১৭ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১০:৪৫ এএম

যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ ঝুঁকিতে চা শিল্প শ্রমিকরা

যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ ঝুঁকিতে চা শিল্প শ্রমিকরা

মৌলভীবাজারে যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন চা শিল্প শ্রমিকরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চা বাগান এলাকায় ঘনবসতি ও স্যাঁতসেঁতে ঘরে বসবাস করার জন্য এসব এলাকায় রোগের সংক্রমণ বেশি বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। যক্ষ্মা প্রতিরোধে কর্মরত এনজিও সংস্থা হীড বাংলাদেশ ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে এসব চিত্র পাওয়া গেছে।

শমশেরনগর চা বাগানের র্যালি টিলার নারী শ্রমিক সন্তোষী র্যালী বলেন, অল্প জায়গায় আমাদের ৫টি ঘরে ৮টি পরিবার রয়েছে। আর ৮টি পরিবারে ৩৪ জন সদস্য বসবাস করি। আমরা গরু, ছাগলের সাথে একত্রে বসবাস করি।

শমশেরনগর চা বাগানের ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, চা বাগানে মদের পাট্রায় গিয়ে মদ পান, স্থান সংকুলানের অভাবে গাদাগাদি আর নোংরা পরিবেশ বসবাস ও সচেতনার যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইয়াহিয়া এবং কমলগঞ্জে হীড বাংলাদেশের যক্ষ্মা, কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কুষ্ঠ প্রকল্প ইনচার্জ পরেশ চন্দ্র দেবনাথ ইত্তেফাককে বলেন, বাড়ি ঘরের অবস্থা ও অসচেতনতা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের অভাব, নোংরা পরিবেশ ও কলোনীসমূহে ঘনবসতি বেশি থাকায় চা বাগানগুলোতে যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

তারা চা বাগানের গণ্ডি ও প্রশাসনের বাইরে গিয়ে চিকিত্সা সুবিধা নিতে গড়িমসি করে। ফলে চা শ্রমিকদের মধ্যে রোগব্যাধী অধিকতর বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চা শ্রমিকদের মাঝে রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ২০১২ সালের এপ্রিল মাস থেকে হীড বাংলাদেশ টিবি কেয়ার টু প্রকল্প, সিলেট, মৌলভীবাজর ও হবিগঞ্জ জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৭টি চা বাগানের ৬ লক্ষ ৫০ হাজার জনগোষ্ঠীর মাঝে যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। চা বাগানে হাজারে ১০ জন যক্ষ্মা রোগী আর হাজারে ১৫ জনের মতো কুষ্ঠ রোগী রয়েছে।

তাদের চিকিত্সায় পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নেই। চা বাগানসমূহের হাসপাতাল থেকে তাদের উপজেলা কিংবা জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হচ্ছে। সেখান থেকে মূলত হীড বাংলাদেশের যক্ষ্মা, কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের মাধ্যমেই চিকিত্সা সুবিধা গ্রহণ করতে হচ্ছে। তবে সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও পর্যাপ্ত চিকিত্সা সুবিধা রয়েছে বলে দাবি করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. মো. ইয়াহিয়া।

চা বাগানসহ স্থানীয় চিকিত্সক ও সচেতন মহলের মতে অবহেলিত চা শ্রমিকদের এসব রোগব্যাধী নিয়ন্ত্রণে শুধু এনজিও’ দিয়েই সম্ভব নয়। সরকারি উদ্যোগেও দেশের নাগরিক হিসাবে চা শ্রমিকরা স্বাস্থ্যগত সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারলে এবং শিক্ষা-দীক্ষায় সচেতন হয়ে উঠলে রোগব্যাধী থেকে আরো মুক্ত হওয়া সম্ভব

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি