০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০২:৫০ পিএম

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে

রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ডেঙ্গুতে এ বছর মারা গেছে ১১ জন। গত বুধবারও রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৪২ জন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ কক্ষের এই হিসাব রাজধানীর ৩৫টি ক্লিনিক ও হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা। তবে সারা দেশের সম্পূর্ণ তথ্য তাদের কাছে নেই।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ কক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে এডিশ মশাবাহী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৮২৩। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ১৬২। এর আগে ২০০৬ সালে ২ হাজার ২০০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ৩৭৫ থেকে ১ হাজার ৭৪৯। 
অর্থাৎ এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

 

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুস্তাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এ বছর বৃষ্টিপাতের রেকর্ড গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি। বর্ষাকাল বেশি দিন স্থায়ী ছিল। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিশ মশা ডিম দেয়।

 

ফলে এ বছর এডিশ মশার প্রজনন বেশি হয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ার এটা অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম শেষ হতে চলেছে, তবে বৃষ্টি হলে শীতকালেও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যেতে পারে।

 

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তাজউদ্দিন আহমেদ। নরসিংদীর বাবুরহাট এলাকার এই বাসিন্দা গত মঙ্গলবার এই হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে জ্বর হইছে। ঢাকায় আইসা আগে অন্য হাসপাতালে চার দিন ভর্তি ছিলাম। ভালো না হওয়ায় এই হাসপাতালে ভর্তি হইছি।’

 

ওই একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এসএসসি পরীক্ষার্থী রাইসা বিনতে বেলায়েত। রাইসাদের বাসা রাজধানীর হাতিরপুলে। সে বলল, ‘আমাদের এলাকায় অনেক মশা। এক সপ্তাহ আগে জ্বর হয়। জ্বরের সঙ্গে পুরো শরীরে রেশ ওঠায় চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা করাতে বলে। এরপর ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

 

’ রাইসার খালা জেসিন ফাহমিদা বলেন, ‘অন্যান্য বছর এলাকায় মশার ওষুধ ছেটাতে দেখতাম। এবার সেভাবে ওষুধ ছেটাতে দেখিনি। অনেকেরই ডেঙ্গু হওয়ার কথা শুনছি।’

 

যদিও ঢাকার নির্বাচিত দুই মেয়রেরই নির্বাচনের আগে কাজের অগ্রাধিকারের তালিকার শীর্ষে ছিল মশা নিধন। দুই সিটি করপোরেশনের জন্য চলতি অর্থবছরে মশা নিধনে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। গত অর্থবছরে এ কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা।

 

দুই সিটি করপোরেশনই বলছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম হিসেবে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, লিফলেট বিতরণ ও পোস্টার লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া দুই করপোরেশনই নিয়মিত মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ছিটিয়ে থাকে।

 

তবে বিভিন্ন এলাকার মানুষ অভিযোগ করেছেন, তাঁদের এলাকায় প্রতিদিন মশা মারার ওষুধ ছেটানো হয় না। দিনের বেলাতেই মশার যন্ত্রণায় তাঁরা অতিষ্ঠ। কয়েল, মশারি, ওষুধ স্প্রে—কোনো কিছুতেই মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং এলাকার বাসিন্দা আসলাম হোসেন বলেন, মাঝেমধ্যে মশার ওষুধ ছেটাতে দেখা যায়। সেটা সপ্তাহে এক দিনও হবে না।

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম এম সালেহ ভূঁইয়া বলেন, মশার ওষুধ ছেটাতে কর্মীরা যান না, সেটা ঠিক নয়।

 

যাঁরা অভিযোগ করেন, তাঁরা হয়তো সারা দিন এলাকায় থাকেন না। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী বলতে পারবেন নিয়মিত ওষুধ দেওয়া হয় কি না। মশক নিধন কার্যক্রমে নজরদারি আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মশক নিধন কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ সালাহউদ্দিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

ঢাকা শহরে হাজারের বেশি ক্লিনিক-হাসপাতাল আছে, সেগুলোয় চিকিৎসা নেওয়া সব ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণকক্ষের হিসাবে নেই। এ ছাড়া সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কত, সেই তথ্যও রোগনিয়ন্ত্রণকক্ষে নেই। তবে রোগনিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা রাজধানীতেই বেশি।

 

এ বিষয়ে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুস্তাক হোসেন বলেন, ঢাকার বাইরের হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর প্রতিবেদন পাঠানোর নিয়ম। তবে বেসরকারি হাসপাতাল তথ্য পাঠায় না। ফলে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না।

সৌজন্যে: প্রথম আলো

আগের নিউজ
পরের নিউজ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত