১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১০:০৩ এএম
চিকিৎসক ইকবাল অপহরণের দুই মাস

‘চেষ্টা’ করেও খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ!

‘চেষ্টা’ করেও খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ!

র‌্যাব ও পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাণপণ ‘চেষ্টা’ করেও তাঁরা অপহৃত চিকিৎসক ইকবাল মাহমুদকে খুঁজে পাচ্ছেন না।

অথচ ১৫ অক্টোবর ইকবাল মাহমুদ যখন ঢাকা সিটি কলেজের সামনে থেকে অপহৃত হন, তখন ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি গাড়ি ছিল।

গতকাল বুধবার ইকবাল মাহমুদের বাবা নূরে আলম বলেন, ‘দুই মাস হলো আমার ছেলের খোঁজ নেই। আমি কার কাছে গেলে ছেলের খোঁজ পাব?

থানা-পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব—কেউ কোনো উত্তর দিচ্ছে না। সিসিটিভি ফুটেজে যে পুলিশের গাড়িটা দেখা গেল, সেটা পর্যন্ত শনাক্ত হলো না।

অথচ সবাই নাকি ছেলেকে খুঁজছে।’

 

১৫ অক্টোবর দিবাগত রাত ৩টার দিকে ২৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ রয়েল কোচে করে লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকায় আসেন।

অপহরণের দিন কয়েক আগে অবেদনবিদ্যায় স্নাতকোত্তর লেখাপড়ার জন্য তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন।

অপহরণের দিনেও তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

রয়েল কোচ থেকে ঢাকা সিটি কলেজের সামনে নামার পরপরই কয়েকজন তাঁকে জোর করে গাড়িতে তোলেন।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে ওই গাড়ির পেছনে একটি পুলিশের গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল দেখা যায়।

এক দিন পর ধানমন্ডি থানায় অভিযোগ করলেও গতকাল পর্যন্ত পুলিশের গাড়িটি কোন থানার, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

নূরে আলম ছেলের খোঁজে ধানমন্ডি থানা, র‌্যাব-২ ও র‌্যাব-৩-এ বারবার যোগাযোগ করেন। কিন্তু ছেলে বেঁচে আছেন কি না, সেই তথ্যও পাননি।

 

গত ১৫ নভেম্বর নূরে আলম আদালতে একটি রিট করেন।

ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, ইকবাল মাহমুদ অপহরণের পরই পুলিশ তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে।

অপহরণের শিকার ওই চিকিৎসকের মুঠোফোনসহ আরও কিছু নম্বর খোঁজা হয়।

চিকিৎসকের বাবা নূরে আলম ও ঘটনাস্থলে থাকা অন্যদের সঙ্গেও কথা হয়।

তারপরও চিকিৎসকের অবস্থান বা অপহরণকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া অপহরণের পর যে বিকাশ নম্বর থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল, সেই নম্বরগুলো ধরেও তদন্ত করা হয়।

কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, যাঁরা টাকা চেয়েছেন, তাঁরা জাতীয় পরিচয়পত্রে নিরীহ লোকজনের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করেছেন।

অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ‘সিরিয়াস ক্রাইম অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন’ বিভাগকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 

বর্তমানে মামলাটি নিয়ে কাজ করছেন গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিদর্শক আরিফুল হক।

গতকাল বুধবার তিনি বলেন, ‘আমরা খুঁজছি, কিন্তু পাচ্ছি না। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার ফুটেজ সিআইডিকে পাঠানো হয়েছে।

আরও ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। এখনো সিআইডি থেকে প্রতিবেদন আসেনি।’

 

ইকবাল মাহমুদের বাবা নূরে আলম ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

জলজ্যান্ত একটা মানুষ, সরকারি কর্মকর্তা এভাবে অপহৃত হবে, তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, এটা কেমন কথা?’

 

সৌজন্যে : প্রথম আলো। 

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি