ডা. নুসরাত সুলতানা লিমা

ডা. নুসরাত সুলতানা লিমা

সহযোগী অধ্যাপক (ভাইরোলজি),
পিএইচডি গবেষক (মলিকুলার বায়োলজি),
ইনস্টিটিউট ফর ডেভলপিং সায়েন্স এন্ড হেল্থ ইনিশিয়েটিভস। 


১৮ মে, ২০২২ ০৩:১১ পিএম

মহামারী রূপ নিচ্ছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, জরুরি কঠোর নিয়ন্ত্রণ 

মহামারী রূপ নিচ্ছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, জরুরি কঠোর নিয়ন্ত্রণ 
এর যথেচ্ছ ব্যবহার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তো কমিয়ে দিচ্ছেই, পাশাপাশি সেই পরিবর্তিত ব্যাকটেরিয়া অন্যদের শরীরে ঢুকে একইভাবে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে দিচ্ছে।

অপ্রয়োজনীয়, অতিরিক্ত এবং অনিয়মিত এন্টিবায়োটিক সেবনের কারণে আপনার শরীরে ব্যাকটেরিয়াগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল শিখে ফেলে, এবং তাদের মাধ্যমে সৃষ্ট নতুন ব্যাকটেরিয়াও একই বৈশিষ্টপ্রাপ্ত হয়। এভাবে তারা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তো কমিয়ে দিচ্ছেই, পাশাপাশি সেই পরিবর্তিত ব্যাকটেরিয়া অন্যদের শরীরে ঢুকে একইভাবে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

এভাবে একজনের শরীরে এক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ক্ষমতা লাভ করলে, সেটি অন্যের শরীরেও সংক্রমিত হচ্ছে। ফলে, মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়ছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। আর আমরা ধাবমান হচ্ছি ভয়াবহ পরিণতির দিকে। 

আমাদের দেশে চারভাবে এন্টিবায়োটিক প্রেস্ক্রাইবড হয়, যথা: 

ক. চিকিৎসক দ্বারা যৌক্তিক এন্টিবায়োটিক প্রেস্ক্রিপশন, 
খ. চিকিৎসক দ্বারা অযৌক্তিক এন্টিবায়োটিক প্রেস্ক্রিপশন, 
গ. কোয়াকদের প্রেস্ক্রিপশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে এন্টিবায়োটিক, 
ঘ. রোগী নিজেই দোকান থেকেই কিনে খান।

‘ক’ গ্রুপের অধীনে যেসব রোগী আছেন তারা নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া এন্টিবায়োটিক সেবন করেন না। কিন্তু অন্য তিনটি গ্রুপের মাধ্যমে এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্ট ব্যাক্টেরিয়া সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। ‘ক’ গ্রুপ এক্ষেত্রে বৃথা কষ্ট করছেন। কারণ যারা যৌক্তিকভাবে এন্টিবায়োটিক সেবন করছেন, তারা অযৌক্তিকভাবে এন্টিবায়োটিক সেবনকারীদের মাধ্যমে তৈরি হওয়া রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া দিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন।

ফলে বিচ্ছিন্নভাবে যৌক্তিক এন্টিবায়োটিক সেবন বা প্রেস্ক্রিপশন  করে কোনো লাভ নেই। সুতরাং এটি কঠোরভাবে একযোগে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এক সময় আপনার শরীরে আর কোন এন্টিবায়োটিক কাজ করবে না৷ ছোট কাঁটা ছেড়া বা সামান্য ঠাণ্ডা কাশিতেও মৃত্যুর মুখে পতিত হতে পারেন।

পরিশেষে, আমাদের ঠাণ্ডা জ্বর বেশিরভাগ সময় ভাইরাসজনিত। ৫-৭ দিনে এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। আর এন্টিবায়োটিক শুধুমাত্র ব্যাক্টেরিয়াকে ধ্বংস করার জন্য। তাই দয়া করে শুধু শুধু এন্টিবায়োটিক খাবেন না। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি