‘করোনা নিয়ন্ত্রণে জনপ্রতিনিধিদের আরও সম্পৃক্ত করা জরুরি ছিল’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও সম্পৃক্ত করার দরকার ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ।
মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে বাংলাদেশ কোভিড-১৯: প্রথম দুই বছর ও সামনের দিনগুলো শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
করোনার শুরু থেকে পরিকল্পনায় ঘাটতি ছিল জানিয়ে অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্যে ভালো কিছু করতে হলে সঠিক ব্যবস্থাপনা জরুরি। এতো বড় মহামারি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও সম্পৃক্ত করার দরকার ছিল। করোনা রোগীর কথা শুনলেই বাড়িতে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। এটি মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাওয়ার কারণে হয়েছে। এর দায় আমাদের। এটাকে এক ধরনের ফ্লুয়েঞ্জা বলে ধরে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
করোনা আক্রান্তরা সমাজ থেকে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি জেলায় ৩০ লাখ মানুষের বসবাস হলেও এপিডেমিওলজি নেই। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের না দিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের হাতে দেওয়া হয়েছে। ফলে কোভিড আক্রান্তরা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। জেলা প্রশাসকদের সকল কাজের কাজী বানাতে গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ছিল না। ফলে পরিকল্পনা হয়েছে এক, মাঠ পর্যায়ে বাস্তবে হয়েছে আরেক। হাসপাতালগুলোতে ইনফেকশন প্রতিরোধী ব্যবস্থা ছিল না। ফলে ডেল্টার সময়ে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। এ জন্য জনস্বাস্থ্যে আমাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক ত্রুটি ছিল। তবে করোনা নিয়ন্ত্রণে টিকাদানে সরকার সফল হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার আলোকে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, করোনার তাণ্ডবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী কোনো উপায় না দেখে আকাশের পানে চেয়েছিলেন, সেখানে আমাদের সরকার প্রধান প্রতিদিনই মাস্ক পড়তে বলেছিলেন। এক কোটি মানুষকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের আহ্বায়ক ড. আহমেদ মুশতাক রাজা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্যখাতে মনোযোগ অনেক কম। তাই প্রতি বছর বাজেটে এর বরাদ্দ অনেক কম দেখা যায়। আমাদের সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে মনোযোগী হওয়া উচিত।’
সরকারের রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ড. মোশতাক হোসেন বলেন, দেশের মানুষ সবকিছু মানেন, কিন্তু পালন করতে পারেন না। যেটা আমরা করোনায় সরকার ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের দিকে তাকালেই দেখতে পাই।
প্রাতিষ্ঠানিক হেলথ কাভারেজ সংকটের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রধান সংকট প্রাতিষ্ঠানিক হেলথ কাভারেজ নেই। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও ঠিকভাবে সম্পৃক্ত করা যায়নি। ফলে করোনায় এক কোটি মানুষকে খাদ্য বিতরণকালে অনিয়মের খবর এসেছে। কী পরিমাণে হয়েছে সেটি বের করা দরকার। এ সময় তিনি আরও বলেন, যে দেশের হেলথ কাভারেজ যত ভাল, তারা ততটাই উন্নত। গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও শহরাঞ্চলে নেই। ফলে গ্রামে সংক্রমণ কম ছড়ালেও শহরে বেশি ছড়িয়েছে।