ঢাকা      বুধবার ২১, অগাস্ট ২০১৯ - ৫, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

রম্য

কাঁপা ও কাঁপি

-অ্যাই!

-কি?

-আমি কাঁপতেছি।

বল কি!

-হ্যাঁ।

-হায় হায় তোমার তো অবস্থা টাইট!

-ক্যান?

-কাঁপাকাঁপি তো খুবই খারাপ! কাঁপাকাঁপি কেন হয় জানো?

-কেন?

-সেরেবেলার লেশনে ট্রেমর হয়।

-ট্রেমর কি?

-কাঁপাকাঁপি। আরও কিসে হয় জানো? ডিসটোনিয়াতে হয়। পারকিনসনিজমে হয়। হাইপোগ্লাইসেমিয়াতে হয়। হাইপারথাইরয়েডিজমে হয়।পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথিতেও হতে পারে। অ্যালকোহলিজমেও হতে পারে।

-তাই?

-হুম। তোমার কাঁপাকাঁপিটা কি কমনাকি বেশি?

-খুব বেশি।

-হায় হায়! তোমার তো ট্রেমর না,তোমার তো একেবারে কনভালশন! কনভালশন কিসে হয় জানো?

-কিসে?

-এপিলেপ্সি! মেনিনজাইটিস! এনসেফালাইটিস! ব্রেইন অ্যাবসেস! সেরেব্রাল ম্যালেরিয়া! অ্যাকিউট স্ট্রোক সিনড্রোম! ইনট্রাক্রেনিয়াল স্পেস অকুপায়িং লেশন! হাইপোগ্লাইসেমিয়া! এমনকি প্রেগন্যান্ট হলে এককলামসিয়াতেও হতে পারে...

ওহ নো! এখনি ম্যাগসালফ

-দেয়া লাগবে! আচ্ছা তুমি কি প্রেগন্যান্ট?

-মানে?

-মানে, তুমি কি প্রেগন্যান্ট?

-সালেহ, আমাদের বিয়ে হইছে কয়দিন বলো তো?

-কয়দিন?

-ভুলে গেছ? কয়দিন?

-এই তো, সাতদিন।

-সাতদিনে কেউ প্রেগন্যান্ট হয়?

-ও, তাই তো। প্রেগন্যান্সির সাইন সিম্পটাম আসতে তো কয়েক সপ্তাহ লাগে। অ্যামেনোরিয়া বুঝতে এক মাস, ফ্রিকোয়েন্সি অফ মিকচুরেশন -বুঝতে দুই থেকে তিন মাস, ব্রেস্ট ডিসকমফোর্র্ট বুঝতে দেড় থেকে দুই মাস লাগে। অবস গাইডে আছে। মনে পড়েছে।

-গরু।

-হ্যাঁ ঠিকই বলেছ, তোমার বাঁচার চান্স খুবই সরু। চল এখনই হাসপাতালে যাই!

-গাধা!

-হ্যাঁ, ঠিকই বলেছ। বাঁচা মরার চান্স আধা আধা। এখনই নিয়ে যেতে হবে হাসপাতালে!

-বলদ!

-হ্যাঁ, ঠিকই বলেছ, ডায়াগনোসিসেই গলদ।

-ইশ অবস গাইডটা আরও পাঁচবার পড়লে বেসিকটা ক্লিয়ার হত।

-কুত্তা!

-না না ! জুতা শোকালে এপিলেপ্সি ভালো হয় না। ওটা ভুল ধারণা। এলিলেপ্সির ড্রাগ হল সোডিয়াম ভ্যালপ্রোয়েট, কার্বামাজেপিন, ফেনাইটোয়িন, ল্যামোট্রিগ্রিন এইগুলা।

-উফ তুমি থামবা! আমি মারা যাচ্ছি!

-এজন্যেই তো বললাম চল হাসপাতালে যাই। আমি রেডি হতে গেলাম।

অতঃপর আমার বউ আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে আমার গা থেকে লেপটা টেনে নিজের গায়ের উপর তুলে দিয়ে ঘুমিয়ে গিয়ে নাক ডাকতে শুরু করল। হায় হায়! এত ঠান্ডা কেন!

আমি কাঁপছি! থরথর করে কাঁপছি! মেডিসিন বইয়ের কোথাও তো ট্রেমরের কজের মধ্যে সিভিয়ার কোল্ড লেখা ছিল না!

 

{লেখক: সালেহ তিয়াস, ঢাকা মেডিকেল কলেজ। }

 

(প্রকাশিত :  সংখ্যা : ৪; বর্ষ ২; জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী ২০১৫)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিটোর নিয়ে কিছু কথা উঠেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতালটির…

মানহীন মেডিকেলের প্রাদুর্ভাব বন্ধে মেডিকেলিয় ভূমিকা

মানহীন মেডিকেলের প্রাদুর্ভাব বন্ধে মেডিকেলিয় ভূমিকা

আমরা সবাই জানি এবং প্রতিনিয়ত বলে বেড়াচ্ছি ব্যাঙের ছাতার মতো মানহীন মেডিকেল…

স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা ‘অশনিসংকেত’

স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা ‘অশনিসংকেত’

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সৈন্যের সংখ্যা বিশ্বে তৃতীয়! অথচ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ কোনো…

ভিআইপি রোগী

ভিআইপি রোগী

এমবিবিএস পাস করে কেবল ১৯৮৫ সনের নভেম্বর মাসে ইন-সার্ভিস ট্রেইনিং শুরু করেছি।…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর