১৮ মে, ২০২২ ০৬:০৩ পিএম

রংপুরে চিকিৎসকদের সাফল্য, প্রথমবারের মতো এন্ডোস্কপিক ব্রেইন টিউমার অপারেশন

রংপুরে চিকিৎসকদের সাফল্য, প্রথমবারের মতো এন্ডোস্কপিক ব্রেইন টিউমার অপারেশন
রংপুরে প্রথমবারের মতো ছয় সদস্যের চিকিৎসক দলের অক্লান্ত পরিশ্রমে সম্পন্ন হয় এন্ডোস্কপিক ব্রেইন টিউমার অপারেশন।

সাখাওয়াত হোসাইন: রংপুরে প্রথমবারের মতো এন্ডোস্কপিক ব্রেইন টিউমার অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ছয় সদস্যের চিকিৎসক টিম। সোমবার (১৬ মে) রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে এ অপারেশন সম্পন্ন হয়। রাত সাড়ে দশটায় শুরু হওয়া এ অস্ত্রোপচার আলোর মুখ দেখে রাত তিনটার দিকে।

এ অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন রমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. তোফায়েল হোসাইন ভূঁইয়া। অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন, রমেকের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজকুমার রায়, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ডা. মোছা. শামীমা সুলতানা ও হাসপাতালের অ্যানেসথেশিওলজি বিভাগের ডা. হাসি।আরো ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. ইসমে আজম জিকো।

জানতে চাইলে ডা. ইসমে আজম জিকো মেডিভয়েসকে বলেন, ‘রমেকে ৩৫ বছর বয়স্ক এক রোগী আসেন। তার বাড়ি উত্তরবঙ্গেই। তাঁর সমস্যা চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাচ্ছে। তিনি ডান চোখে দেখেন না, বাম চোখে দেখেন, কিন্তু  স্বাভাবিকের চেয়ে কম। পরে রংপুর মেডিকেলের সার্জনরা চৌম্বকীয় অনুরণন প্রতিচ্ছবি (এমআরআই) করে দেখেন চোখের নার্ভের নিচে একটা টিউমার বেড়ে যাচ্ছে, যেখান চোখের নার্ভের জাংশন হয় সেখানে প্রেসার দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, টিউমারটি চোখের নার্ভে চাপ দেওয়ার কারণে রোগীর দৃষ্টিশক্তি কমে যাচ্ছে। টিউমার শনাক্তের পর চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করেন। অপারেশনটি দুইভাবে করা যায়, কেটে অথবা নাক দিয়ে এন্ডোস্কপি দিয়ে।

এর আগে রংপুর মেডিকেলে কেটে অনেক সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে জানিয়ে ডা. ইসমে আজম জিকো বলেন, ‘এবার রমেকের চিকিৎসকরা চিন্তা করলেন, উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নাক দিয়ে এন্ডোস্কপিক করার। এন্ডোস্কপিক করতে যত সুযোগ-সুবিধা ও লজিস্টিক সাপোর্ট লাগে, তার কিয়দংশ আছে। রমেকের নিউরোসার্জনরা চিন্তা করলেন, বাদ বাকিটা যদি ঢাকা থেকে সাপোর্ট দিলে অপারেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। তখন আমাকে ফোন দিয়ে বলা হলো, তোমার ব্যক্তিগত যন্ত্রপাতি আছে, এসব নিয়ে আমাদেরকে অপারেশনটি করার ব্যবস্থা করে দাও, তাহলে এখানে রোগীরও লাভ হলো, একটি নতুন ইতিহাসও সৃষ্টি হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাপারটা আমি খুব আনন্দ সহকারে নিয়েছি, আমার ব্যক্তিগত লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যাই। পরে আমরা সাড়ে দশটার দিকে রোগীকে অ্যানেস্থেশিয়া দেই। কাজ শেষ করতে তিনটা বেজে যায়। সোয়া তিনটার দিকে তাঁর জ্ঞান ফিরে। রোগীর অবস্থা এখন খুবই ভালো। রোগী কথা-বার্তা ও হাঁটা-চলা করতে পারছেন, খেতেও পারছেন। তাঁর অবস্থা উন্নতির দিকে।’

জানতে চাইলে অস্ত্রোপচার দলের অন্যতম সদস্য রমেক হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. শামীমা সুলতানা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এই অপারেশনটি সম্পন্ন করতে পেরে আমরা খুবই খুশি। এমন একটি অপারেশন প্রথম রংপুরে করতে পেরেছি। আমাদের এখানে অনেক যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা রয়েছে। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে সাফল্যের সঙ্গে অপারেশনটি শেষ করতে পেরেছি। এতে আমরা আনন্দিত। সরকার আমাদেরকে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিলে ভবিষ্যতেও এমন অপারেশন আরও করতে চাই।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি