০২ জুলাই, ২০২২ ০২:১৭ পিএম

প্রতি বছর স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত ২২ হাজার, ৬০ ভাগের মৃত্যু বিনা চিকিৎসায়

প্রতি বছর স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত ২২ হাজার, ৬০ ভাগের মৃত্যু বিনা চিকিৎসায়
হারমনি ট্রাস্টের সেক্রেটারি অমিতাব বলেন, ‘শুরুতে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে তা  প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রতি বছর স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত ৬০ ভাগ রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা যায় বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমেদ।

আজ শনিবার (২ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় চাই সামাজিক আন্দোলন’ শীর্ষক এক আলোচনায় সভায় এ তথ্য জানান তিনি।

ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রতি বছর ২২ হাজার এ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। মারা যায় ৭০ ভাগ রোগী। এর মধ্যে ৬০ ভাগ রোগী মারা যায় বিনা চিকিৎসায়।’

দেশে স্তন ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আর দেশের বাইরে কাউকে যেতে হবে না। সরকারিভাবে পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে ২০০৯ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। বিদেশ থেকে আমরা কোনো অংশে কম না। ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য এ পর্যন্ত ৯২ জন মহিলা চিকিৎসককে সার্জারি বিশেষজ্ঞ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।’

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বর্তমানে দেশে স্তন ক্যান্সার অন্যতম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে কারো স্তন ক্যান্সার থাকলে ওই পরিবারের মেয়েরা এই ক্যান্সার ঝুঁকিতে থাকে।

তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ছোট ছোট ডকুমেন্টারি তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মেয়েদের স্কুলের কারিকুলামে যুক্ত করার জন্য আহ্বান জানান তিনি

তিনি আরও বলেন, শুধু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সেবা দিয়ে এই রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। সবাইকে সচেতন করতে পারলেই এই রোগ কমিয়ে আনা সম্ভব।

জন হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের ফ্যাকাল্টি ডা. হালিদা হানুম আক্তার বলেন, ‘স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কার্যক্রম শুরু করা দরকার।’

হারমনি ট্রাস্টের সিইও অমিতাভ ভট্টাচার্য বলেন, শুরুতে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই নিয়মিত মা-বোনদের স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির জন্য সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ক্যান্সার নিয়ে আতঙ্ক না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে আব্দুল হাকিম মজুমদার বলেন, ‘ক্যান্সার নিয়ে আতঙ্ক না হয়ে, ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি। পুরুষের তুলনায় মহিলারা বেশি ক্যান্সার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এজন্য মায়েদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি।’

এ সময় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারাও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে তাদের পরামর্শ তুলে ধরেন এবং প্রতি বছর ১০ অক্টোবর 'স্তন ক্যান্সার দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমেদ। মূল আলোচক হিসেবে ছিলেন জন হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের ফ্যাকাল্টি ডা. হালিদা হানুম আক্তার। প্যানেল আলোচক ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আব্দুল হাকিম মজুমদার, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাসিবসহ প্রমুখ। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত