২৭ জুন, ২০২২ ০৩:১০ পিএম

ডা. ইমরানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, খোলা হলো লাইফ সাপোর্ট

ডা. ইমরানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, খোলা হলো লাইফ সাপোর্ট
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শঙ্কামুক্ত হওয়ায় ডা. ইমরান মালিথার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে চিনতে পারছেন তিনি, সাড়া দিচ্ছেন সবার ডাকে।

মো. মনির উদ্দিন: সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ইমরান হোসেন মালিথার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন। আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় তাঁর লাইফ সাপোর্ট খুলে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে চিনতে পারছেন, সাড়া দিচ্ছেন সবার ডাকে।

ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর রেজিস্ট্রার ও ইনচার্জ ডা. ফেরদৌস মাহমুদ আজ সোমবার (২৭ জুন) দুপুরে মেডিভয়েসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ডা. ইমরান হোসেন মালিথার শারীরিক অবস্থার আগের চেয়ে অনেক উন্নতি ঘটেছে। এখানে ভর্তি হওয়ার সময় ১০৪ ডিগ্রি জ্বর ছিল। ওই দিনই অস্ত্রোপচার করতে হয়। ওর গাট রিসেকশন (অন্ত্রের কিছু অংশ কেটে ফেলে দেওয়া) করা হয়। পরবর্তীতে মেকানিক্যাল ভ্যান্টিলেটরে হাইসাপোর্টে ছিল। ব্লাড প্রেসার কমে যায়। এসব সংকট অতিক্রম করে তাঁর শারীরিক অবস্থা সন্তোষজনক উন্নতির দিকে। মাঝে তাঁর ব্লাড প্রেসার অস্বাভাবিক উঠানামা করছিল। কখনো খুব বেশি, আবার কখনো খুব কমে যাচ্ছিল। এখন প্রেসারও স্থিতিশীল। তাঁর যে মেকানিক্যাল ভ্যান্টিলেটর (লাইফ সাপোর্ট) লাগছিল, গত তিন দিন আগে সেটাও খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন হাইফ্লোনেজাল ক্যানোলাতেই চলছে। সেখানে প্রায় ৭০-৮০% অক্সিজেন দিতে হচ্ছিল। এখন ফিফটি লিটার ফ্লোতে তাঁর অক্সিজেন লাগছে ৫০%।’

চিনতে পারছেন সবাইকে, দিচ্ছেন সাড়া

ডা. ফেরদৌস বলেন, ‘শুরুর দিকে জ্ঞানের মাত্রাটা কম ছিল। সে কারণে কোনো কিছুতে সাড়া দিতেন না। গতকাল ও আজকে জ্ঞানের মাত্রায় যথেষ্ট উন্নতি ঘটেছে। সবাইকে চিনতে পারছেন। তাঁর অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে পারছেন। সবার সঙ্গে পুরোপুরিভাবে কথা-বার্তা বলতে পারছেন। যে কারও ডাকে সাড়া দিচ্ছেন।’ 

বর্তমানে তাঁর ভ্যাকম থ্যারাপি চলছে জানিয়ে ডা. ফেরদৌস মাহমুদ বলেন, ‘অন্যান্য জায়গায় ড্রেসিং চলছে। লাইফ সাপোর্টে তাকে শতভাগ অক্সিজেন দিতে হয়। কিন্তু এখন তা হাইফ্লোতে নিয়ে আসা হয়েছে। এর মাত্রা কমিয়ে আনা গেছে।’

পুরোপুরি সুস্থতায় আশাবাদ

তিনি বলেন, ‘আগের তুলনায় ডা. ইমরান হোসেন মালিথার সব কিছুই প্রায় স্বাভাবিক। শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। আমরা আশাবাদী তিনি পুরোপুরি সুস্থ হবেন। তবে সেজন্য আরও কিছু সময় লাগবে। সেজন্য সবার দোয়া চাই।’

পুরোপুরি সুস্থতার জন্য কেমন সময় লাগতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা যাবে। তবে সার্বিক চিকিৎসা আরও ৫-৬ মাস চলমান রাখতে হবে।’

যেভাবে চলছে চিকিৎসা

সূত্রে জানা গেছে, ডা. ইমরান হোসেন মালিথার চিকিৎসার খরচ বহন করছে তাঁর পরিবার। সেই সঙ্গে বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষীরাও সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তাঁর চিকিৎসার খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত খবর নিচ্ছেন ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান।

ফিরে দেখা

গত ৮ জুন সকালে বানেশ্বর বাজার থেকে দুর্গাপুর উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন সিএনজি যোগে দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিজ কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন ডা. ইমরান হোসেন মালিথা। বাছেরের মোড়ের কাছে মাছ বোঝাই নসিমন গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় সিএনজি থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন ডা. ইমরান।

পরে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয়রা। অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এর পর থেকেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে গত ১২ জুন ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন ডা. ইমরান হোসেন। তিনি ছিলেন রামেকের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরের এই কৃতি সন্তান। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : সড়ক দুর্ঘটনা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি