভোগ করার  জায়গা আছে। যেমন- ফার্স্ট ইয়ারে এনাটোমি পড়েছি। এনাটোমি যখন পড়তাম, তখন ভাবতাম, মানবদেহ আসলে এ রকম। মানবদেহের এই জায়গাটি এ রকম ওই জায়গাটি সে রকম। পড়ার পরে আমরা মতদেহে প্র্যাক্টিকেল করার সময় আমরা দেখি, বইয়ে যা পড়েছি, মৃতদেহ হুবহু একই রকম। তখন উপলব্ধি করতাম, আল্লাহর সৃষ্টির সৌন্দর্য যে কত ব্যাপক ও বিশাল। এক মানবদেহে অনেক বিষয় কাজ করে। আমি যখন এনাটমি পড়তাম, আমার কাছে মনে হতো এ আল্লাহর এক নেয়ামত। তাঁর সৃষ্টি যে কী সুন্দর! এটি আমার কাছে খুব রোমঞ্চকর বিষয় ছিল। এক এক বর্ষ শেষ করে আমরা এখন চতুর্থ বর্ষে পড়ছি। এখন উপভোগের জায়গাটিও অনেক বেশি। কারণ আমাদের এতো ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে হয়, যা সত্যিই উপভোগ্য। আমরা যখন ফার্মাকোলজি পড়ি, তখন আমাদের বিভিন্ন ওষুধ সম্পর্কে জানতে হয়। যখন মাইক্রোবায়োলজি পড়ি, তখন বিস্তৃত বিষয়টিতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস সম্পর্কে জানতে পারি। প্যালজি বিষয়ে পড়ে বিভিন্ন রোগ হওয়ার ধরণ জানতে পারি। সুতরাং জ্ঞানের এতো বিস্তর শাখায় আমাদেরকে বিচরণ করতে হয়, এটা বলাই বাহুল্য। জানার পরিধি বিশাল হওয়ায় তা সত্যিই ব্যাপক উপভোগ্য। সেই সঙ্গে চ্যালেঞ্জও আছে। যেমন ধরুন, পড়াশোনার চাপ তো সব সময়ই থাকে। এতো চাপ যে, মাঝে মধ্যে মনে হয় যে সব ফেলে দিয়ে চলে যাই। সুতরাং অন্যদের মতো আমাদেরও এই অনুভুতি হয়। তাই আমি বলি, ইট-স্টাডি-চিল অর্থাৎ পড়া, মজা করা ও খাওয়া হবে।

মেডিভয়েস: যখন চ্যালেঞ্জ অনুভব করেন তখন এটা কীভাবে অতিক্রম করেন?

সাফওয়ান রহমান: প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব সহায়ক বা সহনশীলতার কৌশল থাকে। মেডিকেলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্যই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, আপনি নিজে যে রকম চাপ অনুভব করছেন, আপনার বন্ধু-বান্ধবও একই ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে সময় যাচ্ছে। উদাহরণ স্বরূপ, আমাদের দৈনিক আইটেম দিতে হয়। হয়ত আগামীকালে আইটেম অনেক বড়, যেখানে বিশাল একটা চ্যাপ্টার আমাকে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। যা আমিও পড়ছি আমার বন্ধুও পড়ছে। অর্থাৎ আমরা সবাই সহযাত্রী। এই ভাবনা ব্যাপক প্রেরণাদায়ক। আমরা সবাই যেহেতু করছি, ইনশাল্লাহ আমরা সবাই এখানে সফল হবো। চাপ কমাতে আমার এক শিক্ষক বলেছিলেন, পড়ার সময় দেখলে বৃষ্টি হচ্ছে, তখন পড়াটা একটু থামিয়ে খানিকটা সময় বৃষ্টি উপভোগ করে নাও। ইচ্ছা হলে, বৃষ্টি দেখতে দেখতে চিপস খেয়ে নাও। দশ মিনিট না হয় ব্যয় হলো, তাতে ক্ষতি কী? সময়টা উপভোগ করলে। সুতরাং বেশি চাপ নেওয়া যাবে না।

মেডিভয়েস: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সাফল্য অনেকে প্রফগুলোতে ধরে রাখতে পারেন না, কী কী কারণ থাকতে পারে?

সাফওয়ান রহমান: মেডিকেলে ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড ও চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা—এই চারটি পরীক্ষা হয়। এই পরীক্ষাগুলো গতানুগতিক পরীক্ষার মতো না। এগুলো খুবই লম্বা ও দীর্ঘ পরীক্ষা হয় এবং এখানে অনেকগুলো স্টেপ থাকে। প্রফেশনাল পরীক্ষাগুলা মাল্টিস্টেপ প্রসেস। পরীক্ষাগুলো গতানুগতিকতার বাইরে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যা হয়। বিশেষ করে ফার্স্ট প্রফের বিষয়গুলো, যথা: অ্যানাটমি, ফিজিওলজি ও বায়োক্যামিস্ট্রি অনেক বিশাল। যেহেতু এখানে পরীক্ষার ধরন আলাদা, তাই আমাদের উচিত প্রফেশনাল পরীক্ষার ধরন বা প্যাটার্ন সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে রাখা, তাহলে আমাদের জন্য সুবিধাজনক হবে।

মেডিভয়েস: সোশ্যাল মিডিয়া, বাজে বন্ধু কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততায় যুক্ত হয়ে যাওয়াকেও এক্ষেত্রে দায়ী করেন অনেকে। আপনার দৃষ্টিতে এর ভূমিকা কতটুকু?

সাফওয়ান রহমান: এগুলোর অবশ্যই একটি বড় ভূমিকা আছে। আবার সোশ্যাল মিডিয়া একেবারেই যে খারাপ, তা না। আমরা করোনা মহামারী পার করে এসেছি। এ সময় আমরা দেখেছি, অনলাইন শিক্ষার কী গুরুত্ব! সেই প্রেক্ষাপটে বলি, সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকাটা খারাপ বললে ভুল হবে। হয় তো বিনোদন বা ক্লান্তি দূর করার জন্য আমরা ফেসবুক ব্যবহার করছি, কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের সকল সতীর্থই, এই সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে ভালো করছে। আর এখানে অনেকেই বিভিন্ন একাডেমিক গ্রুপের সদস্য। আর এসব গ্রুপ আামাদের জন্য সহায়ক হিসেবেই কাজ করছে।

মেডিভয়েস: এমবিবিএসে ক্যারিঅন বাতিল ও সিজিপিএ পদ্ধতিতে ফলাফল প্রকাশের সিদ্ধান্তকে কিভাবে দেখছেন?

সাফওয়ান রহমান: সিজিপিএ’র বিষয়ে বলতে চাই, আমরা যখনই নতুন কোনো ধারণা বা নতুন কোনো ব্যবস্থা আনতে চাই, তখন দেখতে হবে, কোন প্রেক্ষাপটে এটা আনার পরিকল্পনা করছি এবং দ্বিতীয়ত এর অংশীজন কারা। এখানে সিদ্ধান্তদাতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবাই অংশীজন। সুতরাং প্রেক্ষাপট এবং অংশীজনের দিকে নজর দিলে মনে হয় এ নিয়ে আমাদের আরো আলোচনা সুযোগ রয়েছে। আমার মনে হয়, সকল অংশীজনের মতামতের আলোকে সিদ্ধান্ত নিলে সকলের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

মেডিভয়েস: অমনোযোগিতার কারণে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা প্রফে খারাপ করে বলে করেন? 

সাফওয়ান রহমান: আমরা জানি, প্রফেশনাল পরীক্ষা খুবই চ্যালেঞ্জিং। যে কোনো পরীক্ষার সময়ই যে কোনো শিক্ষার্থী কোনো রকমের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। আমরা মনে করি, দুর্ঘটনার কারণে একজন শিক্ষার্থী পিছিয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সে যদি তার নিজস্ব ব্যাচের সঙ্গে ক্লাস এবং পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে পারে, এ সুযোগ শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কল্যাণকর। ক্যারিঅনের মাধ্যমে প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষা পাস করার পর আমার বন্ধুরা ক্লিনিক্যাল ওয়ার্ড ক্লাসে যাচ্ছে, আমি অকৃতকার্য হয়েও তাদের সঙ্গে যেতে পারছি, এটা আমাকে চাপমুক্ত রাখবে। ক্যারিঅন থাকা না থাকার মধ্যে যেটা শিক্ষার্থীদের জন্য অধিকতর ভালো হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

মেডিভয়েস: কোনো শিক্ষার্থী যদি ক্যারিঅন না করতে পারে এবং দেখে তার বন্ধুরা ওয়ার্ডে যাচ্ছে, ক্লিনিকে যাচ্ছে, তখন তার মানসিক অবস্থা কেমন হবে? 

সাফওয়ান রহমান: ওই শিক্ষার্থীর জায়গায় আমি থাকলে আমার মন খুবই খারাপ থাকতো। কারণ ক্লিনিক্যাল পড়াটা অত্যন্ত আনন্দের একটা বিষয়। ক্লিনিক্যাল ক্লাসগুলোতে পুরো ব্যাচকে ভাগ করা হয়, এরপর তাদের প্রত্যেক ব্যাচকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে যোগ করে দেওয়া হয়। বিশেষ করে যাদের সার্জারি ওয়ার্ডে দেওয়া হয়, তাদের প্রথম ওটি ড্রেস পরে অপারেশন থিয়েটার প্রবেশ করানো হয়। আমি যখন দেখবো, আমার বন্ধুরা এসব অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প করছে আর অন্য দিকে আমি পারলাম না, এটা আমার জন্য মন খারাপের বিষয় হবে।

মেডিভয়েস: বাংলাদেশে সিজিপিএ’র যৌক্তিকতা কেমন মনে করেন? 

সাফওয়ান রহমান: সিজিপিএ বাইরের বিশ্বে থাকলেও বাংলাদেশে নেই। আমাদের সিলেবাসে যদি সিজিপিএ প্রবর্তন করা হয়, তাহলে এটি আমাদের মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনবে। এর ব্যাপক প্রভাব আছে। এজন্য আমি মনে করি, এ নিয়ে আরো পর্যালোচনা সুয়োগ রয়েছে। আরেকটু সময় নিয়ে ভেবে-চিন্তে সকলের সাথে আলাপ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য যা কল্যাণকর আমাদের কৃর্তপক্ষ এমন সিদ্ধান্তই নেবেন।

মেডিভয়েস: স্বাস্থ্যখাতের কোন বিষয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান? অর্থাৎ কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে চান? 

সাফওয়ান রহমান: স্পেশালিটির কথা যদি বলতে চান, এটি এখনও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আমার জন্য সব রাস্তাই খোলা। মেডিকেলে অনেক সাবজেক্ট আছে। সেগুলো চেনা জানা। সেই দিক থেকে বললে, এখনও অনেক বিষয়ে অধ্যয়ন করে এর গভীরে যাওয়ার সুযোগ আছে। সুতরাং এটি সব কিছু জেনে আরও পরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়।

মেডিভয়েস: মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন কোথা থেকে পেলেন? ভর্তিচ্ছুদের প্রতি আপনার পরামর্শ জানতে চাই।

সাফওয়ান রহমান: বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের তিন ধরনের বিষয় পড়তে হয়, যথা- জীববিজ্ঞান, ফিজিক্স ও ক্যামেস্ট্রি। আমার ছোট বেলা থেকে জীববিজ্ঞানের প্রতি অন্য রকম একটা আগ্রহ কাজ করতো। আমার স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা জীববিজ্ঞান এতো সুন্দর করে পড়াতেন যে, মনে হতো আমি যেন মেডিকেলেরই কোনো একটা ক্লাস করছি। আর আমার আব্বু-আম্মুর কথা না বললেই নয়। তারা দুজনই চিকিৎসক। দেখেছি, তারা কতটা মানুষকেন্দ্রিক। এ বিষয়গুলো ছোটবেলা থেকে দেখতে দেখতে মনে হচ্ছে, চিকিৎসকের পথটাই আমার জন্য বেশি উপযোগী।

মেডিকেলে ভর্তিচ্ছুদের বলবো, ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়টা খুব ভালো করে কাজে লাগাও। আর কোনোভাবেই অসুস্থ হওয়া যাবে না। পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে শরীর, স্বাস্থ্য আর মন তিনটার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। শারীরিক মানসিকভাবে সুস্থ থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটাই মুখ্য বিষয়।

মেডিভয়েস: পথশিশুদের চিকিৎসা একেবারেই অবহেলিত, চিকিৎসক হওয়ার পর তাদের পাশাপাশি হতদরিদ্র মানুষের জন্য আপনার ভাবনা থাকবে কি?

সাফওয়ান রহমান: যে কোনো উদ্যোগের জন্য দুটি রূপ থাকে। একটি রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক রূপ আর অন্যটি হলো ব্যক্তি উদ্যোগের। আমরা যদি কেবল রাষ্ট্র বা সমাজের উপর নির্ভর করে বসে থাকি, তাহলে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে যাবে। এজন্য আমাদের স্বতঃপ্রণোদিত উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আমি চিকিৎসক হওয়ার পর পথশিশুদের নিয়ে আমার কাজের গতিধারা গতানুগতিক হবে ব্যাপারটা তাও না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমার চিন্তা আছে এমবিবিএস যাত্রাটা শেষ হলে পথশিশুদের নিয়ে গবেষণাধর্মী কিছু কাজ করবো। বাংলাদেশে পথশিশুদের মধ্যে কোন কোন রোগ বেশি দেখা দেয়, এ নিয়ে কাজ করতে চাই। এর মাধ্যমে জানতে পারবো, রোগাক্রান্ত কত শতাংশ শিশু আমাদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ ধরনের পরিসংখ্যান নিয়ে আমার কাজ করার ইচ্ছা আছে।

মেডিভয়েস: শৈশবের কোনো স্মৃতির কথা শুনতে চাই, যা আপনার স্মৃতিতে আজও ঝলমলে? 

সাফওয়ান রহমান: নিকট অতীতের স্মৃতি আছে। নটরডেম কলেজে পড়ার সময় আমি বাংলাদেশ সরকারের সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ কার্যক্রমের অধীনে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এ কার্যক্রমে প্রতি বছর ১২টি বিষয়ের জন্য ১২ জন সেরা মেধাবী বাছাই করা হয়। আমি তাদের একজন ছিলাম। আকর্ষণীয় বিষয় হলো, তাদেরকে সরকারের তরফ থেকে কোনো একটি দেশে শিক্ষা সফরে নিয়ে যাওয়া হয়। একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে আমি মালয়েশিয়া সফর করেছিলাম। এটি আমার জন্য অনবদ্য অভিজ্ঞতা।

মেডিভয়েস: আমাদের সম্পর্কে আপনার মতামত ও পরামর্শ জানতে চাই।

সাফওয়ান রহমান: আমি নিজে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী। হাসপাতালের আঙ্গিনায় আমার হাঁটাচলা। সুতরাং মেডিকেলের একজন মানুষ হিসেবে যখন অনলাইনে ঢুকি, তখন আমি মেডিভয়েসের কাছে চলে যাই। পেইজটা দেখি, কোনো আপডেট আছে কি না। আপনাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ যে, ঘটে যাওয়া বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঘটনা এখানে তুলে ধরা হয়। কেবলমাত্র স্বাস্থ্য খাত নয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ যে তথ্যের ভান্ডার, সেটি আমরা মেডিভয়েস থেকে পেতে পারি। এজন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমরা আশা করি, মেডিভয়েস প্রকাশের বিভিন্ন মাধ্যমে সব সময় আমাদের পাশে থাকবে।

মেডিভয়েসের জন্য পরামর্শ হলো, আমাদের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সকল ধরনের সংবাদ যাতে আমরা তাড়াতাড়ি পেতে পারি। আর মেডিভয়েসকে আরও বড় পরিসরে দেখতে চাই।

 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত