০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০৪:৫৯ পিএম
মেডিভয়েস এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

তোমাদের শুধু প্রয়োজন প্রতিভা বিকাশের সুযোগঃ ডেভিডসন সম্পাদক প্রফেসর ব্রায়ান আর ওয়াকার

তোমাদের শুধু প্রয়োজন প্রতিভা বিকাশের সুযোগঃ ডেভিডসন সম্পাদক প্রফেসর ব্রায়ান আর ওয়াকার


গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তে বাংলাদেশ থেকে ঘুরে গেলেন Davidsons Principles and Practice of Medicine বইয়ের অন্যতম সম্পাদক প্রফেসর ব্রায়ান আর ওয়াকার। সেদিন সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের লেকচার গ্যালারিতে তিনি একটি ক্লাসে অংশ নেন।  অসাধারন দক্ষতায় প্রায় দুই ঘণ্টা মোহগ্রস্থ করে রাখেন প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে।

পরবর্তীতে তার সাথে এক সাক্ষাৎকারে মিলিত হয় মেডিভয়েস।  আন্তরিক  ও হৃদ্যতাপূর্ণ আলাপচারিতায় উঠে এসেছে এ দেশের চিকিৎসা  ব্যবস্থা, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের করণীয় ও আরো অনেক কিছু। প্রিয় পাঠকদের জন্য রইল সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- ডা. তুহিন মুশফিক,  ময়ূখ মামুন, মাহমুদ আব্দুল্লাহ। 

 

মেডিভয়েস : স্যার, আপনাকে স্বাগতম। প্রথমেই আপনার সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি...

প্রফেসর ওয়াকার :  আমি একজন স্কটিশ। জন্মগ্রহন করেছি গ্লাসগোতে। সেখানেই স্কুলে পড়েছি আমি তারপর এডিনবরাতে যাই গ্রাজুয়েশন করতে। এটা একটু অস্বাভাবিক যে গ্লাসগোর শিক্ষার্থী হয়ে এডিনবরাতে যাওয়া কারন এই দুই জায়গার মধ্যে একটা প্রতিযোগীতার মানসিকতা আছে। আমি তবু গিয়েছিলাম। এরপর স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করে আবার কিছুদিন গ্লাসগোতে কাজ করি। পরে আবার এডিনবরাতে ফিরে আসি। এখানে আমি এন্ডোক্রাইনোলজির বিখ্যাত প্রফেসর ক্রিস্টোফার এডওয়ার্ডের সাথে কাজ করি। তিনি আমাকে এন্ডোক্রাইনোলজিতে কাজ করতে দারুণভাবে উৎসাহিত করেন ও আমিও শেষ পর্যন্ত এখানেই স্থায়ী হয়ে যাই। অথচ এর আগে আমি ঠিক করিনি যে কোথায় কাজ করব। এখানে আমি অনেক দীর্ঘ একটি সময় গবেষণায় কাটিয়েছি।

 

মেডিভয়েস : স্যার, আপনার গবেষণার ক্ষেত্র কোনটি?

প্রফেসর ওয়াকার : আমি গ্লুকোকর্টিকয়েড এর উপর গবেষণা করছি। এটা আমার একটি ভাল লাগার ক্ষেত্র।

 

মেডিভয়েস : স্যার, আপনি কি এর আগে কখনো বাংলাদেশে এসেছিলেন?

প্রফেসর ওয়াকার : না। আমি এর আগে কখনো বাংলাদেশে আসিনি। তবে এর আগে ২০০৬ সালে ভারতে এসেছিলাম একবার। আজকের ঢাকা মেডিকেল কলেজের অনুষ্ঠানটি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। এত বেশী শিক্ষার্থী ছিল যা আমি কখনই আশা করিনি। এই অনুপ্রেরণার জন্য ডেভিডসনের আরেকটি সংস্করণের জন্য কষ্ট করা যা!

 

মেডিভয়েস : স্যার, আপনার অনুপ্রেরণার উৎস কী?

প্রফেসর ওয়াকার : মানুষের অন্তর্গত সত্তা তো একটি উৎস হিসেবে কাজ করেই এছাড়াও মিলিয়ন পাঠকের কথা মাথায় থাকলে কাজটা করা অনেক সহজ হয়। আর যদি ব্যক্তিগত উৎসের কথা জিজ্ঞেস কর, তাহলে তা আমি তোমাকে বলব কেন (হাসি)! 

 

মেডিভয়েস : স্যার, আপনি আজকে বাংলাদেশে এসে ট্রাফিক জ্যাম দেখেছেন, অনেক দরিদ্র মানুষ দেখেছেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা গুলো দেখেছেন। কী মনে হয়েছে আপনার?

প্রফেসর ওয়াকার : দেখো, আমি বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করেছি। তোমাকে এটা মেনে নিতে হবে। প্রত্যেকটি জায়গারই কিছু ভাল খারাপ দিক আছে। যেমন ধরো, আমাদের স্কটল্যান্ড প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও স্যাঁতস্যাঁতে। যদিও তোমাদের রাস্তা গুলো অনেক ধীর গতির, তাও আমি তা বেশ উপভোগ করেছি। 

 

মেডিভয়েস : স্যার, আপনি কি কখনো কোন বাংলাদেশীর সাথে কাজ করেছেন? কেমন লেগেছে আপনার?

প্রফেসর ওয়াকার : হ্যাঁ। আমার রিসার্চ টিমে একজন সদস্য ছিল বাংলাদেশী। সে এখন মালয়েশিয়ায় আছে। সে দারুন প্রতিভাবান ছিল। আসলে তোমাদের দেশের ভাল দিকগুলোর একটি হচ্ছে তোমাদের মানুষ অনেক। তাই প্রতিভাবান মানুষের সংখ্যাও বেশী। প্রয়োজন হচ্ছে এই প্রতিভাগুলোর বিকাশে সুযোগ তৈরী করা। 

 

মেডিভয়েস : স্যার, বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনার অভিজ্ঞতা?

প্রফেসর ওয়াকার : এবারই যেহেতু আমি প্রথম এসেছি, তাই খুব বেশী কিছু জানি না। তবে একটা ব্যাপারে খুবই অবাক হয়েছি যে, তোমাদের অধিকাংশ প্রফেসরই জেনারেল ফিজিশিয়ান হিসেবে প্রাকটিস করেন। এটা আমাদের দেশে নেই। অবশ্য কোন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিখুঁত নয়। তবে তোমাদের একটা দিক খুবই ভাল যে, এখানে রোগীর সংখ্যা প্রচুর। ইংল্যান্ডে জনসংখ্যা কম। এখানে অনেক ধরণের রোগ আমরা পাই না বললেই চলে। মাঝে মাঝে এসব রোগ সম্পর্কে জানতে আমরা অন্য দেশগুলোতে যাই। যেমন আমাদের কিছু শিক্ষার্থী সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছে। 

 

মেডিভয়েস : স্যার, লন্ডনে আমাদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ কেমন?

প্রফেসর ওয়াকার : দেখ সম্প্রতি আমাদের অভিবাসন আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন এটা বলতে গেলে বেশ কঠিন করে ফেলা হয়েছে। যা অবশ্যই কাম্য নয়। এছাড়া মেডিকেল ট্রেনিংকেও অনেক কঠিন করে ফেলা হয়েছে। তারপরেও আমি বলব না যে - তোমরা এসো না। এই সময়েও আমার এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ১৪ জন অভিবাসী আছে। তার মধ্যে ৩ জন দক্ষিন এশিয়ার অধিবাসী। অবশ্য এখন তোমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের নিজ দেশেই ট্রেনিং করার মানসিকতা বেড়েছে। 

 

মেডিভয়েস : স্যার, মেডিসিনের ক্ষেত্রে ডেভিডসন একটি আশীর্বাদের মত। এখানে খুব অল্প পরিসরে মেডিসিনের সবকিছু অনেক গোছানো ও চিত্র, ছক দিয়ে বোঝানো আছে। যারা উচ্চ শিক্ষা নিতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এটা খুবই সহায়ক কিন্তু সার্জারি কিংবা পেডিয়াট্রিকস এই বিষয় গুলোতে এমন বই কেন আপনারা প্রকাশ করছেন না?

প্রফেসর ওয়াকার : দেখো, আমি মেডিসিনে কাজ করা লোক। এ ক্ষেত্রে এলসেভিয়ার কর্তৃপক্ষ ভাল বলতে পারবে। প্রফেসর গর্টনের লেখা সার্জারির উপর ভাল একটা বই আছে। তারপরেও ইলাস্ট্রেসনের যে কথা বললে এটা আমি তাকে বলব। আর বাস্তবতা হচ্ছে এখন যেই আধুনিক ডেভিডসন তোমরা দেখছ, এটা শুরু হয়েছে মাত্র ১৮তম সংস্করন থেকে। এর আগে এটাও বেশ নিরস ছিল। একটা ব্যাপার ভাল লেগেছে যে; তোমরা আমাকে এই কথাটা বলেছ। এর আগে একথা কেউ বলেনি। আর ডেভিডসনে এই ব্যাপারগুলো যুক্ত করাটা কঠিন।  

ধর, এই কিছুদিন আগে আমরা ভাবছিলাম প্রেগন্যান্সি ও পেডিয়াট্রিক সম্পর্কিত কিছু অধ্যায় যোগ করব। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত নিলাম এগুলো ওদের স্ব স্ব বিভাগের জন্যই তোলা থাক। সবকিছু ডেভিডসনে দিয়ে দেয়া সম্ভব না। অল্প কিছু ছক আমরা যুক্ত করেছি। তবে আমি যেহেতু ডেভিডসনের আধুনিকীকরণের শুরু থেকে ছিলাম, তাই বলতে পারি কাজটা বেশ কঠিন। 

 

মেডিভয়েস : আজকে সকালের ক্লাস কেমন উপভোগ করলেন?

প্রফেসর ওয়াকার : আমি আগেই বলেছি যে, ব্যাপারটা খুব উপভোগ্য ছিল। অনেকেই স্বতঃস্ফুর্তভাবে উত্তর দিচ্ছিল। আমার ধারণা, এ দেশের শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট চটপটে। অন্যদেশের মত লাজুক নয়। তবে একটা ব্যাপার আমার খুব বোকামি হয়েছে যে, সাউন্ড সিস্টেমটা ভাল কাজ করেনি। এটা আমি বুঝতে পারিনি। পেছনের অনেকেই শুনতে পায়নি। ব্যাপারটা আমি বুঝতে পারি ক্লাসের শেষে। তবে ক্লাসের পর আমার সাথে সবার সেলফি তোলার আগ্রহ দেখে আমি দারুন মজা পেয়েছি। 

 

মেডিভয়েস : আপনার পরিবার সম্পর্কে বলুন।
প্রফেসর ওয়াকার : আমার স্ত্রীও একজন ডাক্তার। সে রেডিওলোজিস্ট এবং সে এই এডিনবরাতেই  কাজ করে। আমার দুই ছেলে মেয়ে। একজন ইউনিভার্সিটি অফ এবারডিনে মেডিকেল সাইন্স নিয়ে পড়ছে। আর একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার। সে টাটা স্টিলে চাকুরী করছে। 

 

মেডিভয়েস : স্যার, আপনি আপনার মেয়েকে ডাক্তারী পড়তে বাধ্য করেছিলেন?

প্রফেসর ওয়াকার : অবশ্যই না। সে বলত সে কখনই ডাক্তার হবে না।  একদিন খাবার টেবিলে নিজেই ঘোষনা দিল, সে ডাক্তার হতে চায়। তবে তার বাবা মা দু'জনেই ডাক্তার এ জন্যে নয়। বরং তার ইচ্ছা হয়েছে! তোমরা শুনে অবাক হবে - আমার বাবা, দাদা, ভাই-বোন এবং পরিবারের আরো অনেক সদস্যই ডাক্তার। 

 

মেডিভয়েস : এ দেশে অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তারদেরকে দ্বিতীয় ঈশ্বরের মর্যাদা দেওয়া হয়; যদিও এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। আপনাদের দেশে ব্যাপারটা কেমন?
প্রফেসর ওয়াকার :  তাই!  আমাদের দেশে অতটা সম্মান না দিলেও একজন গুরুত্বপূর্ন নাগরিক হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়। জনসাধারণ যথেষ্টই কৃতজ্ঞতা পোষণ করেন আমাদের প্রতি। 

 

মেডিভয়েস : স্যার, আমাদের দেশে একেকজন ডাক্তারকে অনেক সময়ই প্রচুর রোগী দেখতে হয়। বিশেষ করে সরকারী মেডিকেল কলেজগুলোর বহিঃবিভাগে। মাঝে মাঝে এটা ১০০ এর বেশী। আপনাদের দেশে রোগীর চাপ কেমন থাকে?
প্রফেসর ওয়াকার : আমাদেরও জেনারেল প্রাকটিসনারদের ভালই চাপ থাকে। তারা রোগী প্রতি সর্বোচ্চ ৩-৫ মিনিট সময় ব্যয় করেন। অবশ্য যেসব রোগীদের হাসপাতালে রেফার করতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় আধা ঘন্টা সময় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন তারা। 

 

মেডিভয়েস : ডাক্তার-রোগী সম্পর্কটি আপনারা কিভাবে দেখেন?

প্রফেসর ওয়াকার : রোগীরা যথেষ্টই শ্রদ্ধা করে আমাদের। তবে আমাদের দেশে কর্তৃত্ব নিয়ে কোন কিছু রোগীদের উপর চাপিয়ে দেই না আমরা। তাদের সামনে চিকিৎসার নির্দেশনা গুলো দিয়ে থাকি; তারা নিজেরা নিজেদের ভালোটা পছন্দ করে নেয়। সিদ্ধান্তগুলো বলতে গেলে দুপক্ষ মিলেই নিয়ে থাকে। অবশ্য দেশ ভেদে অবস্থা ভিন্ন হতেই পারে।

তোমাদের যেহেতু অনেক বেশী রোগী নিয়ে কাজ করতে হয়, এক্ষেত্রে তোমাদের এই সুযোগটা কম। তবু ডেভিডসনের প্রথম অধ্যায়ে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যুক্ত করেছি। অবশ্যই আমাদের শেখা উচিৎ একজন রোগীর সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়।

 

মেডিভয়েস : স্যার, বাংলাদেশে কত দিন আছেন? এরপর কোথায় যাওয়ার পরিকল্পনা আপনার?

প্রফেসর ওয়াকার : মাত্র একদিনের জন্য এখানে এসেছি আমি। এরপর আগামীকাল দিল্লি যাব। এই যাত্রায় আমি প্রথমে মুম্বাই এসেছিলাম তারপর ব্যাঙ্গালোর এরপর কলকাতা হয়ে তোমাদের দেশে এসেছি। 
 

মেডিভয়েস : স্যার, আমাদের অনুরোধ আপনি আবার বাংলাদেশে আসবেন। আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এর উন্নয়নে অবদান রাখবেন। তবে আপনাকে একটি দারুন তথ্য জানাতে চাই এ দেশের সরকারী হাসপাতালগুলোতে একজন কপর্দকশূণ্য দরিদ্র রোগীকেও যদি কেউ ফেলে রেখে যায় - সে সঠিক চিকিৎসাটুকুই পায়। যদি তার কোন আত্বীয় স্বজন না-ও থাকে। 

প্রফেসর ওয়াকার : অসাধারণ। আমি ব্যাপারটি জেনে খুবই আনন্দিত হলাম। তোমরা জানো, ইউএসএ-তে একজন রোগী কখনই বিনামূল্যে চিকিৎসা পায় না । সেখানকার উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেকেই চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়। এর তুলনায় তোমরা যথেষ্টই ভাল করছো। এটা নিয়ে তোমরা গর্ব করতে পার। 

 

মেডিভয়েস : স্যার, বাংলাদেশে এসে কোন মজার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন কি? 

প্রফেসর ওয়াকার : হ্যাঁ, একটা ব্যাপারে আমি খুবই অবাক হয়েছি যে, তোমাদের অনেকের কাছেই ডেভিডসনের ফটোকপি করা পাইরেটেড ভার্সন আছে। তবে সবচেয়ে মজা পেয়েছি, যখন সবাই অটোগ্রাফ নিতে আমার কাছে এলো এর মধ্যে সেই ফটোকপি বইগুলোও কেউ কেউ আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে!

এটা এলসেভিয়ার জন্য মন খারাপ করা ব্যাপার। যদিও আমি তাদের মাধ্যমে তোমাদের সাথে দেখা করতে এসেছি। তবু বলছি, এতে আমি মোটেও চিন্তিত নই। আমরা খেয়াল রাখার চেষ্টা করি কি করলে তোমরা ভাল শিখতে পারবে। ব্যবসায়িক ব্যাপারগুলো নিয়ে আমরা ভাবি না। আমি অবশ্য তোমাদের নীলক্ষেতেও কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখেছি। 

 

মেডিভয়েস : স্যার, আপনি তো অনেক বিখ্যাত। চিকিৎসাখাত সংশ্লিষ্ট এ দেশের অনেক শিক্ষার্থী কৌতুহল নিয়ে আপনাকে দেখতে এসেছিল। যারা আপনার সরাসরি শিক্ষার্থী; তারা আপনাদের কিভাবে দেখে?

প্রফেসর ওয়াকার : দেখো, এডিনবরাতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত বইয়ের লেখকেরা আছেন। শিক্ষার্থীরা এসব দেখে অভ্যস্ত। ওদের ভাবটা এমন, “হ্যাঁ বুঝলাম তুমি ডেভিডসনের এডিটর। তো কী হয়েছে?”  হা..হা..হা..

 

মেডিভয়েস : স্যার, আপনার মত একজন কিংবদন্তীর সান্নিধ্য পেয়ে আমরা ধন্য। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের এই সুযোগটুকু দেওয়ার জন্য। আর আমাদের এ পত্রিকায় সম্পর্কে কি কিছু বলবেন?

প্রফেসর ওয়াকার : তোমাদের এই পত্রিকাটা (যদিও আমি পড়তে পারছি না, তবু) আমার খুব ভাল লেগেছে। আমি শুনেছি এর আগে তোমরা ম্যাকলিয়ড ক্লিনিকাল এক্সামিনেশনের লেখক প্রফেসর কলিন রবার্টসনের সাক্ষাৎকারও নিয়েছ। আমি খুবই গৌরববোধ করছি। সাক্ষাৎকারটা ছাপা হওয়ার পর আমাকেও এক কপি ই-মেইল করে দিও। তোমাদের সাথে কথা বলে আমারও অনেক ভাল লাগল। ধন্যবাদ তোমাদেরকেও।

 


(প্রকাশিত : মেডিভয়েস: সংখ্যা : ৪; বর্ষ ২; জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী ২০১৫)

Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স
জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামান্য অর্জন

আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স