২৯ জুন, ২০২২ ১১:৩০ এএম

অগ্নিদগ্ধ শিশু বিশেষজ্ঞ অদিতি সরকার আর নেই

অগ্নিদগ্ধ শিশু বিশেষজ্ঞ অদিতি সরকার আর নেই
ডা. অদিতি সরকার

মেডিভয়েস রিপোর্ট: না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. অদিতি সরকার। আজ বুধবার (২৯ জুন) শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

ডা. অদিতি সরকার এমডি ও প্যাডিয়াট্রিক্সে এফসিপিএস করেছেন। দুই সন্তানের জননী অদিতির ছোট সন্তানের বয়স তিন মাস।

গত ২৪ জুন রাজধানীর ওয়ারী থানার হেয়ার স্ট্রিট সড়কের একটি বাসায় অগ্নিদগ্ধ হন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) শিশু বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. অদিতি।

এ প্রসঙ্গে অদিতি সরকারের স্বামী মনেষ মণ্ডল বলেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ও আপসেট ছিলেন। গতকাল দুপুরে কাজ শেষে বাসায় ফিরে একটি কক্ষে যান তিনি। এরপর হঠাৎ চিৎকার শোনা যায়। পাশের কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর শরীরে আগুন জ্বলছে। পানি ঢেলে আগুন নেভানো হয়। এরপর ৯৯৯-এর ফোন করে একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

তবে স্কুল সহপাঠীসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে কলহের জেরে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন ডা. অদিতি। তাঁর শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে অদিতির দীর্ঘদিনের বন্ধু ডা. শান্তা শারমিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ওয়ালে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘অদিতির সাথে আমার শেষ দেখা ৭ জুন, বিসিপিএস এর কনভোকেশনে। আমার স্কুল জীবনের বন্ধু অদিতি। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর, আবেগপ্রবণ, সবসময় হাসিখুশি একটা মেয়ে। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এর ৩১তম ব্যাচের মেধাবী ছাত্রী অদিতি এর মধ্যেই এফসিপিএস এবং এমডি করেছে পেডিয়াট্রিকসে। দুই সন্তানের মা অদিতির ছোট সন্তানটি কেবল তিন মাস বয়সী।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৬০ ব্যাচের এ শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘অদিতি আজ শেখ হাসিনা বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট এ ৬০ শতাংশ বার্ণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। অবস্থা আশংকাজনক। পরিচিতজনেরা বলছে, আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল নাকি সে! তার স্বামী বলেছে ডিপ্রেশনে ভুগছিল। আবার এও বলেছে, স্বামী-স্ত্রীর ভিতরে মন কষাকষি চলছিল। অদিতিকে চিনি, সেই ছোট্টবেলা থেকে। ডিপ্রেশনে থাকার মেয়ে তো অদিতি না।’

‘আপাত দৃষ্টিতে সুখে থাকার সব উপকরণই তার জীবনে ছিল। কিসের এত শূন্যতা ছিল, ওর জীবনে যে নিজেকে এভাবে নিঃশেষ করতে চাইলো ও? তবে কি পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগছিল ও? মনের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন। সঠিক উত্তর একজনই দিতে পারে সে হস্পিটালের আইসিইউতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। আল্লাহ সুবহানাতা'লা ওর কষ্ট লাঘব করে ওকে পূর্ণ সুস্থতা দান করুন আমীন’, যোগ করেন জেনারেল সার্জারিতে এফসিপিএস সম্পন্ন করা এই চিকিৎসক।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে ওই দিনে রাত ওয়ারী থানায় ফোন দেওয়া হলে পরিদর্শক (তদন্ত) জহির উদ্দিন অদিতি সরকারের শ্বশুর-শাশুড়ির বরাত দিয়ে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘দুপুরে পূজা দিতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন অদিতি।’

তবে একই থানার ওসি কবির হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে রাগারাগি করে অদিতি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের কাছে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন। বাসায় জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহারের স্পিরিট ছিল। সেগুলো ঢেলেই তিনি গায়ে আগুন লাগিয়েছেন। এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়নি।’ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : চিকিৎসকের আত্মহত্যা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি