১৯ মে, ২০২২ ০৩:২০ পিএম

অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগে চার চিকিৎসক-নার্স গ্রেপ্তার

অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগে চার চিকিৎসক-নার্স গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় হাসপাতালের মালিক, চিকিৎসক, নার্সসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: অস্ত্রোপচারের পর অবহেলায় এক শিশু মৃত্যুর অভিযোগে তিন চিকিৎসক ও একজন নার্সকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মে) ভোররাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মক্কা-মদিনা নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: ডা. এ কে এম নিজামুল ইসলাম, ডা. দেওয়ান মো. আনিছুর রহমান, ডা. মোস্তাকিম বিল্লাহ ওরফে মারুফ ও নার্স মুক্তা ভৌমিক। এ ঘটনায় হাসপাতালের মালিক, চিকিৎসক, নার্সসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল লতিফ বলেন, ‘বুধবার অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে দণ্ডবিধি আইনের ৩০৪ (ক) ধারায় মৃত শিশুটির বাবা আজিম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন।’

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আতিকার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার চর কিশোরগঞ্জে। গত মাসে দোলনা থেকে পড়ে আতিকার ডান ঊরুর হাড় ভেঙে যায়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানোর পরও পা ঠিক না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হয় তাকে। এ সময় আতিকার সঙ্গে তার মা ও নানা ছিলেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পঙ্গু হাসপাতালের সামনে শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি তাঁদের বলেন, মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে মক্কা-মদিনা হাসপাতালে অল্প খরচে ভাঙা পায়ের ভালো চিকিৎসা করা হয়। শাহজাহানের কথামতো আতিকাকে বিকেলেই ওই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকেরা আতিকার মা ও নানাকে বলেন, আতিকার জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হবে। এ জন্য ৩২ হাজার টাকা লাগবে।

অস্ত্রোপচারের পর আতিকাকে হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। কিন্তু সারা রাতেও আতিকার জ্ঞান ফেরেনি। বুধবার ভোররাত চারটার দিকে নার্স মুক্তা ভৌমিক শিশু আতিকার সাড়া না পেয়ে চিকিৎসক মোস্তাকিম বিল্লাহকে ডেকে আনেন। তিনি আতিকার মুখ থেকে অক্সিজেনের নল খুলে ফেলেন। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ওসি আবদুল লতিফ বলেন, গ্রেপ্তার তিন চিকিৎসকসহ চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে মক্কা-মদিনা হাসপাতালের তিন মালিক মো. নুর নবী ও তাঁর দুই ভাই আবুল হোসেন, নাসেরসহ এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি