১২ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০৪:১৪ পিএম

মানুষের শরীরে দৈনিক প্রায় ১শ’ প্রকার ক্যান্সার তৈরী হয়

মানুষের শরীরে দৈনিক প্রায় ১শ’ প্রকার ক্যান্সার তৈরী হয়

এক ক্যান্সার রোগী ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করছে “আমি আর কত দিন বাঁচব” ?

ডাক্তার সান্ত্বনা দিয়ে বললেন – “আরে রহিম সাহেব, আপনার তো তেমন কিছুই হয় নি । আপনি খুব শীঘ্রই পুরা সুস্থ্য হয়ে যাবেন”।

ডাক্তার সাহেব মিথ্যা বলে রোগীকে সান্ত্বনা দিলেন। যদিও মডার্ন মেডিকেল ইথিক্স বলে - রোগীর রোগ ও তার আউটকাম সম্পর্কে সব জানানোর কথা।

কিন্তু এটা রোগীকে শারীরিকের পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙ্গে দিবে। তাই হয়তো আমরা মিথ্যা বলি ।

ডাক্তার সাহেব রোগীর আত্মীয় স্বজনদের ডেকে রোগীর রোগ সম্পর্কে জানিয়ে দেন ।

ক্যান্সার রোগের পরিনতি কেমন খারাপ তা জানিয়ে দেন। তাদের রোগী কতদিন বাঁচতে পারে সেটাও বলে দেন।

 

এই নিষ্ঠুর সত্যিটা মেনে নেয়া কষ্টের হলেও মেনে নিতে হয়। আসুন এবার জেনে নেই – ডাক্তার কিভাবে বলে রোগী আর কত দিন বাঁচবে ?

জীবন মরন যদিও সৃষ্টিকর্তার হাতে। তবুও ডাক্তার রোগীর কিছু ফিজিক্যাল সাইন দেখে এই অনুমান করে থাকেন ।

সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য স্কোরিং সিস্টেম হলো “প্যালিয়েটিভ প্রোগনোস্টিক ইনডেক্স (palliative prognostic index) বা পিপিআই স্কোর .

এই স্কোরিং সিস্টেম দিয়ে যা যা দেখা হয়, তা হলো- "

১। রোগী মুখে খেতে পারে না,

২। রোগীর হাত পায়ে ফোলা (Edema) আছে ,

৩। রেস্ট অবস্থায় শ্বাসকষ্ট হয় এবং

৪। রোগী বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে "।

যদি এই ৪ প্রকারের জিনিসের উত্তর যদি হ্যাঁ হয় – তাহলে ধরে নেয়া হয় রোগী ৩ সপ্তাহ বা ২১ দিনের বেশী বাঁচবে না।

এবং এই স্কোরিং প্রায় ৯০% ভাগ ক্ষেত্রেই সত্যি। পৃথিবীর সব নির্ভরযোগ্য স্টাডি ও জার্নাল রিপোর্ট দ্বারা এটা প্রমাণিত।

পেশেন্টের বাঁচার দিন গুলোর পরিমাপ ডাক্তার সাহেব তিন ক্যাটাগরীর ফ্যাক্টর গুলো বিচার করে থাকেন।

১। টিউমার রিলেটেড বিষয় গুলো যেমন- টিউমারের লোকেশন, টাইপ, টিউমারের সাইজ ও গ্রেড ।

২। পেশেন্ট পার্টিকুলার ফ্যাক্টর গুলো , যেমন- পেশেন্টের বয়স, ফিজিক্যাল সিম্পটম, ভাইটাল অরগান ফাংশন ও এসোসিয়েটেড রোগ গুলো ।

৩ । পারিপার্শ্বিক কন্ডিশনগুলো যেমন- সোশ্যাল সাপোর্ট, ট্রিটমেন্ট সুবিধা, ট্রিটমেন্ট রেসপন্স ইত্যাদি।

এসব জিনিসের যোগ বিয়োগ করে ডাক্তার একটা “UNIQUE ” রেজাল্ট বের করেন approximate Survival estimation করে থাকেন।

যা মোটামুটি নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনস্বীকৃত পদ্ধতি ।

 

আমরা জানি – ক্যান্সার অনিরাময়যোগ্য রোগ । কিন্তু কিছু ক্যান্সার সম্পূর্ন ভাল হয়ে যায়।

আর মরে যাবে বলে চিকিৎসা নিতে হবে না, ভাল মন্দ খাওয়ানোর ফালতু পরামর্শ না শোনাই ভাল।

মানুষের শরীর দৈনিক প্রায় ১০০ প্রকার ক্যান্সার তৈরী হয়।

কিন্তু Immune surveillance system মানুষকে ক্যান্সার থেকে বাঁচিয়ে দেয়।

কিন্তু যেই ক্যান্সার কোষ ফাকি দিতে পারে আমাদের সার্ভিলেন্স সিস্টেমকে, তারাই রূপ নেয় টিউমারে এবং পরে ক্যান্সারে।
 

#শেষ দিন গুলো ভাল কাটুক সব ক্যান্সার রোগী গুলোর। যারা বেঁচেও মৃতপ্রায় ।

যাদের বাঁচা কোনো আশা নয়, শুধু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত গণনা করা মাত্র, আর হতাশা বৃদ্ধি। কারন মারা যাওয়ার আগে হাজার মৃত্যু আকরে রাখে সেই নির্জীব প্রানকে।

আর সাথে সাথে একটি ক্যান্সার রোগীর জীবনের পাশাপাশি একটা পরিবারের মন, ধৈর্য ও অর্থনীতেকে ধ্বংস করে দিয়ে যায় অনেকাংশে ।

সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না