ঢাকা      শনিবার ১৭, অগাস্ট ২০১৯ - ২, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. বায়জীদ খুরশিদ রিয়াজ

চিকিৎসক ও সরকারী চাকুরিজীবী। 


শহীদ ডা. দিগেন্দ্র চন্দ্র এন্দ

নাম : ডা. দিগেন্দ্র চন্দ্র এন্দ

পিতার নাম : বরদা কিংকর এন্দ

পিতার পেশা : জমিদার (বিএসসি, প্রেসিডেন্সি কলেজ কলকাতা)

মাতার নাম : ত্রিপুরা সুন্দরী এন্দ

ধৰ্ম : সনাতন হিন্দু

স্থায়ী ঠিকানা : মির্জা জাঙ্গাল/ওয়ার্ড নং-১৩, ডাকঘর, উপজেলা-সিলেট সদর, জেলা-সিলেট

জন্ম: ১১ মে ১৯০৫

শিক্ষাগত যোগ্যতা :

ম্যাট্রিক : প্রথম বিভাগ, ১৯২০, শিলচর স্কুল, শিলচর, আসাম, ভারত

আইএসসি : প্রথম বিভাগ, ১৯২২, প্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতা, ভারত

বিএসসি : প্রথম বিভাগ, ১৯২৪, প্রেসিডেন্স কলেজ, কলকাতা, ভারত

এমবি ; স্বর্ণপদকসহ উত্তীর্ণ, ১৯২৮-২৯, কলকাতা মেডিকেল কলেজ, ভারত

শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার : স্বর্ণপদক; কলকাতা মেডিকেল কলেজ, ১৯২৮-২৯

শখ : গান-বাজনা

চাকরির বর্ণনা :

সিলেট মেডিকেল স্কুল : অধ্যাপক, মেডিকেল এথিকস : ১৯৩৮

সিলেট মিউনিসিপ্যালিটি ; মেডিকেল অফিসার

হত্যাকারীর পরিচয় ; পাকিস্তানি সেনাবাহিনী

নিহত হওয়ার তারিখ : ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১

 মরদেহ :

প্রাপ্তি স্হান : নিজ বাসায়

প্রাপ্তি তারিখ : ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১

কবরস্থান : নিজ বাসার ভেতর সমাধিস্থ

স্মৃতিফলক/স্মৃতিসৌধ : নেই

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হিসেবে সাহায্য/দান/পুরস্কার : পাননি

স্ত্রীর নাম : সুনীতি বালা এন্দ

সন্তান-সন্ততি : নয়জন : পুত্র তিনজন, কন্যা ছয়জন

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ নিকটাত্মীয় : শহীদ ডা. দিগেন্দ্র চন্দ্র এন্দের স্ত্রী, এক পুত্র, কন্যা, এক পুত্রবধূ, এক পৌত্র,

এক পৌত্রী এবং এক বেয়াইসহ মোট আটজন-

সুনীতি বালা এন্দ(স্ত্রী)

দিব্যেন্দু এন্দ (জ্যেষ্ঠ পুত্র),

শিখা এন্দ (কন্যা)

শিবানী এন্দ (কন্যা)

অপু এন্দ (পৌত্র) (দিব্যেন্দু এন্দর পুত্র)

পম্পা এন্দ (পৌত্রী) (দিব্যেন্দু এন্দর কন্যা)

খনা এন্দ (পত্রবধূ) (দিব্যেন্দু এন্দর স্ত্রী)

গোপেশ দাস (বেয়াই) (দিব্যেন্দু এন্দর শ্বশুর)

 

আমার ঠাকুর দা  শহীদ ডা. দিগেন্দ্র চন্দ্র এন্দ

প্ৰতীক এন্দ টনি

বরদা কিংকর এন্দর সর্বকনিষ্ঠ পুত্র ডা. দিগেন্দ্র চন্দ্র এন্দ ১৯০৫ সালে আসামের শিলচর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ডা. দিগেন্দ্রর বড়দা হিরেন্দ্র চন্দ্র এন্দ ব্রিটিশ সেনাবাহিনীন সদস্য ছিলেন এবং তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণরত অবস্থায় মিসরে নিহত হয়েছিলেন। ডা. দিগেন্দ্র চন্দ্র এন্দ শিলচর থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন ।

কলকাত প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে আইএসসি এবং বিএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্বর্ণপদক পেয়ে এমবি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সম্ভবত ১৯৩৮-৩৯ সালে সিলেট পৌরসভার মেডিকেল অফিসার এবং সিলেট মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক হিসেবে ডা. দিগেন্দ্র চন্দ্ৰ এন্দের কর্মজীবন শুরু হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অবসর জীবনযাপন করছিলেন। ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাসে ডা. এন্দ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পূর্বমূহুর্তে তিনি সপরিবারে চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন।

ঐদিন সকাল ৯ ঘটিকার দিকে ডা. এন্দ তাঁর পুরে পরিবার এবং বন্ধুবর তাঁর বড় ছেলের শ্বশুর প্রকৌশলী গোপেশ দাসকে নিয়ে রেডিওতে খবর শুনছিলেন। ঐ সময় কোথা থেকে যেন একটি মর্টার শেল নিক্ষিপ্ত হয় ডা. এন্দের বাসায়। ধ্বংসপ্ৰাপ্ত হয় বাসা ।

শেলের প্রচণ্ড আঘাতে সাথে সাথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ডা. দিগেন্দ্র চন্দ্র এন্দ, তাঁর স্ত্রী সুনীতি বালা এন্দ এবং তাঁদের আত্মীয় পাচগাঁওয়ের প্রকৌশলী গোপেশ দাস। কম বেশি আহত হন পরিবারের সব সদস্য। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেলে হাসপাতালে প্ৰাণত্যাগ করেন তিনজন।

এরা হলেন-ডা. দি  চন্দ্র এন্দর জ্যেষ্ঠপুত্র দিব্যেন্দু এন্দ, কন্যা শিখা এন্দ এবং দিব্যেন্দু এন্দের পুত্র অপু এন্দ। শিখা এন্দ সিলেট মহিলা কলেজের স্নাতক শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। তিন দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে প্রাণত্যাগ করেন ডা. দিগেন্দ্রর আরেক কন্যা শিবানী এন্দ এবং দিব্যেন্দু এন্দর সাত মাসের শিশুকন্যা পম্পী এন্দ |

শিবানী এন্দ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। সাতদিন পর ইহলোক ছেড়ে চলে যান দিব্যেন্দু এন্দর স্ত্রী খনা এন্দ। ডা. দিবেন্দ্র এন্দর মেজো ছেলে পার্থ সখা এন্দ গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন; তার বাম হাত চিরদিনের জন্য অকেজো হয়ে যায়; তিনি সাত-আট মাস সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী থাকেন।

১৯৯১ সালে মৃত্যুবরণের পূর্ব পর্যন্তও তিনি স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরে পাননি; তার স্ত্রী গীতা এন্দও আহত হয়েছিলেন। আরো আহত হয়েছিলেন ডা. দিগেন্দ্রর ছোট ছেলে সাথী এন্দ; তার পায়ে জখম হয়েছিল।

অর্থাৎ মর্টার শেলের একই আঘাতে ডা. দিগেন্দ্র চন্দ্র এন্দ, তার স্ত্রী, এক পুত্ৰ, দুই কন্যা, এক পুত্রবধূ, দুই শিশু দৌহিত্র এবং আরো একজন আত্মীয়সহ শহীদ হন। আমাদের এন্দ পরিবার একই সাথে হারালো নয়জনকে ।

সমগ্র পরিবারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্ৰলয়ঙ্করী সে ঝড়ে বেঁচে থাকা স্বজনরা আজও সে দুর্ঘটনা স্মরণে আঁতকে উঠি ।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 




জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর